উপ সম্পাদকীয় দৃষ্টিপাত

প্রাচীন বাংলার জনপদ

রঞ্জিত কুমার দে প্রকাশিত হয়েছে: ১০-০৬-২০১৯ ইং ০০:১৮:২৮ | সংবাদটি ৩০ বার পঠিত

প্রাচীনকালে গাঙ্গেয় সমতল এলাকায় কোন অখন্ড রাজ্য বা রাষ্ট্র ছিলোনা। জনপদের বিস্তরনের ভিত্তিতে বিভিন্ন জনপদ বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিলো। সময়ের আবর্তে ঐ সকল জনপদের কিছু কিছুর বিলুপ্তি বা নামের পরিবর্তন ঘটলেও বংগ, পুন্ড্র, রাঢ়, গৌড়, সমতট হরিকেল জনপদের নাম ঐতিহাসিক কারণে অত্যন্ত খ্যাত এবং পরিচিত। এসব জনপদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন জনপদ পুন্ড্র। বাংলাদেশের বরেন্দ্র এলাকাকে ঘিরেই ছিলো পুন্ড্র জনপদ। পুন্ড্র জনপদের রাজধানী ছিলো বগুড়া জেলাস্থ মহাস্থানগড়। অন্যান্য জনপদের মধ্যে হরিকেল এর অবস্থান ছিলো সিলেট অঞ্চলকে ঘিরে। দক্ষিণ ভাগের উপকূলীয় অঞ্চল সমতট নামে খ্যাত ছিলো। সমতল ভূমির পশ্চিম ভাগ ছিলো রাঢ় জনপদ। অজয় নদীর দ্বারা বিভক্ত রাঢ়-উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ় নামে পরিচিত ছিলো। রাঢ় জনপদের দক্ষিণ এলাকার নাম ছিলো তা¤্রলিপি ও দন্ডভূক্তি। তা¤্রলিপি প্রাচীন বাংলার একটি বাণিজ্য কেন্দ্ররূপে পরিচিতি লাভ করেছিলো।
ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী বংগ এ অঞ্চলের একটি অতি প্রাচীন জাতির নাম। ভারতবর্ষে আর্যদের আগমনের বহুকাল পূর্ব থেকে বঙ্গীয় সমতল এলাকায় তাদের বসতি ছিলো। বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার ওয়ারী বটেশ্বর এবং পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার অজয় নদীর তীরে অবস্থিত নৃতাত্ত্বিক নিদর্শন তারই প্রমাণ বহন করে। গাঙ্গেয় সমতল ভূমিতে বসবাসকারী এই বঙ্গ জাতির বসতি এলাকাই পরবর্তীতে বঙ্গ ভূমি নামে পরিচিতি লাভ করে।
ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্টের কারণে বঙ্গভূমি নদী মাতৃক। এ-অঞ্চলের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত প্রধান প্রধান নদী সমূহ অসংখ্য উপ-নদীর প্রবাহ দ্বারা পুষ্ঠ। আর অগণিত শাখা নদী সমূহ জালের ন্যায় বিন্যস্ত থেকে সমগ্র এলাকার পানি প্রবাহকে দ্রুততম সময়ে সাগরে নিক্ষেপের কাজ সম্পাদন করে থাকতো। এখানকার নদী, উপ-নদী ও শাখা নদী সমূহ শিরা উপশিরার ন্যায় সমগ্র এলাকা জুড়ে বিন্যস্ত। এমন বৈশিষ্ট্য পৃথিবীর অন্য কোথাও বিরল।
নদী সমূহ পলি মাটির সঞ্চয় ও বিস্তরণ ঘটিয়ে ভূমিকে সর্বদা উর্বর করার কাজে নিয়োজিত থাকতো। তাই গাঙ্গেয় সমতল এলাকা সুদূর প্রাচীনকাল থেকে সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা রূপে খ্যাতি লাভ করেছিলো। প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যই এই অঞ্চলকে করেছে কৃষিতে প্রাচুর্যময়। যে কারণে কৃষিই এ-অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা নির্বাহের সহজ উপায়রূপে পরিগণিত হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। বাংলাদেশ ভূখন্ডের সমতল ভূমি এলাকার মধ্যবর্তী অংশে সমতল ভূমি অপেক্ষা অনেকটা উঁচু তিনটি বিচ্ছিন্ন এলাকা বিদ্যমান। এই তিনটি এলাকা ভূ-তাত্ত্বিক বর্ষপঞ্জীর প্লায়সটোমিন উপযুগে সৃষ্টি হয়েছে বলে ভূ-তত্ত্ববিদদের অভিমত। অনুমান করা হয় যে এই তিনটি উচ্চ ভূমি বর্তমান সময় হতে ৫ থেকে ৭ লক্ষ বছর আগে সমুদ্র পৃষ্ঠের উপর জেগে উঠেছিলো। অর্থাৎ সে সময় সমুদ্র জলরাশির উচ্চতা এই চত্ত্বর ভূমির উচ্চতায় অবস্থিত ছিলো আর এই তিনটি অঞ্চলকে ঘিরে গড়ে উঠেছিলো নানা ঐতিহাসিক ও প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন।
আমাদের দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকা সমূহ সমভূমি সৃষ্টির বহুপূর্বে সৃষ্টি হয়েছিলো। ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে মহাদেশীয় প্রস্থানের সময় গন্ডোয়ানা ল্যান্ডের উত্তরমুখী প্রচন্ড চাপে টেমিস সাগরের তলদেশে সঞ্চিত পলি ভাঁজ হয়ে উপরের দিকে উত্তোলিত হবার কারণে হিমালয় পর্বতমালাসহ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অপরাপর ভঙ্গিল বা ভাঁজ পর্বত সমূহের সৃষ্টি। অর্থাৎ বর্তমান সময় থেকে প্রায় ৭ কোটি বছর আগে এ সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছিলো।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ভারতের জাতীয় উন্নয়ন ও ভারত মহাসাগর
  • জীবনে শৃঙ্খলাবোধের প্রয়োজনীয়তা
  • চলুক গাড়ি বিআরটিসি
  • জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবেলায় আমাদের করণীয়
  • নির্ধারিত রিক্সাভাড়া কার্যকর হোক
  • নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা
  • খাদ্যে ভেজাল রোধে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে
  • মুর্তাজা তুমি জেগে রও!
  • সন্তানের জীবনে বাবার অবদান
  • এবার কুম্ভকর্ণের নিদ্রা ভংগ হোক
  • বন উন্নয়নে মনোযোগ বাড়ুক
  • একজন অধ্যক্ষের কিছু অবিস্মরণীয় প্রসঙ্গ
  • গ্রামাঞ্চলে বৃক্ষ রোপণ
  • শান্তির জন্য চাই মনুষ্যত্বের জাগরণ
  • উন্নয়ন ও জনপ্রত্যাশা পূরণের বাজেট চাই
  • মোদীর বিজয় : আমাদের ভাবনা
  • অধিক ফসলের স্বার্থে
  • টেকসই উন্নয়ন ও অভিবাসন সমস্যা ও সমাধানে করণীয়
  • সড়ক দুর্ঘটনা
  • চীনের বিশ্বশক্তির প্রত্যাশা ও ভারত মহাসাগর
  • Developed by: Sparkle IT