বিশেষ সংখ্যা

আনন্দ বয়ে যাক সবার অন্তরে

মো: শামসুল ইসলাম সাদিক প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-০৬-২০১৯ ইং ০২:১৬:৩৯ | সংবাদটি ১৫০ বার পঠিত

বিশ্বের মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। রমজানের পর ঈদ আসে মুসলমানের মাঝে আনন্দ ও উৎসবের বার্তা নিয়ে। ঈদুল ফিতরের দিন প্রতিটি মুসলমান নারী-পুরুষের জীবনে অশেষ তাৎপর্য ও মহিমায় অনন্য। ঈদুল ফিতর প্রতিবছর এক অনন্য-বৈভব বিলাতে ফিরে আসে। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজানের শেষে শাওয়ালের এক ফালি উদিত চাঁদ নিয়ে আসে খুশির বার্তা। সিয়াম পালনের দ্বারা রোজাদার যে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার সৌকর্য দ্বারা অভিষিক্ত হন, ইসলামের যে আত্মশুদ্ধি, সংযম, ত্যাগ-তিতিক্ষা, দানশীলতা, উদারতা, ক্ষমা, মহানুভবতা, সাম্যবাদিতা ও মনুষ্যত্বের গুণাবলি দ্বারা বিকশিত হন, এর গতিধারার প্রবাহ অক্ষুণ্ন রাখার শপথ গ্রহণের দিন হিসেবে ঈদুল ফিতর আগমন হয়। এ দিন যে আনন্দধারা প্রবাহিত হয়, তা অফুরন্ত পুণ্যময়তা দ্বারা পরিপূর্ণ। সুদীর্ঘ এক মাস রোজার পর মুসলমানের ঘরে নিয়ে আসে ঈদ আনন্দ। এদিন নতুন জামা-কাপড় পরিধান করা, ঈদগাহে নামাজ পড়া ও কোলাকুলি সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হন। ফিরনি-সেমাই খাওয়া প্রভৃতি ঈদের দিনের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি।
‘ঈদ’ আরবি শব্দ এটি ‘আওদ’ শব্দমূল থেকে উদ্ভূত, আভিধানিক অর্থ ফিরে আসা, প্রত্যাবর্তন করা, বার বার আসা, খুশি, আনন্দ ইত্যাদি। ‘ফিতর’ আরবি শব্দ এর অর্থ ভঙ্গ করা, ভেঙ্গে টুকরা টুকরা করা, বিদীর্ণ করা। দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখা পর শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখে রোজা ভেঙ্গে যে আনন্দ উৎসব পালন করা হয় তাকে ‘ঈদুল ফিতর’ বলে। কারো কারো মতে ‘ফিতর’ শব্দ ফিতরা থেকে এসেছে। ধনী ব্যক্তিরা গরীবদেরকে ফিতরা দিয়ে তাদেরকে ঈদের আনন্দে শরীক করেন বলে এই দিনকে ‘ঈদুল ফিতর’ বলে, কারো কারো মতে-দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর রোজাদারগণ ঈদগাহে নামাজের জন্য এলে আল্লাহ রোজাদারগণকে একবাক্যে ক্ষমা ঘোষণা করেন। এই ক্ষমা প্রাপ্তিটাই হচ্ছে মহানন্দের ও বড় প্রাপ্তি। যেহেতু রোজাদারগণ ঈদুল ফিতরের দিন আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা পেয়ে থাকেন। আর এটাই তাদের বড় পুরস্কার, শাওয়ালের পহেলা তারিখে রোজাদারগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘পুরস্কার’ লাভ করেন বলে এই দিনকে ‘ঈদ’ বলা হয়েছে। পুরস্কার পেয়ে রোজাদারগণ আনন্দিত হন তাই আনন্দের দিনকে ‘ঈদ’ বলা হয়েছে। ঈদুল ফিতর মুসলমানদের আনন্দের দিন,এ দিন ধনী-গরিব সব মানুষের মহামিলনের বার্তা বহন করে। এক কাতারে দাঁড়িয়ে একসঙ্গে নামাজ পড়ার সুযোগ এনে দেয়। ঈদের খুশির অন্যতম হচ্ছে ঈদের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ। ঈদ এক নির্মল আনন্দে মানুষ আত্মশুদ্ধির আনন্দ পরস্পরের মেলবন্ধনে ঐক্যবদ্ধ হন এবং আনন্দ সমান ভাগাভাগি করেন। রমজানের রোজার মাধ্যমে নিজেদের অতীত জীবনের সব পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হওয়ার অনুভূতি ধারণ করেই পরিপূর্ণতা দান করে ঈদ। ঈদুল ফিতর আনন্দ-উৎসব এমনই এক পরিচ্ছন্ন আনন্দ অনুভূতি জাগ্রত করে, যা মানবিক মূল্যবোধ সমুন্নত করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের পথপরিক্রমায় চলতে মুসলমানদের উদ্বুদ্ধ করে। রাসুল (সা:) ইরশাদ করেন- ‘প্রতিটি জাতিরই আনন্দ-উৎসব রয়েছে, আমাদের আনন্দ-উৎসব হচ্ছে এই ঈদ’ (বুখারি ও মুসলিম)।
ঈদুল ফিতরের দিন রোজাদারের সম্মানজনক মর্যাদা সম্পর্কে বর্ণিত, হযরত আউস আনসারী (রা:) বলেন, রাসুল (সা:) ইরশাদ করেছেন-ঈদুল ফিতরের দিন সকালে সকল ফেরেস্তা রাস্তায় দাঁড়িয়ে যান এবং মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বলতে থাকেন, হে মুমিনগণ! তোমরা প্রতিপালকের দিকে এগিয়ে এস। উত্তম প্রতিদান ও বিশাল সওয়াব প্রাপ্তির জন্য এগিয়ে এস। তোমাদের রাত্রিবেলার নামাজের নির্দেশ দেয়া হলে তোমরা সে নির্দেশ পালন করেছে। তোমাদের দিনের বেলা রোজা রাখতে বলা হলে তোমরা সে নির্দেশও পালন করেছ। এক মাস রোজা রেখেছ। গরীব-দুঃখীদের পানাহারের মাধ্যমে নিজ প্রতিপালককে তোমরা পানাহার করিয়েছ। এখন নামাজ পড়ার মাধ্যমে প্রতিদান ও পুরস্কার গ্রহণ কর, ঈদের নামাজ পর ফেরেস্তাগণের একজন ঘোষণা দেন, শোন নামাজ আদায়কারীরা, তোমাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন, সকল গুনাহ থেকে মুক্ত অবস্থায় নিজ নিজ আবাসে ফিরে যাও। আর শোন, এই দিনটি হচ্ছে পুরস্কার প্রদানের দিন। আকাশে এই দিনের (ঈদুল ফিতরের দিন) নামকরণ করা হয়েছে ‘পুরস্কারের দিন’ (তাবরাণী)। আনাস (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, মদিনায় রাসুল (সা:) হিজরত করে আসার পর দেখলেন, মদিনাবাসী দ’ুদিন খুব আনন্দ উৎসব করছে। তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, নাইরোজ এবং মেহেরজান এ দ’ুদিনে তোমরা কী কর? তারা বলল, আমরা জাহিলিয়্যাতের যুগে এদুটো দিন খেলাধুলা, প্রাচীন ঐতিহ্য লালন ও আমোদফুর্তি করতাম। রাসুল (সা:)-ইরশাদ করলেন- আল্লাহ তোমাদের এ দুটো দিনের পরিবর্তে অন্য দুটি দিন প্রদান করেছেন। ঈদুল ফিতরের দিন ও ঈদুল আযহারর দিন (সনানু আবু দাউদ)। হযরত মু‘আয ইবন জাবাল (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা:)-ইরশাদ করলেন- যে ব্যক্তি পাঁচটি রাত (ইবাদতের মাধ্যমে) জাগ্রত থাকবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। যিলহাজ্জ মাসের ৮ তারিখ রাত, যিলহাজ্জ মাসের ৯ তারিখ রাত, ঈদুল আযহার রাত, ঈদুল ফিতরের রাত এবং ১৫ শাবানের রাত। (আত তারগীব ওয়াত তারহীব)।
মুসলমানদের ঈদ উদযাপন হবে ইবাদত, রিয়াজত তাদের ইতিহাসের ও ঐতিহ্যের আলোকে। শরীয়ত সম্মতভাবে আমাদের সকলকে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে হবে। আসুন আমরা সকলেই সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যের মাধ্যমে ঈদকে সবার জন্য আনন্দময় করে তুলি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT