উপ সম্পাদকীয়

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার দেহ ব্যবচ্ছেদ

অমিত রায় চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৬-২০১৯ ইং ০০:৪৭:৫৩ | সংবাদটি ১৩৪ বার পঠিত

শিক্ষা নিয়ে আলোচনা আবার প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা- বিস্তৃত পরিসর অনায়াসে বিশ্লেষণের আওতায় এসে যাচ্ছে। সমাজ দর্পণে নানা দৃষ্টিকোণ প্রতিফলিত হচ্ছে, বহু অভিমত নিয়ত নিত্যনতুন ভাবনার খোরাক জোগাচ্ছে।
সমকালীন সমাজ, বর্ধনশীল অর্থনীতি, উদ্বেল তারুণ্য, সম্ভাবনার হাতছানি কিংবা উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা- সব বিবেচনায় শিক্ষাই হয়ে উঠেছে অনিবার্য অবলম্বন, উন্নততর জীবনের নিঃসংশয় আশ্বাস।
মানব উন্নয়নের বিভিন্ন মানদ-ে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে সমীহ জাগানো উচ্চতায় আসীন। বিস্ময়কর গতিতে বিকাশমান অর্থনীতি, দারিদ্র্য- অতি দারিদ্র্য নিরসন, শিশুমৃত্যুর হার কমানো, গড় আয়ু- মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন, সর্বজনীন শিক্ষা- এসব সূচকে বাংলাদেশ আজ অনুসরণীয় মডেল। মধ্যম আয়ের দেশে উন্নয়ন, ২০৩০-এর মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন এবং ২০৪১-এ উন্নত দেশের কাতারে অন্তর্ভুক্তি এ মুহূর্তে আর স্বপ্নবিলাস মনে হয় না। আর সে জন্যই আধুনিক, জীবনমুখী, মানসম্পন্ন শিক্ষা এখন সময়ের সর্বাধিক অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এজেন্ডায় পরিণত হয়েছে।
নিঃসন্দেহে বলা চলে, বিগত একদশকে শিক্ষা ব্যবস্থাপনাকে ইতিবাচকতার ধারায় বদলে ফেলতে নানা প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে। শিক্ষানীতি প্রণয়ন, জাতীয়করণ, এমপিওভুক্তি, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি চালু করা, এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ, প্রশাসনিক ও একাডেমিক ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটালাইজ করা, বৃত্তি-উপবৃত্তি বেষ্টনীকে প্রসারিত করার মতো বিভিন্ন শিক্ষাবান্ধব জনহিতকর পদক্ষেপ সর্বত্র নন্দিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রশ্নফাঁস রুখে দেয়া, শিক্ষা প্রশাসনে দুর্নীতি কমিয়ে আনা এবং ভর্তি বাণিজ্যের মতো ব্যাধি থেকে শিক্ষাকে মুক্ত করার মতো সাফল্যও এসেছে। তবে পরিবর্তিত বাস্তবতায় উপযুক্ত কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করাই সব সময়ের চ্যালেঞ্জ।
শিক্ষাব্যবস্থার কিছু নীতিগত ও কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়ে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সময় বলে আসছেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা অনেকটাই পরীক্ষানির্ভর, আর চলমান প্রক্রিয়াটি শিক্ষার্থীর জ্ঞান কিংবা সময়োপযোগী দক্ষতা অর্জনের জন্য সহায়ক নয়। অনেকে বলছেন- পাবলিক পরীক্ষার সংখ্যা কমানো দরকার। পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি আছে। তবে যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে এ মুহূর্তে মনে হয় তা হল- আমাদের পাঠ্যক্রম, বিষয়বস্তু চাহিদামাফিক পরিমার্জিত ও প্রস্তুত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা। দ্বিতীয়ত মেধাবী, দক্ষ, নিবেদিত ও আদর্শবান শিক্ষকের ঘাটতি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার পথে প্রবল অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে।
একটি বিষয়ে গবেষকরা সম্পূর্ণ একমত যে, শিক্ষকতা পেশায় দেশের সর্বোচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা প্রয়োজন। তিনিই শিক্ষক হবেন যিনি দৈহিক- মানসিকভাবে শিক্ষকতার জন্য প্রস্তুত, বেকার সমস্যা নিরসনে শিক্ষক নিয়োগ কখনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শিক্ষকতাকে পেশা নয়, ব্রত হিসেবে অবশ্যই মান্যতা দিতে হবে। মনে রাখা জরুরি যে, শিক্ষকের মৌলিক সামর্থ্যগত সীমাবদ্ধতাকে প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে ছাপিয়ে যাওয়া সম্ভব না। সে কারণে শিক্ষকতার জন্য জনবল বাছাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল প্রক্রিয়া। এখন শিক্ষকতায় তারাই আসবেন যারা প্রযুুক্তি জ্ঞানের পাশাপাশি ভাষা ও নিজস্ব বিষয়ে সাবলীল, নৈতিক আদর্শে শক্তিমান, গভীর দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ।
অবশ্যই তাদের বেতন ও মর্যাদা অত্যন্ত আকর্ষণীয় হতে হবে। আমরা যদি এদেশকে সমৃদ্ধ একটি জাতিতে পরিণত করতে সত্যিই আন্তরিক হই, তাহলে অন্তত শিক্ষক নিয়োগে কোনো আপস করা যাবে না, অর্থাৎ প্রার্থীর মেধা ও যোগ্যতা ভিন্ন অন্য কোনো বিবেচনা প্রশ্রয় পাবে না। শিক্ষকের চাকরি নিয়মিতকরণ, পদোন্নতি অথবা দায়িত্বশীল পদায়ন তার পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে হওয়া যৌক্তিক। নিয়মিত বিভাগীয় পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও প্রকাশনার গুরুত্ব থাকতে হবে। শিক্ষকের চাকরি নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে অবশ্যই বদলিযোগ্য হতে হবে।
মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষে সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থার প্রবর্তন একটি বৈপ্লবিক উদ্যোগ। কিন্তু দক্ষ ও কমিটেড শিক্ষকের অভাবেই এ ব্যবস্থাটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারছে না। একজন শিক্ষার্থীর উদ্ভাবনীশৈলীর বিকাশই শিক্ষার মূল লক্ষ্য। সৃজনশীল পাঠক্রম শিক্ষার্থীর এ চাহিদা পূরণে যথেষ্ট কার্যকর হতে পারে। কিন্তু শিক্ষকের শ্রমবিমুখতা, নিবিড় প্রশিক্ষণে অনাগ্রহ, প্রশ্নপ্রণেতা অথবা মডারেটরদের জবাবদিহিতার অভাব এবং সর্বোপরি মেধাকে নিষ্ক্রিয় রেখে গাইড বইয়ের ওপর নির্ভরশীলতা চমৎকার এ পদ্ধতিটিকে ক্রমশ অকার্যকর করে ফেলছে। শিক্ষকের শ্রম, মেধা ও সততা সৃজনশীল শিক্ষাক্রমকে ফলপ্রসূ ও লক্ষ্যভেদী করে তুলতে পারে।
উত্তরপত্র মূল্যায়ন পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। শিক্ষক তথা পরীক্ষকের দক্ষতা ও নৈতিক মানের ওঠানামা যখন শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার গঠনে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে, তখন উত্তরপত্র মূল্যায়নের গুরুত্ব সহজে অনুমান করা যায়। মূল্যবোধের অবক্ষয়ে আক্রান্ত সমাজের ভূমি বাস্তবতায় একজন পরীক্ষকের মনোযোগ কিংবা পেশাগত নিষ্ঠার বিন্দুমাত্র বিচ্যুতি অন্য একজন ভালো শিক্ষার্থীর জীবনের গতিপথ বিপজ্জনকভাবে পাল্টে দিতে পারে; যা কখনই হালকাভাবে দেখা যায় না। উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যেটি প্রয়োজন তা হল তৃতীয় পরীক্ষকের আবশ্যিক নিয়োগ। ফলাফল প্রকাশের পর প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রাখা শিক্ষার্থীর স্বার্থে জরুরি কিনা, ভেবে দেখতে হবে। উত্তরপত্রের যথার্থ মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষকের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিজ্ঞান শিক্ষাকে জনপ্রিয় করা এখন ভীষণ জরুরি। কিন্তু ভেবে দেখতে হবে একজন ছাত্র কেন অত্যন্ত ব্যয়বহুল বিজ্ঞানশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হবে। কারণ এদের মধ্য থেকে একটি নগণ্য অংশ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা প্রতিষ্ঠিত বিষয় নিয়ে ক্যারিয়ার গঠন করতে পারে। অবশিষ্ট শিক্ষার্থীদের ঝরে যাওয়া অনেকটা ট্রাজিক হিরোদের মতো। মেধার এ ভয়ংকর অপচয় যে কোনো মূল্যে রুখে দেয়া উচিত। দেশের এ মেধাবী সন্তানদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বা বৃত্তিমূলক উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া অব্যাহত রাখার সুযোগ রেখে তাদের সম্মানজনক পেশায় স্থিত হওয়ার বিকল্প নিশ্চিত করতে হবে।
তবে বিজ্ঞান হোক আর কারিগরি বৃত্তিমূলক শিক্ষাই হোক, এগুলোর ব্যবহারিক ক্লাসকে যে কোনো মূল্যে কার্যকর করতে হবে। লক্ষ করলেই দেখা যাবে, আমাদের ছাত্রছাত্রীরা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারিক ক্লাস করে না বললেই চলে। অথচ পাবলিক পরীক্ষায় এদের সর্বোচ্চ নম্বর দেয়ার প্রতিযোগিতা চলে। একদিকে তাত্ত্বিক ক্লাস হয় চ্যাপ্টার-বেইজড বা সিলেক্টিভ- অন্যদিকে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের পরিসরও একদম সংকীর্ণ। ফলে গ্রেড অর্জিত হচ্ছে; কিন্তু মান থাকছে না। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ রুটিন অনুযায়ী ব্যবহারিক ক্লাস সচল রাখা জরুরি। পরীক্ষাও নিতে হবে প্রতিষ্ঠাননিরপেক্ষ কোন ল্যাবে। তাহলে পাঠবহির্ভূত অনৈতিক চর্চা যেমন কমবে, বিষয়গত কাঙ্ক্ষিত দক্ষতাও বৃদ্ধি পাবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীদের হাজিরা, অবস্থান (কনট্যাক্ট আওয়ারস) প্রযুক্তির মাধ্যমে মনিটারিং করা যেতে পারে। দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনও যদি ডিজিটাইলাজ্ড হয় এবং নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলির সাথে ওয়েবসাইটে সংযুক্ত রাখা যায়, তাহলে প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গতিশীলতা বেড়ে যাবে। শিক্ষাকে জাতীয়করণ করে গোটা ব্যবস্থাপনাকে একটি অভিন্ন নিয়ন্ত্রন কাঠামোর আওতায় আনা গেলে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে তা সক্রিয় অনুঘটকের কাজ করবে বলে বিশ্বাস করি।
কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সমাজ ও সমকালীন প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সাধারণ শিক্ষায় একাডেমিক ডিগ্রির কৌলীন্য কাজের বাজারে যথেষ্ট মূল্য বহন করে না, দরকার হয় ব্যবহারিক জ্ঞান। শিল্প-কারখানা বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের চাহিদার ভিত্তিতে কারিকুলাম আধুনিকায়ন বা পাঠ্য বিষয় পরিমার্জন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর এক ধরনের বোঝাপড়া থাকতে পারে। কারিগরি জীবনমুখী শিক্ষা গ্রহণের বিষয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিগত পরিবর্তন প্রয়োজন। একজন ডিপ্লোমাধারী শিক্ষার্থী যেন কোনোভোবেই সামাজিক হীনম্মন্যতায় আক্রান্ত না হয়। তারুণ্যের যে সুবিধা দেশ এখন ভোগ করছে, আগামী ৩০-৩৫ বছর পর্যন্ত হয়তো তা অব্যাহত থাকবে। তবে সে সুযোগ পুরোমাত্রায় ব্যবহারের জন্য শহরের পাশাপাশি গ্রামেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং বিশেষ করে অব্যবহৃত নারী জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে পরিণত করা ভীষণ প্রয়োজন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদার বিপরীতে দক্ষ জনবল প্রস্তুত করতে পারলে ক্রমে ক্রমে বেকারত্ব কমে আসবে, জাতীয় উৎপাদনেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। রাশিয়া ও জাপানের মতো দেশ যেখানে বয়স্ক জনসংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে সেখানে তরুণ বাংলাদেশ দক্ষ জনশক্তি বিশেষ করে ডাক্তার, নার্স, শিক্ষক বা সেবাপ্রদানকারী জনবল রফতানি করে লাভবান হতে পারে। মানসম্পন্ন চাহিদানির্ভর শিক্ষা বা কারিগরি প্রশিক্ষণ বিপুল তারুণ্যের জন্য শোভন কাজের সুযোগ তৈরি করবে; ফলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে দেশ অনেকটাই এগিয়ে যাবে; যা এসডিজির ৪-এ বর্ণিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বা মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণকে কার্যত সহজ করে তুলবে।
মানসম্পন্ন শিক্ষার অর্থ শুধু বিষয়গত বা সময়মুখী অথবা চাহিদানির্ভর দক্ষতা অর্জন নয়, অবশ্যই সেই শিক্ষা তখনই প্রকৃত অর্থে মানসম্মত হয়, যখন তা মানুষের অন্তর্গত মাহাত্ম্যকে প্রস্ফুটিত করে। একজন মেধাবী ছাত্র, সফল ক্যারিয়ার গড়া শিক্ষার্থী যখন ডাক্তার হয়ে নৈতিকতা-মানবতার পরীক্ষায় হেরে যান, একজন ইঞ্জিনিয়ার যখন পার্থিব সম্পদের হাতছানিকে উপেক্ষা করতে হিমশিম খান, একজন সিভিল সার্ভেন্ট যখন বৈষয়িক বিবেচনায় রাজধর্ম পালনে অপারগ হন, একজন শিক্ষক যখন ক্যাডার হওয়ার দৌড়ে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বা গবেষণার প্রয়োজনকে উপেক্ষা করেন, ব্যক্তিগত উচ্চাভিলাষ যখন তার পথচলায় নির্ধারক হয়ে যায়- বলতেই হবে সে শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীকে ক্যারিয়ার গঠনে সাহায্য করেছে বটে; তবে তাকে মানবিক, সভ্য ও বিবেকবান করেনি।
জীবনমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক মানদ-ে শিক্ষা শুধু ব্যক্তির জন্যই সদর্থক পরিবর্তনের বার্তাবাহী বা অনুঘটক হিসেবে কাজ করে না, শিক্ষার সুফল পরিবার, সমাজ এবং সর্বোপরি দেশকে জাতিগতভাবেই বদলে দেয়। শিক্ষা সমাজের গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক মননকেও পরিশীলিত করে। শ্রেণীবৈষম্য কমিয়ে আনা, লিঙ্গসমতা বিধান বা গ্রাম-শহর ভেদে নাগরিক সুবিধার তারতম্য দূরীকরণে শিক্ষা অপরিসীম ভূমিকা পালন করে চলে নীরবে-নিভৃতে। আর মানসম্পন্ন শিক্ষা জাতির সামষ্টিক আকাক্সক্ষার সৌধকে নাগালের মধ্যে এনে দেয় অনায়াসে।
লেখক : অধ্যক্ষ।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • প্রানের শহর সিলেট
  • সম্পত্তিতে হিন্দু নারীর অধিকার
  • আশঙ্কার মধ্যে মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ
  • ভিমরুলের চাকে অমিতের খোঁচা
  • মানবপাচার, অর্থপাচার সমাচার
  • আত্মনির্ভরতা
  • খাদ্যে ভেজাল : দরকার কঠোর পদক্ষেপ
  • নগরীর জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গ
  • এম.সি কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ চাই
  • টেকনিক্যাল রোডে স্টিলের রেলিংসহ ফুটপাত চাই
  • জৈনপুর এলাকায় ড্রেন সংস্কার হোক
  • বানরের উৎপাত প্রসঙ্গ
  • শাবিতে বিবিএ অনুষদের আসন বৃদ্ধি হোক
  • প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র : স্বপ্ন ও বাস্তবতা
  • সাক্ষরতা আন্দোলন : একটি পর্যালোচনা
  • অশান্ত বিশ্বে শান্তির সন্ধান
  • আমার পাহাড়, আমার সিলেট
  • যৌবন ফিরে পাক বিবিয়ানা নদী
  • সড়ক দুর্ঘটনা : এ শোকের শেষ কোথায়?
  • সামাজিক ব্যাধি
  • Developed by: Sparkle IT