উপ সম্পাদকীয়

ভুলে যাও দোস্ত-দুশমন

ঝরনা বেগম প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-০৬-২০১৯ ইং ০১:৩২:১১ | সংবাদটি ১৪৬ বার পঠিত

ধৈর্য ও সংযমের মাস রমজানের প্রায় শেষ প্রান্তে এসে গেছি আমরা মুসলমানরা। আমাদের বাস্তব জীবনের প্রতিটি পদে ধৈর্যের প্রয়োজন। আর এ জন্য মহান আল্লাহপাক রমজানকে ধৈর্যের একটি বিজ্ঞানসম্মত কর্মসূচি হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহতায়ালা মহিমান্বিত মাস রমজানকে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যে সাজিয়েছেন। এবং এইসব বৈশিষ্ট্যের উদ্দেশ্য হলো-তাকওয়া অর্জন এবং গুনাহ মাফ। আর রমজান শেষে আসে খুশির ঈদ। এই ঈদকে আমরা আনন্দের সাথে পালন করি। ঈদের আগের রাত অর্থাৎ চাঁদ রাতে চাঁদ দেখার সাথে সাথে আমাদের বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ প্রায় সকল বেসরকারি টিভি চ্যানেলে বাংলার জাগরণের কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর কালজয়ী ঈদের গানটি বাজানো হয় অথবা শিল্পীরা দলগতভাবে গানটি গাইতে থাকেন-
ও মন রমজানেরও রোজার শেষে/ এলো খুশির ঈদ/ তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানি তাগিদ/ তুই পড়বি ঈদের নামাজ রে মন সে-ই সে ঈদগাহে/ যে ময়দানে সব গাজী-মুসলিম/হয়েছেন শহীদ/ আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমন/ হাত মিলাও হাতে/ দে যাকাত মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙ্গাইতে নিদ/ ও মন রমজানের ও -----।
ঈদের দিন দুপুরে সরকারি গণভবনে আমাদের দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সর্বস্তরের জনগণের সাথে যখন ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তখন নিশ্চয়ই একেবারে শেষ অন্তরাটুকু বাজানো হবে-আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমন/ হাত মিলাও হাতে----এভাবে গানটির সুরে ও তালে মোহাবিষ্ট হয়ে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও একদম হাই সোসাইটির কিছু মানুষের সাথে তো হাত মেলাবেনই, এমন কি এ দিন ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ খেতাব পাওয়া দেশনেত্রী, আমাদের নন্দিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গরিব-দুঃখী কিছু মানুষের সাথেও হাত মেলাবেন। অথচ, এই সময় কারা জীবনের জীবন উপভোগকারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালে অথবা বিশেষ কারাগারে বসে বিষণœ সময় কাটাবেন। তাঁর কাছে সবকিছু হয়তো ফ্যাকাসে মনে হবে। সেমাই-পোলাও, কিছুই খেতে হয়তো তাঁর ভালো লাগবে না, হয়তো বিরস-বদনে তিনি জানালায় দাঁড়িয়ে দেখবেন নীল আকাশ। আর মেঘের খেলা! মনে মনে হয়তো বলবেন-মেঘেরা দলবেঁধে যায় কোন দেশে?/ ও আকাশ বল আমারে/ তাঁরা কেউ চলে যায় ওড়না গায়ে/ কেউ সাদা কেউ নীল বেশে/ ও আকাশ বল আমারে----?
গত ২৫ মার্চ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ)-তে ভর্তি করা হয়। বেগম জিয়া আর্থাইটিস ও ডায়বেটিসের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগব্যাধিতে ভুগছেন। বর্তমানে তাঁকে হাসপাতালের ৬২১ নম্বর কেবিনে ভর্তি করা হয়েছে। বিএসএমএমইউতে ভর্তির পর গত ২৮ মার্চ বেগম খালেদা জিয়ার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। এই মেডিকেল বোর্ডের প্রধান হলেন ডা. জিলন মিঞা। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন-ডা. সৈয়দ আতিকুল হক, ডা. তানজিমা পারভীন, ডা. বদরুন্নেসা আহমেদ, ডা. চৌধুরী ইকবাল মাহমুদ। এছাড়া ডা. শামীম আহমেদ ও ডা. মামুন মেডিকেল বোর্ডকে সহযোগিতা করছেন।
দুর্নীতির ২ মামলায় দন্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি রয়েছেন। পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁকে রাখা হয়। অবশ্য পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে বিএনপি এবং তাঁর পরিবারের আবেদনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে আনা হয়।
যা হোক, আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর সাপোর্টার। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনেক কাজের আমি প্রশংসা করি। কিন্তু ঈদের দিনে অন্তত কিছু দিনের জন্য যদি বর্তমান সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তির ব্যবস্থা করে দিয়ে আনন্দের ঈদ খুশি মনে উপভোগ করার সুযোগ করে দিতেন, তাহলে সরকারের পপুলারিটি আরও বৃদ্ধি পেতো বলে আমি মনে করি। কারণ, বেগম খালেদা জিয়া একজন অল্ড উইম্যান (বৃদ্ধ মহিলা), তাঁর শরীরে নানা সমস্যা, মনটাও হয়তো বিষণœ। ঈদের দিনে তাঁর মনটা আরও মলিন হয়ে পড়বে যদি কারাগারে অথবা হাসপাতালে ঈদ উদযাপন করেন। আইন সকলের জন্য সমান। অপরাধী শাস্তি পাক, এটা আমরা সবাই চাই। আবার আমরা এটাও চাই, কোনো নিরপরাধী যেন শাস্তি না পায়। বিচারে মহামান্য আদালত বেগম খালেদা জিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা (শাস্তি) দিতে পারেন। আবার, নির্দোষ হিসেবে খালাসও প্রদান করতে পারেন। এটা সম্পূর্ণ মহামান্য আদালতের এখতিয়ার। তবে দেশের সাধারণ জনগণ মনে করেন, বর্তমান সরকার চাইলে বেগম জিয়াকে প্যারোলে মুক্তির ব্যবস্থা করে দিয়ে অন্তত ঈদ আনন্দ উপভোগ করার ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। আর তারুণ্যের প্রতিনিধি হিসেবে আমিও চাই বেগম খালেদা জিয়া যেন মুক্তভাবে ঈদের আনন্দটা উপভোগ করতে পারেন। বিচারে তাঁর যা হবার হবে। এ দেশে অনেক খুনের আসামীও তো ঈদের দিনে প্যারোলে মুক্তি পায়। এ রকম বহু নজির আছে আমাদের আইনের বিধানে। তাহলে দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে ঈদের দিনে কেন প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হবে না? সম্প্রীতির ঈদে গণভবনে সর্বস্তরের জনগণের সাথে ঈদের বিখ্যাত গানের তালে তালে হাসি মুখে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন হাত মিলিয়ে ক্ষীণ কন্ঠে গাইবেন-
আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমন হাত মিলাও হাতে---
তো, এমন দিনে বেগম জিয়া কেন বিষণœ মনে থাকবেন? দোস্ত-দুশমন ভুলে গিয়ে ঈদের দিনে বেগম জিয়াকে কেবল একটি দিনের জন্য মুক্তি দেওয়া যায় না? তাহলে কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর অমর ঈদের গানের বাণীগুলো আরও সার্থক হয়ে যেতে পারতো। আমরা দোস্ত-দুশমন সবে মিলে খুশি মনে গাইতে পারতাম- ও মন রমজানেরও রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ!/ আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমন হাত মিলাও হাতে/ দে যাকাত মুর্দা-মুসলিমের আজ ভাঙ্গাইতে নিদ/ ও মন রমজানেরও রোজার শেষে -----
খুশির ঈদ তো দোস্ত-দুশমন, ধনি-গরিব-এর মধ্যে হাতে হাত মিলাবার ম্যাসেজ (বার্তা) নিয়ে আসে। আসে না? তো, এমন বৈষম্য রেখে আমরা কিভাবে ঈদের দিনে গাইবো-
তুই পড়বি ঈদের নামাজ রে মন/ সে-ই সে ঈদগাহে/ যে ময়দানে সব গাজী মুসলিম/ হয়েছেন শহীদ/ ও মন রমজানেরও---/ আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমন/ হাত মিলাও হাতে/ দে যাকাত মুর্দা-মুসলিমের আজ ভাঙ্গাইতে নিদ/ ও মন রমজানেরও রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ! ও মন রমজানেরও রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ! ও মন রমজানেরও রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ!
আসছে খুশির এ ঈদে (?) প্রশ্নবোধক চিহ্ন রইলো সকলের কাছে। এই দিনে দোস্ত-দুশমনে কেন আমরা হাত মিলাতে পারি না? এ কেমন রাজনীতি? এ কেমন সম্প্রীতি?
লেখক : আইনজীবী, কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • প্রানের শহর সিলেট
  • সম্পত্তিতে হিন্দু নারীর অধিকার
  • আশঙ্কার মধ্যে মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ
  • ভিমরুলের চাকে অমিতের খোঁচা
  • মানবপাচার, অর্থপাচার সমাচার
  • আত্মনির্ভরতা
  • খাদ্যে ভেজাল : দরকার কঠোর পদক্ষেপ
  • নগরীর জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গ
  • এম.সি কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ চাই
  • টেকনিক্যাল রোডে স্টিলের রেলিংসহ ফুটপাত চাই
  • জৈনপুর এলাকায় ড্রেন সংস্কার হোক
  • বানরের উৎপাত প্রসঙ্গ
  • শাবিতে বিবিএ অনুষদের আসন বৃদ্ধি হোক
  • প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র : স্বপ্ন ও বাস্তবতা
  • সাক্ষরতা আন্দোলন : একটি পর্যালোচনা
  • অশান্ত বিশ্বে শান্তির সন্ধান
  • আমার পাহাড়, আমার সিলেট
  • যৌবন ফিরে পাক বিবিয়ানা নদী
  • সড়ক দুর্ঘটনা : এ শোকের শেষ কোথায়?
  • সামাজিক ব্যাধি
  • Developed by: Sparkle IT