সম্পাদকীয় বন্ধু থাকা ভালো, কারণ প্রয়োজনের সময় বন্ধুরাই এগিয়ে আসে। - ফ্লেচার

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু সহিংসতা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-০৬-২০১৯ ইং ০১:৩০:০৭ | সংবাদটি ১২৬ বার পঠিত

সহপাঠীদের কাছে সহিংসতার শিকার হচ্ছে বিশ্বের অর্ধেক শিক্ষার্থী। ইউনিসেফ এর মতে বিশ্বের অর্ধেক কিশোর কিশোরী বিদ্যালয়ে এবং এর আশেপাশে সহপাঠী বা সঙ্গীদের কাছে সহিংসতার শিকার হয়। সম্প্রতি ইউনিসেফ এর এক প্রতিবেদনে জানা যায় বিশ্বের ১৫ কোটি শিশুর শিক্ষাগ্রহণ বিঘিœত হয় শারীরিক নির্যাতন ও কটুক্তি বা গালাগালের কারণে। এদের বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছর। এই ধরণের আচরণ আসলে বিশ্বজুড়ে অল্প বয়সীদের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি অন্ধকার দিক। এই পরিস্থিতি ধনী ও দরিদ্র সব দেশেই শিশুদের শিক্ষাগ্রহণ ও ভালোভাবে বেড়ে ওঠায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে ইউনিসেফ এর প্রতিবেদনে জানানো হয়। অন্যদিকে প্রায় ৭২ কোটি স্কুল বয়সী শিশু এমন দেশে বসবাস করে, যেখানে শারীরিক শাস্তি এখনও পুরোপুরি নিষিদ্ধ হয়নি। খবরটি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়।
সারা বিশ্বে শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায় হচ্ছে সহিংসতা। উন্নত-অনুন্নত সব দেশেই এই সমস্যা বিরাজমান। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শিশুরা নানাভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছে। ইউনিসেফ বলেছে, শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ার চাবিকাঠি হচ্ছে শিক্ষা। অথচ বিশ্বের লাখো শিশুর জন্য বিদ্যালয় এখনও নিরাপদ স্থান নয়। প্রতি দিন শিশুরা শারীরিকভাবে হেনস্থার শিকার হচ্ছে। কটুক্তি বা গালমন্দের শিকার হয়ে তারা হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছে। এছাড়া, তারা সামনাসামনি এবং অনলাইনে যৌন হয়রানী ও সশস্ত্র সংঘাতের মতো বিপদের মুখোমুখি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি স্বল্প মেয়াদে তাদের শিক্ষাগ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আর দীর্ঘ মেয়াদে তাদের মধ্যে বিষণœতা ও উদ্বেগ তৈরী করে। এমন কি তাদের আত্মহত্যার দিকেও ধাবিত করতে পারে। আর সহিংসতা আসলে চিরদিন মনে রাখার মতো একটি বিষয়। যা কোন শিশুরই শেখার দরকার নেই। প্রতিবেদনে বলা হয় বিশ্বে ১৩ থেকে ১৫ বছরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতি তিন জনের একজন সামান্য বেশী কটুক্তি বা গালমন্দ এবং একই হারে শারীরিকভাবে হেনস্থার শিকার হয়। শিল্পোন্নত ৩৯টি দেশে প্রতি দশ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে তিন জন স্বীকার করে যে, তারা সহপাঠীদের কাছে কটুক্তি বা গালমন্দের শিকার হয়েছে।
শিশু-সহিংসতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থা, বলা যায় আরও করুণ। এখানে প্রতিনিয়ত শিশুরা নানাভাবে সহিংসতা-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ঘরে-বাইরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুরা নির্যাতিত হচ্ছে নিপীড়িত হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে প্রহার আইনত নিষিদ্ধ। কিন্তু এই আইন মানছে না অনেকেই। এখনও বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থী প্রহারের ঘটনা ঘটছে। প্রহারে শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে। তাছাড়া মানসিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে অহরহ। ইউনিসেফ এর প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে বাংলাদেশে ১৩ থেকে ১৫ বছরের শিক্ষার্থীদের ৩৫ শতাংশ মাসে এক বা একাধিকবার কটুক্তির শিকার হয় এবং বছরে একবার শারীরিকভাবে হেনস্থার শিকার হয়। সময়ের সঙ্গে সমাজ সভ্যতার প্রভূত অগ্রগতি হচ্ছে। এই অভিযাত্রায় আমরা যদি শরীক হতে চাই, তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সর্বত্র শিশু-সহিংসতার অসভ্যতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT