উপ সম্পাদকীয় খোলা জানালা

গ্রামোন্নয়ন

রঞ্জিত কুমার দে প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-০৬-২০১৯ ইং ০১:৩৫:৫৫ | সংবাদটি ১০৩ বার পঠিত

আমাদের বাংলাদেশ গ্রামবহুল। এখানকার অধিবাসীদের শতকরা পঁচাশি জন পল্লীতেই বসবাস করে। গ্রামকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে এদেশের মানুষের সভ্যতা ও সংস্কৃতি। এ জন্য আমাদের গ্রামোন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেওয়া বিশেষ প্রয়োজন।
একদা কবির কন্ঠে কন্ঠে ধ্বনিত হত ছায়া ঢাকা, পাখি ডাকা বাংলাদেশের গ্রামের কথা। একদিন গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু ও পুকুর ভরা মাছ ইত্যাদি অফুরন্ত সম্পদে এদেশের পল্লী ছিল ভরপুর। তবে আশার কথা এই যে, বর্তমানে পূর্বাপেক্ষা গ্রামোন্নয়নের দিকে সরকার, সমাজ অনুরাগী ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন এনজিও এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবর্গ এগিয়ে আসতে শুরু করেছেন। সরকারি উন্নয়ন প্রচেষ্টায় এখন যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য রাস্তাঘাট, পুল, ব্রীজ, কালভার্ট ইত্যাদি নির্মিত হচ্ছে। শিক্ষার উন্নয়নের জন্য নানা ধরণের প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বহু পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। এনজিও’র সহায়তায় অতি অল্প খরচে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সিমেন্ট নির্মিত চাক বসিয়ে পায়খানা তৈরির কাজ চলছে।
শিশু-কিশোরদের শিক্ষার পথ সুগম করার জন্য প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিরন্ন শিশুরা যাতে বিদ্যালয় ত্যাগ না করে সেজন্য খাদ্য কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। নারী শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করার জন্য স্কুল পর্যায়ে মেয়েদের জন্য প্রতি মাসে উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পশু পালন, মৎস্য চাষ, দুগ্ধ খামার স্থাপন, হাঁস-মুরগী পালন ইত্যাদি কাজে সহায়তা দানের জন্য কৃষি ব্যাংক সহ অন্যান্য সিডিউল ব্যাংক ঋণদান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। অনেকে ইতিমধ্যে এ সকল সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি উৎপাদনে এগিয়ে এসেছে। সম্প্রতি গ্রামীণ ব্যাংক গ্রামীণ দুঃস্থ মহিলাদের মধ্যে স্বল্প পরিমাণ ঋণ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে নিরন্ন দুঃস্থ মহিলাদের কাজের সংস্থান করে দিয়ে তাদের বাঁচার পথ দেখিয়ে দিচ্ছে। এভাবে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতির সঞ্চার হচ্ছে। গ্রামীণ মানুষের জীবন যাত্রার মান পূর্বাপেক্ষা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এটা সত্য যে, দেশের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সংস্কার করে উন্নয়নের কাজে এগিয়ে এলে গ্রামীণ মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন দ্রুততর ও আরও সহজ হবে।
গ্রামের উন্নতি ব্যতীত দেশের উন্নতি সম্ভবপর নয়। গ্রাম ব্যতীত কেবল শহরের উপর নির্ভর করে আমাদের বাঁচার উপায় নেই। শুধু শহরের উপর নির্ভর করে গোটা জাতি চলতে পারেনা। তাই গ্রামকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। আত্মনির্ভরশীল হতে যে সব উপকরণের প্রয়োজন, সেগুলো এখানে আছে। অভাব হচ্ছে কেবল সময়োপযোগী কর্মপ্রেরণা, শিক্ষা ও আদর্শের। দেশের অন্য সমস্যার সমাধান মুদ্রাস্ফীতি রোধ করতে হলে গ্রাম বাংলার দিকে নজর দিতে হবে। বয়স্কদের শিক্ষার জন্য আরও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাদের জন্য অধিক পরিমাণে বয়স্ক শিক্ষালয় ও নৈশ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কৃষির উন্নতি বিধান করতে হবে, ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করা ছাড়া উপায় নেই। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে হবে। শুধু প্রকৃতির দয়ার উপর নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না। পানি সেচের ব্যবস্থা এবং অতি বৃষ্টির সময় পানি নিকাশের ব্যবস্থা করতে হবে। অপেক্ষাকৃত অনুর্বর জমিতে দিতে হবে। কীটনাশক ওষুধপত্র শস্য ক্ষেত্রে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়ে ফসল রক্ষা করতে হবে। অবশ্য ইতিমধ্যে পানি সেচের সাহায্যে শুকনো মৌসুমে ইরি, বোরো ও গম চাষের মাধ্যমে অধিক ফসল উৎপাদনের ব্যবস্থা হয়েছে।
গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য উপযুক্ত চিকিৎসালয় ও ডাক্তারখানা স্থাপন করতে হবে। নানাবিধ ব্যাধির প্রকোপে পড়ে গ্রামবাসীরা আজ বিনা চিকিৎসায় কষ্ট পাচ্ছে। তাদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এঁদোপুকুর, পচা ডোবা-নালার সংস্কার, ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করতে হবে। স্থানে স্থানে নলকূপ বসিয়ে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে হবে। হাজা মজা পুকুর ও দিঘীগুলো সংস্কার করতে হবে। গ্রামের আর্থিক উন্নয়নের জন্য কুটির শিল্পের উন্নতি বিধান করা দরকার। পাশ্চাত্য দেশ সমূহের যন্ত্র শিল্পের প্রতিযোগিতার সাথে আমাদের কুটির শিল্পের অবনতি ঘটছে, বহু লোক বেকার হয়ে পড়েছে। কুটির শিল্পের অধিক প্রচলন হলে বেকার সমস্যার অনেকটা সমাধান হবে। রেডিও, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র প্রভৃতির সাহায্যে বহির্জগতের সাথে আমাদের গ্রামের যোগসাধন করতে হবে। মেলার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শিল্প ও অন্যান্য উৎপন্ন দ্রব্যের প্রদর্শনী খুলে ঐগুলো প্রচার করতে হবে। নানা রকম শিক্ষামূলক বিষয়ের প্রদর্শনী দ্বারাও জনগণের জ্ঞান বৃদ্ধি করতে হবে।
গ্রামই যখন আমাদের দেশের প্রাণকেন্দ্র তখন সরকার ও জনগণের সক্রিয় প্রচেষ্টায় তার উন্নয়ন সাধন করা একান্ত দরকার।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • প্রানের শহর সিলেট
  • সম্পত্তিতে হিন্দু নারীর অধিকার
  • আশঙ্কার মধ্যে মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ
  • ভিমরুলের চাকে অমিতের খোঁচা
  • মানবপাচার, অর্থপাচার সমাচার
  • আত্মনির্ভরতা
  • খাদ্যে ভেজাল : দরকার কঠোর পদক্ষেপ
  • নগরীর জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গ
  • এম.সি কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ চাই
  • টেকনিক্যাল রোডে স্টিলের রেলিংসহ ফুটপাত চাই
  • জৈনপুর এলাকায় ড্রেন সংস্কার হোক
  • বানরের উৎপাত প্রসঙ্গ
  • শাবিতে বিবিএ অনুষদের আসন বৃদ্ধি হোক
  • প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র : স্বপ্ন ও বাস্তবতা
  • সাক্ষরতা আন্দোলন : একটি পর্যালোচনা
  • অশান্ত বিশ্বে শান্তির সন্ধান
  • আমার পাহাড়, আমার সিলেট
  • যৌবন ফিরে পাক বিবিয়ানা নদী
  • সড়ক দুর্ঘটনা : এ শোকের শেষ কোথায়?
  • সামাজিক ব্যাধি
  • Developed by: Sparkle IT