উপ সম্পাদকীয় শ্লোগান হোক

আর হব না ঋণ খেলাপি

ব্রজেন্দ্র কুমার দাস প্রকাশিত হয়েছে: ১০-০৬-২০১৯ ইং ০০:১৬:৩৯ | সংবাদটি ২৯ বার পঠিত

ইচ্ছা করলেই কেউ কোন ব্যাংক বা ব্যাংকের শাখা খুলতে পারেন না। সরকার তথা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি সাপেক্ষেই তা করতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স প্রাপ্তির পর কোন স্থানে যদি কোন ব্যাংকের শাখা খোলা হয় তখন আমরা কি দেখি? ব্যাংকের লোকজন কি গাড়ী ভরে টাকা নিয়ে আসেন? না। অবশ্যই না। ব্যাংক বিধি মোতাবেক একটি বিল্ডিং ভাড়া নিয়ে একটা ছোট্ট ট্রাংক নিয়ে ম্যানেজার, ক্যাশিয়ার দু’একজন দারোয়ান আর কিছু খাতা কলম সহ হাজির হন। নগদ একটা পয়সাও নিয়েও আসেননি কেউ। গ্রাম্য বাজার, জেলা উপজেলা বা শহর বন্দর যেখানেই ব্যাংক খোলা হোক সেখানকার ব্যবসায়ীগণ এবং স্থানীয় জনগণকে দাওয়াত করে মোটামুটি একটা অনুষ্ঠান করে সবার কাছে আবেদন করেন একাউন্ট খুলে টাকা জমা রাখার জন্য। ব্যাংকারদের আবেদনে সাড়া দিয়ে জনগণ তাদের টাকা ব্যাংকে জমা রাখার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ব্যাংকটির কার্যক্রম শুরু হয়। তারপর বিন্দু থেকে সিন্ধু হয়। ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা জমা হয়। এখানে ব্যাংকের কানাকড়িও নেই। সব টাকা জনগণের। সেই টাকা থেকেই এক সময় ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য জনগণের এই টাকা থেকেই জনগণের মধ্যে ঋণ বিতরণ করা হয়। আর এই ঋণের টাকা লিল্লার টাকা নয়, কার টাকা কে লিল্লা দেবেন? ব্যাংক জনগণের টাকা খাটিয়ে লাভ করে জনগণের টাকা জনগণকে ফিরিয়ে দেবে এইতো নিয়ম।
আর এ জন্যই বোধ হয় জনতা ব্যাংকে চাকরিতে ১৯৭৩ সালে প্রবেশ করেই শুনে আসছি-‘ঈঁংঃড়সবৎং ধৎব ঃযব নষড়ড়ফ ড়ভ ধ ইধহশ. অর্থাৎ ব্যাংকের গ্রাহকগণ ব্যাংকের রক্তসম। কেন এমন বলা হয়! বলা হয় এ কারণে যে, রক্ত ছাড়া মানবদেহ অচল। জীবনীশক্তিহীন। শুধু মানব দেহই বা কেন, জীব মাত্রই রক্তের প্রয়োজন। রক্ত ছাড়া কল্পনা করা যায় না কোন জীবন। সেই অর্থেই গ্রাহকগণ যেকোন ব্যাংকের রক্ত বা জীবন।
আর ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী-গোত্র-সাদা-কালো-উচ্চ-নীচ-ধনী-গরীব সবার রক্তই কিন্তু লাল। আমরা ধরে নেই রক্ত মানেই পবিত্র। কিন্তু আজকাল এদেশে কখনো কখনো রক্তও দূষিত হচ্ছে। এই দূষিত রক্ত জীবনকে বিপন্ন করে তুলছে। এবং অনেক ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞ ডাক্তার এই দূষিত অপবিত্র রক্তকে পবিত্র করে তুলতে ব্যর্থ হচ্ছেন। আশার জীবনে মৃত্যু কড়া নাড়ছে। একই পন্থায় ব্যাংকের পবিত্র রক্তে কিছু কিছু দূষিত রক্ত কণিকা ঢুকে ব্যাংকের জীবনীশক্তিতে আঘাত হানছে। কলঙ্কিত করছে ব্যাংকের পবিত্র রক্ত তথা সম্মানিত সৎ গ্রাহকগণকে। নড়বড়ে করে তুলছে দেশের ব্যাংকিং খাতকে তথা দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে। সঞ্চয়কারীগণ তাদের কষ্টার্জিত টাকা ব্যাংকে জমা রাখছেন আর এই জমাকৃত টাকা ঋণ হিসেবে ঋণ গ্রহিতাদের মধ্যে বিতরণ করছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এটা ব্যাংকের কার্যক্রমেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যকে সচল রাখতে অবশ্যই তা প্রয়োজন। কিন্তু বিপত্তি ঘটাচ্ছে ব্যাংক সমূহের ঋণ গ্রহিতাদের মধ্যে কিছু কিছু দূষিত রক্ত। যাদেরকে বলা হয় ঋণখেলাপি। আর ব্যাংকের ঋণ খাতের এই সমস্ত দূষিত রক্তের সহযোগী হচ্ছে ব্যাংকের ওপর তলার কিছু কিছু দূষিত ব্যাংকার। উনাদের সহযোগীতা না পেলে অসৎ ঋণ গ্রহিতাদের পক্ষে তা সম্ভব হতো না। দেশের গুটিকয় লুটপাটকারী ঋণখেলাপিদের দ্বারা ‘ঈঁংঃড়সবৎং ধৎব ঃযব নষড়ড়ফ ড়ভ ধ নধহশ. বাক্যটির চরম অবমাননা করছে। লজ্জা-ঘৃণার মাথা খেয়ে ওরা ব্যাংকের টাকা লুটপাট করে সমাজে ওপর তলায় বিচরণ করছে। একটা গানের কলিতে আছে-‘লোকে বলে বলুক কলঙ্ক আমার ভাল লাগে’। মনে মনে বোধ হয় ওরা এ গানটি সব সময় গেয়ে চলছে। গন্ডারের চামড়া আর কাকে বলে!
সাম্প্রতিককালে দেশের পত্র-পত্রিকায় এদের নিয়ে যেসব শিরোনাম প্রকাশিত হচ্ছে সেগুলো দেখলেই তাদের নামী-দামী পোশাক-আসাকের ভেতরের চেহারা-ছুরৎ এর খবর মানুষ জেনে ফেলছে। অবশ্য এতে তাদের কিছ্ইু যায়-আসে না। কথায় বলে, দু’কান কাটারা রাস্তার মধ্য দিয়েই চলে। ওদের নিয়ে খবরের শিরোনামগুলো এবার দেখা যাক। যেমন-‘পুরস্কৃত আড়াই লাখ খেলাপি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার বাছাইয়ের ফাঁদে এক কোটি ঋণ গ্রহিতা খেলাপি থাকবে না টাকাও পাবে না ব্যাংক, তহবিল সংকট আরো তীব্র হবে’ (আমাদের সময় ১৮.০৫.২০১৯) ‘ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট আরো ১৫ দিন সময় দিয়েছেন, ঋণখেলাপিদের তালিকা দেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক’ (কালের কণ্ঠ (০১.০৫.২০১৯)
‘কিছু ব্যাংকে প্রয়োজন মেটানোর টাকাও নেই, আস্থাহীনতায় তারল্য সংকট’ (আমাদের সময় ২৩.০৫.২০১৯)
‘ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা স্থগিত করল বাংলাদেশ ব্যাংক (সংবাদ ২৩.০৫.২০১৯)
‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন দুষ্টের পালন শিষ্টের দমন, ঋণখেলাপিদের ‘গণছাড়’ আটকে গেল হাইকোর্টে (আমাদের সময় ২২.০৫.২০১৯)
আমাদের গ্রাম এলাকায় একই অর্থবহ দু’টি প্রবাদ বাক্য প্রায়ই শুনা যায়-(১) যে বেটির পেটে ব্যথা তার খবর নাই, পাড়াপড়শির চোখে ঘুম নাই। (২) যার বাড়ির মরা সে খায় মাছে ভাতে, কাইন্দা মরে ফতির পুতে। এই প্রবাদ দু’টির মর্মার্থ আমাদের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতির সাথে মিলিয়ে দেখা যায় কিনা তা ভেবে দেখার বিষয়। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সুবাদে দেশবাসী দেখছেন অনিয়ম, দুর্নীতি ও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে অনেকেই বিদেশে পাচার করছেন। কেউ কেউ দেশেই গড়ে তুলছেন সম্পদের পাহাড়। ব্যাংকের ঋণ নিয়ে যারা খেলাপি হচ্ছেন অর্থাৎ ঋণ ফেরৎ দিতে চাচ্ছেন না অর্থাৎ ব্যাংকের টাকা লুটপাট করছেন তাদের জন্য পুরস্কারের ডালি হাজির করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দুশ্চিন্তার খবরটি হলো, ব্যাংকগুলো এখন দেড় লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ নিয়ে ধুঁকছে। আর এই ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে যেতে দেখে দেশের সচেতন নাগরিকবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী, দেশের বিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ও উচ্চ পর্যায়ের সৎ ব্যাংকারগণ, সুস্থ চিন্তা চেতনায় ঋদ্ধ দেশের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকতা রাজনীতিবিদ সর্বোপরি আমাদের মহামান্য আদালত নানাভাবে নানা পন্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তাইতো দেশের পত্র-পত্রিকায় খবরের শিরোনাম দেখি-‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন দুষ্টের পালন শিষ্টের দমন, ঋণখেলাপিদের ‘গণছাড়’ আটকে গেল হাইকোর্টে।’ অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত বলেন, এই প্রজ্ঞাপন দুষ্টের পালন, শিষ্টের দমন। যারা ব্যাংক লুট করে নিয়ে গেছে তাদেরই দুধকলা দিয়ে পোষার চেষ্টা। এই সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে আরও এক লাখ কোটি টাকা পাচারের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কীভাবে ঋণখেলাপিদের পক্ষ নেয়?’ অর্থাৎ ব্যাংকের পেটের ব্যথায় ব্যাংক অনেকটা যেন নির্বিকার। অনেকটা বলা যায় লুটপাটকারী ঋণখেলাপিদের তোষামোদই যেন করা হচ্ছে। আর নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন অন্যরা। আমাদের মহামান্য আদালত। আর দেশের ছোট ছোট ঋণ গ্রহিতারা যারা আইনের প্রতি সব সময় শ্রদ্ধাশীল এবং ব্যাংকের ঋণ পরিশোধকে বিবেকের কাজ বলে গ্রহণ করেন তাদেরকে প্রায় ক্ষেত্রেই দেখা যায় বিভিন্ন ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার নি¤œস্তরের অফিসাররাও নানাভাবে ‘হাইকোর্ট’ দেখায়। তাদের প্রতি অব্যাংকার সুলভ আচরণ করতেও দ্বিধাবোধ করেনা। বরং ‘ঈঁংঃড়সবৎং ধৎব ঃযব নষড়ড়ফ ড়ভ ধ নধহশ. বাক্যটি তারা বেমালুম ভুলে যায়। ওরা সেবকের স্থলে প্রভুর আচরণ করে করে সুখ পায়। সৎ নিরীহ ছোট ছোট ঋণ গ্রহীতাদেরকে আইনের ভয় দেখায় আর অসৎ লাখ লাখ কোটি ঋণ খেলাপিদেরকে দেখলে দাঁড়িয়ে সালাম টুকে ওদের আশীর্বাদ লাভে তৎপরতা আশকারা পায়। সাহসী হয় টাকা লুট করতে। তাই বলা যায় কি জানি এক অজ্ঞাত কারণে ব্যাংকের পেটের ব্যথার কারণে ব্যাংকসমূহ দারুনভাবে অসুস্থ হবার পরও ব্যাংক তথা ব্যাংকারগণ অস্বাভাবিকভাবে নীরবতা পালন করেই চলছে বলা চলে ঐসব লুটপাটকারীদের পক্ষেই প্রকারান্তরে কাজ করে যাচ্ছেন। আর সৎ চিন্তার পাড়াপড়শিগণ তাদের চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। আমাদের মহামান্য আদালতই এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ।
তারপরও কিছু কথা থেকে যায়। পত্র-পত্রিকায় খবর আসে-‘ব্যাংকের সিএসআরের টাকায় পুলিশকে ফ্ল্যাট’। এতে তো কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু আপত্তি বিপত্তি তখনই আসে যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক সূত্র থেকে জানা যায় যে, নীতিমালা ভেঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তি অগ্রাহ্য করে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখায় কর্মরত ২২ কর্মকর্তাকে ফ্ল্যাট কেনার জন্য অর্থ সহায়তা দেয় কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক (দৈনিক কালের কণ্ঠ ১৯.০৪.২০১৯)। সিএসআর হলো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মুনাফার যে অংশ সামাজিক কাজে ব্যয় করে সেটাই সিএসআর। ব্যাকের সিএসআরের টাকায় পুলিশকে ফ্ল্যাট কিনে দেয়া প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড: সালেহ উদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আবুল বারাকাত বলেন এটা সিএসআরের নীতিমালার পরিপন্থী এবং নীতিমালা অগ্রাহ্য করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অ্যাকশনে যেতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংককে আরো কঠোর হতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে কি ধরনের অ্যাকশনে যাওয়া এবং কতোটুকু কঠিন হবার ক্ষমতা রাখে বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাংলাদেশ ব্যাংককে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে সেটাওতো এক্ষেত্রে বিশেষভাবে বিবেচ্য বিষয়! ব্যাংক খাতে রাইট অফ বা অবলোপন নামে একটি কথা আছে। আর সে কথার অর্থ হচ্ছে ব্যাংক চেষ্টা করেও যদি কোন খেলাপি ঋণ আদায় করতে না পারে তখন ব্যাংক সে ঋণ অবলোপন করতে পারে। অর্থাৎ এতে গ্রাহক ঋণের টাকা ফেরত না দিলেও ব্যাংকে নিজেই খেলাপি ঋণ কমাতে পারবে।
তবে এই ‘চেষ্টা করা’ ব্যাপারটি কিন্তু অনেকটাই প্রশ্ন সাপেক্ষ। নিয়ম বহির্ভুতভাবে হাজার হাজার লাখ লাখ টাকা ঋণ দেয়া হলো, তার আদায় হলো না; বলা হল চেষ্টা করেও আদায় হল না, তারপর অবলোপন! এখানে তো এক শুভঙ্করের ফাঁকি! অবলোপন তো মাফ করে দেবারই নামান্তর। বলি কার টাকা কে মাফ করবেন? এতে করে ঋণ পরিশোধের প্রবণতা কমে যাবে। ঋণ গ্রহিতারা মনে করবে ঋণ পরিশোধ না করলেই সুবিধা বেশি।
এ প্রসঙ্গে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন ব্যাংকিং খাতের নতুন স্লোগান হবে-‘আমরা সবাই ঋণখেলাপি হব, জনগণের টাকা বিদেশ পাচার করব।’ ‘আইনের বরখেলাপ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে সার্কুলার জারি করে তার থাকার প্রয়োজনীয়তা হারিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক তার সর্বশেষ এ প্রজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে ব্যাংক খাতের লুটপাটকেই অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করে দিল।’ এখন প্রশ্ন হলো বাংলাদেশ ব্যাংক তার প্রয়োজনীয়তা হারানোর বিষয়টিতো বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর নির্ভর করেনা। নির্ভর করে অর্থমন্ত্রণালয় তথা সরকারের ওপর। তাইতো বলা হয়েছে-‘অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক আদিষ্ট’ হয়ে। আদিষ্ট হয়ে মানে তো আদেশ প্রাপ্ত হয়ে। ছোটবেলায় একটা কবিতার লাইন মনে পড়ছে-‘আদেশ করেন যাহা মোর গুরু জনে, আমি যেন সেই কাজ করি ভালো মনে।’ বলি গুরুজনের আদেশ কী কখনো অমান্য করা যায়? বা অমান্য করার ক্ষমতা বা সাহস থাকে? যদি তাই হয় তাহলে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ এর ওপর দায় চাপানো কী তার প্রতি অনেকটা অবিচার হলো না? এ প্রসঙ্গে ৭.৫.২০১৯ তারিখের দৈনিক আমাদের সময় তার সম্পাদকীয়তে লিখে-কোনো দেশের উন্নয়ন ও আর্থিক বিকাশকে টেকসই ও ধারাবাহিক করতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের যেন উল্টো যাত্রা চলছে। অবিলম্বে এ অবস্থার অবসান হওয়া দরকার। যতশীঘ্র সম্ভব এ ‘উল্টো যাত্রা’ থামানোটা বোধহয় খুবই জরুরী।
খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে আমরা যে যা-ই বলি না কেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আমরা অনেকেই যেন চর্বিতচর্বনই করে যাচ্ছি মাত্র। দেশের লুটপাটকারী ঋণখেলাপিরা নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে মুছকি হাসি হাসছে। তাদের এ বিকৃত হাসিকে কান্নায় পরিণত করতে না পারলে খেলাপি ঋণ আদায় করা সম্ভব হবে না। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ-উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. এবি মির্জা মোঃ আজিজুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে থার্থই বলেছেন-ব্যাংকিং খাতে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে তা কমাতে দৃঢ় রাজনৈতিক পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত, আপাতত নতুন মাত্রায় ঋণ দেয়ার পদ্ধতি হাতে নিয়ে কোনো কাজে আসবে না। দেশে সুশাসনের ঘাটতি থাকলে যেকোনো পদ্ধতিই ব্যর্থ হতে বাধ্য।’ আর ব্যর্থ হলে দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসা-‘ঈঁংঃড়সবৎং ধৎব ঃযব নষড়ড়ফ ড়ভ ধ নধহশ. বাক্যটির পবিত্রতা রক্ষা করাও সম্ভব হবে না। শান্ত করা যাবে না ব্যাংকিং খাতের আজকের অস্থিরতা। আশা করি ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সবাই এ নিয়ে আন্তরিকতার সহিত ভেবে চিন্তে দেখবেন।
লেখক : মুক্তিযোদ্ধা, কলামিস্ট, সাবেক ব্যাংকার

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ভারতের জাতীয় উন্নয়ন ও ভারত মহাসাগর
  • জীবনে শৃঙ্খলাবোধের প্রয়োজনীয়তা
  • চলুক গাড়ি বিআরটিসি
  • জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবেলায় আমাদের করণীয়
  • নির্ধারিত রিক্সাভাড়া কার্যকর হোক
  • নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা
  • খাদ্যে ভেজাল রোধে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে
  • মুর্তাজা তুমি জেগে রও!
  • সন্তানের জীবনে বাবার অবদান
  • এবার কুম্ভকর্ণের নিদ্রা ভংগ হোক
  • বন উন্নয়নে মনোযোগ বাড়ুক
  • একজন অধ্যক্ষের কিছু অবিস্মরণীয় প্রসঙ্গ
  • গ্রামাঞ্চলে বৃক্ষ রোপণ
  • শান্তির জন্য চাই মনুষ্যত্বের জাগরণ
  • উন্নয়ন ও জনপ্রত্যাশা পূরণের বাজেট চাই
  • মোদীর বিজয় : আমাদের ভাবনা
  • অধিক ফসলের স্বার্থে
  • টেকসই উন্নয়ন ও অভিবাসন সমস্যা ও সমাধানে করণীয়
  • সড়ক দুর্ঘটনা
  • চীনের বিশ্বশক্তির প্রত্যাশা ও ভারত মহাসাগর
  • Developed by: Sparkle IT