মহিলা সমাজ

ঈদের আনন্দ

শেফা বেগম ফাতেমা প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-০৬-২০১৯ ইং ০১:৩৭:১৯ | সংবাদটি ৬৫ বার পঠিত



ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে হাসি খুশি। ঈদের আনন্দ সবার মন নাড়া দিলেও যে কিছু কিছু মানুষ আছে যাদের ঈদ আর আনন্দ বলে কিছু নেই। একটি মাস রমজানের পর পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হয়। কিন্তু সেই ঈদে কতজন সঠিকভাবে আনন্দ পায় আমাদের হয়তো জানা নেই। আজকাল মানুষ নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত। কোন কিছু দেখার বা জানার কোন আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। প্রতিটি মানুষই চায় জীবনের অন্তত একটি দিন আনন্দে ভরে উঠুক। কিন্তু সে ভাগ্যটুকু কতজনের হয়ে থাকে। ধনী গরিব এই সমাজে আরো অনেক ধরনের লোক আছে, যারা দু'বেলা দু'মুঠো ভাত খেতে পায় না। তাদের আনন্দ কোথায়? আমাদের জানা মতো অনেক পরিবারই আছে যারা সারা বৎসরে একবারও নতুন কাপড় পড়ার আনন্দ পায় না। তাই এ ধরনের পরিবারের কাউকে ঈদ সম্বন্ধে কিছু জানতে চাওয়া হলে, তাদের কথার উত্তর, ঈদ তো শুধু বড়লোকের জন্য। গরিবের আবার ঈদ কিসের? তাদের ঈদের দিন সবদিন এক। একটি মানুষ কতটুকু সাচ্ছন্দ্যবোধ থাকলে এ কথাটা বলতে পারে তা আমাদের জানার কথা হয়তো নয়। তাই এই কথা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, ঈদ শুধু আনন্দ দেয় না, অনেক কান্না জড়ানো থাকে। অনেক স্মৃতি থাকে, যে ঈদের সময় এলে মানুষের মনে জেগে উঠে ছোটবেলার স্মৃতি, হাসি আনন্দ, যা একবার হলেও কারো হৃদয়ে জেগে উঠে। ছোট বেলার ঈদ মনে হতো এক একটা দিন কাটতে অনেক বৎসর মনে হত। একটি দিন মনে হত একটি বৎসর। কবে ঈদ আসবে এই যে একটি প্রতীক্ষার প্রহর গুনবো। তা যে কত আনন্দের একটি শিশুর কাছে, বলে বোঝানো যাবে না। নতুন পোশাক আর আনন্দ উল্লাসে এবং মজার খাবার এবং বেড়ানো কিভাবে যে সেই দিনটি কেটে যেত, তা কি কেউ বলতে পারত। কারণ মানুষের জীবনটাই এমন সুখের দিনগুলির হিসেব করা যায় না। এত তাড়াতাড়ি চলে যায় বোঝা যায় না। কিন্তু দুঃখের দিনগুলি অতিবাহিত হয় না। একটি দিন মনে হয় একটি বৎসর। সত্যি কথা বলতে কি মানুষের জীবনটাই এ রকম হাসি-আনন্দ, সুখ-দুঃখ নিয়েই বেঁচে থাকতে হয়। মানুষের চাওয়া পাওয়ার শেষ নেই। তাই অনন্ত এই চাওয়ার মধ্যে আছে বিরহ, বেদনা তারপরও আমাদের বাঁচতে হবে। জানতে হবে। জয় আর পরাজয়কে নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। ঈদ মানে শুধু নিজেকে নিয়ে কেউ সুখী বা আনন্দ পায় না, মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন সবাইকে নিয়েই ঈদ। আর অনেকের কাছে ঈদ মানে বিলাসিতা করা, হাজার হাজার টাকা খরচ করে একটি পোশাক কিনে। আবার কারো একশত বা দুইশত টাকা দিয়েও পোশাক কেনার সামর্থ নেই। কারণ আনন্দ আর আত্মতৃপ্তি এক নয়। অনেক বড়লোক আছে যারা সারা মাস রোজা না রেখেও নতুন পোশাক পরে অনেক ঝকমকভাবে ঈদটাকে পালন করে। আর অনেক আছে যারা, সারা মাস রোজা রেখে ঈদের দিন যে আত্মতৃপ্তি পায় সেটাই তার কাছে সবচেয়ে আনন্দ। বড় পাওয়া। অনেকে মনে করেন দুনিয়াতেই সব কিছু। মরণের পর অন্য কথা, হায়রে পৃথিবী, হায়রে জীবন, বড় আফসোস হয়, বড় দুঃখ হয়। কারণ মানুষ হয়ে যে এত কিছু দেখতে হয়। কখনও বা যেন মনে হয়, এখন এ পৃথিবীতে মানুষ হয়ে এসে বড় পাপ করেছি। সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায়, জয়-পরাজয়, সবকিছুতে কোন বাধা থাকত না যদি প্রকৃতির কোন কিছু করে খোদা সৃষ্টি করতেন পৃথিবীতে মানুষ শ্রেষ্ঠ। তাই পৃথিবীতে অন্য কিছুর সাথে তুলনা হয় না, মানুষের সাথে। এখনও অনেক মহান। ব্যক্তি আছে বলে পৃথিবীটা মনে হয় অনেক সুন্দর। প্রকৃতির এই সুন্দর উদারতা দেখলে মনে হয় যেন হাজার বছর বাঁচতে । কিন্তু তারপরও অনেক কথা লুকিয়ে আছে মনের কোনে, প্রশ্ন জাগে মনে অনেক যদি হয়েছি খোদা মানুষ, হয়েছি সৃষ্টির সেরা তাইতো আমি তোমারই কাছে করি প্রার্থনা, আমাকে খোদা তুমি সামর্থ দাও, ঐশ্বর্য দাও, যে সামর্থ ঐর্শ্বয্য আমি বিলিয়ে দেব অসহায়দের মধ্যে। তখনই আমি নিজেকে সুখী মনে করব। আনন্দ করব। এ যেন আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া, বড় চাওয়া। কিন্তু তবুও যে সংশয় মনে থেকে যায়, হয়তো আমার চাওয়ার সীমা দেখে হাসতে পারে অনেকে। ঈদের আনন্দের সাথে পিছনে ফেলে আসা অনেক মধুর স্মৃতি জড়িয়ে থাকে। পবিত্র ঈদুল ফিতর ধনী-গরিব, সকল মুসলিম বান্দাদের মানসিক আনন্দের দিক উপলব্ধি করাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় আনন্দ। সুতরাং এটিই যেন আমাদের মুসলিম সমাজের অঙ্গীকার হয়ে উঠে- এই প্রত্যাশায়।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT