সম্পাদকীয়

খাদ্যে কৃত্রিম ‘ফ্যাট’

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৬-২০১৯ ইং ০০:৩৭:২৩ | সংবাদটি ৩৭ বার পঠিত

অতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার গ্রহণের কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় আট হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। একটি আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এতে বলা হয়, ট্রান্সফ্যাট হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়; যা বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা বলেছে, ২০১০ সালে বাংলাদেশে উচ্চ ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের কারণে প্রায় আট হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, খাবারে ট্রান্সফ্যাটের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানদ- অনুসরণ করছে না। তবে সম্প্রতি দেশটি ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে ভারতের মতো ধাপে ধাপে কাজ শুরু করেছে। ভারত ২০২২ সালের মধ্যে ভোজ্য তেল ও এ জাতীয় পণ্যে ট্রান্সফ্যাটের সীমা পাঁচ ভাগ থেকে কমিয়ে দুই শতাংশে নামিয়ে আনতে কাজ করছে। এর বাইরে বিশ্বের ছয়টি দেশ ইতোমধ্যেই খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট নিষিদ্ধ করেছে। আরও ২৫টি দেশও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা পরবর্তী দুই বছরে কার্যকর হবে।
ট্রান্সফ্যাট হচ্ছে এমন এক ধরনের চর্বি যা ভেজিটেবল ওয়েল (পাম, সয়াবিন ইত্যাদি) থেকে তৈরি হয়। এসব ভেজিটেবল ওয়েলে হাইড্রোজিনেশন বা হাইড্রোজেন আয়ন যুক্ত করলেই তা ট্রান্সফ্যাট-এ রূপান্তরিত হয়। ট্রান্সফ্যাট কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়, যা শরীরে খারাপ চর্বির পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং ভালো চর্বির পরিমাণ কমিয়ে দেয়। তা ধীরে ধীরে রক্তনালিতে জমা হয়ে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায় বহু গুণ। আর আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে ব্যাপারটি নিয়ে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই ভাবতে হবে। আমাদের দেশে এখন হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এই সব অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর হারও বাড়ছে। অথচ এইসব রোগের প্রকোপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হচ্ছে ট্রান্সফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার। আর এসব রোগ হলে যেহেতু জীবনভরই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়, আর অনেক পরিবার সে ব্যয় বহন করতে পারে না; তাই ট্রান্সফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার না খাওয়ার ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করাই জরুরি। সেই সঙ্গে খাবার প্রস্তুতকারক কোম্পানীগুলোকেও এ ব্যাপারে গাইড লাইন দিতে হবে।
খাদ্যে কৃত্রিম ফ্যাট তৈরীর ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ জনিত রোগে মৃত্যুর হার দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষিতে আমাদেরকে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে। আমাদের খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট-এর ক্রমাগত ও অপ্রয়োজনীয় উপস্থিতির ফলে অসংখ্য প্রাণ হুমকির মুখে পড়েছে। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় সকল মহলের সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বিএসটিআইকে তৎপর হতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা খাদ্যে নির্ধারিত মোট ফ্যাট এর সর্বোচ্চ দুই ভাগ ট্রান্সফ্যাট সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এটি নিশ্চিত করতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT