সম্পাদকীয়

সাম্যের বাণী পৌঁছে যাক সবার ঘরে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-০৬-২০১৯ ইং ০১:৩৬:৫০ | সংবাদটি ৬০ বার পঠিত


মুসলমানদের সবচেয়ে বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর সমাগত। অসহ্য গরম আর আকাশ ছোঁয়া দ্রব্যমূল্যের উত্তাপ ছাপিয়ে মুসলমানদের দ্বারে এসেছে ঈদুল ফিতর। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে মুসলমানদের জন্য একটি পুরস্কার হিসেবেই আসে ঈদুল ফিতর। এই ঈদ এসেছে কোটি কোটি মানুষের নির্মল অন্তরে অনাবিল আনন্দের সুসংবাদ নিয়ে। এক মাসের সিয়াম সাধনার প্রশিক্ষণ শেষে আল্লাহতায়ালার ভালোবাসা লাভের আনন্দই হচ্ছে ঈদুল ফিতর। এই আনন্দে শরীক হন ধনী-নির্ধন, ছোট-বড় সকলেই একসঙ্গে। আল্লাহ বলেন- ‘হে ফেরেশতাগণ, আমার বান্দা তার প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আজ ঈদের ময়দানে ছুটে চলেছে। তাই আমার ইজ্জতের কসম করে বলছি তোমরা জেনে রাখো, আমি নিশ্চয়ই তাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং পাপকে পুণ্যে রূপান্তর করে দিলাম।’ আল্লাহর তরফ থেকে মুক্তির এই ঘোষণা নিশ্চয়ই একজন মুসলমানের জন্য অপরিসীম আনন্দের বিষয়।
মুসলমানদের জন্য বছরে দু’টি ধর্মীয় উৎসব নির্ধারিত রয়েছে। এর একটি ঈদুল ফিতর এবং অপরটি ঈদুল আজহা। ঈদুল আজহা কুরবানীর ঈদ। মুসলমানরা এই দিনে সাধ্যমতো পশু কুরবানী দেন। আর ঈদুল ফিতর হচ্ছে রমজানের এক মাস সিয়াম সাধনার পুরস্কার স্বরূপ। রমজান মাসে আত্মসংযম, আত্মশুদ্ধির, সৎচরিত্র এবং পুণ্যময় জীবন গঠনের শিক্ষা গ্রহণ শেষে রোজাদাররা উদগ্রীব হয়ে থাকেন ঈদুল ফিতরের জন্য। ঈদ অর্থ আনন্দ ও উৎসব। তবে শুধু আনন্দ উৎসবে মেতে থাকাই ঈদের শিক্ষা নয়। এ প্রসঙ্গে হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর ঘোষণা হচ্ছে- ‘নিছক আনন্দভোগের উৎসব ত্যাগ করো। তোমাদের জন্য আল্লাহ তায়ালা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন দুটি উৎসবের দিন। একটি পয়লা শাওয়াল, অপরটি দশই জিলহজ্ব’। অবশ্য যারা ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও রমজানের রোজা পালন করেনি তাদের জন্য ঈদ আনন্দের নয়, বরং নিরানন্দের। তাদের ওপর রয়েছে আল্লাহর রাসুল (সা.) এবং ফেরেশতাদের অভিশাপ। ঈদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হচ্ছে সাম্য। সমাজের সকল স্তরের মানুষ ঈদের জামাতে এক কাতারে নামাজে শরীক হয়ে এই সাম্যের শিক্ষা নেয়। তাই ঈদ হচ্ছে একটা সর্বজনীন উৎসব। মুসলমানদের এই আনন্দ উৎসব ততোক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হবে না, যতোক্ষণ পর্যন্ত অপর মুসলমানকেও এর অংশীদার করা না হবে। অর্থাৎ এককভাবে ঈদ উদযাপনের কোন বিধান রাখা হয় নি। ঈদের আনন্দ জাতীয় এবং সমষ্টিগতভাবে উপভোগ করার রীতিনীতি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা বাস্তবে সেই ঈদের শিক্ষা থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছি। ঈদ এলেই আমাদের চোখে পড়ে চারদিকে কে কতো বেশি দামী জিনিস কিনতে পারে, তার প্রতিযোগিতা। এটা ঈদের শিক্ষার পরিপন্থী। ঈদের চিরন্তন বাণী হচ্ছে- অযথা চাকচিক্য প্রদর্শন নয়, ভুলে যেতে হবে উচুনীচু আর ধনী গরিবের পার্থক্য। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, ঈদের খুশীকে প্রতিটি ঘরে প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তা না হলে ঈদের আনন্দ সার্থকতা পাবে না।
সুতরাং এটা বলতেই হয় যে, যারা আল্লাহর নির্দেশকে মনে প্রাণে মেনে চলেছে- তাদেরই সার্থকতা রয়েছে ঈদ উদযাপনের। অর্থাৎ রমজানের মর্মবাণী উপলব্ধি করে যিনি তারই আঙ্গিকে জীবনকে গড়ে তুলতে ব্রতী হয়েছেন এবং দৈহিক ও আত্মিকভাবে নিজেকে উৎসর্গ করতে পেরেছেন আল্লাহর পথে, তারই পূর্ণ অধিকার ঈদ আনন্দের। আর অযথা লোক দেখানো চাকচিক্য প্রদর্শন কিংবা যাকাত বিতরণের নামে হাজার হাজার দীনহীন মানুষের সমাগম ঘটিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটানো- এই সবই ইসলাম কোন অবস্থাতে মেনে নিতে পারে না। আজকের এই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভাব অনটনসহ নানাভাবে বিপর্যস্ত মানুষের কাছে যাতে ঈদের আনন্দের বার্তা পৌঁছে দেয়া যায়, তারই ব্যবস্থা করতে হবে। ঈদের খুশী বিত্তবানদের ঝলমলে অট্টালিকা থেকে শুরু করে গরিব অসহায়দের জীর্ণ কুটির পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়–ক। ঈদ আসুক সাম্য সৌহার্দ্য আর ত্যাগের অনাবিল পরিবেশে। ঈদের শুভেচ্ছা সবার জন্য। ঈদ মুবারক আসসালাম।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT