সম্পাদকীয় তোমার আবেদন আল্লাহ তায়ালা মঞ্জুর করবেন, অন্তরে এরূপ দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে তার কাছে প্রার্থনা করো। -আল হাদিস

ই-বর্জ্যরে আগ্রাসন

প্রকাশিত হয়েছে: ১০-০৬-২০১৯ ইং ০০:১৯:৩৫ | সংবাদটি ৩৮ বার পঠিত

হুমকি হয়ে উঠছে ই-বর্জ্য। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে বাড়ছে ইলেক্ট্রনিক পণ্যের ব্যবহার। আর সেই সাথে বাড়ছে ই-বর্জ্য। আর এই ই-বর্জ্য আমাদের পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে। সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় ই-বর্জ্য সারা বিশ্বেই পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দেশের জন্য তো ই-বর্জ্য রীতিমতো ভয়াবহ বিপর্যয়। অথচ এই ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করলে এই সমস্যা হতো না। আর প্রযুক্তিবিদ এবং উৎপাদকরা চাইলে ই-বর্জ্যরে শতভাগই পুনর্ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু সেই ব্যবস্থাপনা নেই অনেক দেশেই। বিশেষ করে পরিত্যক্ত মোবাইল ফোন থেকে সৃষ্ট ই-বর্জ্য ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। সরকার অবশ্য ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আইনের খসড়া তৈরি করেছে। আইনে ধাপে ধাপে পাঁচ বছরে দেশে উৎপাদিত ই-বর্জ্যরে ৫০ শতাংশ ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনার কথা বলা হয়েছে। আইনটি পাস হলে ই-বর্জ্যরে ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
জাতিসংঘের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি বছর বিশ্বে তৈরী হচ্ছে পাঁচ কোটি টন ই-বর্জ্য। বছরে ৬২ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের স্মার্ট ফোন, কম্পিউটারসহ নানা ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্য বিনষ্ট হচ্ছে। এগুলোই ই-বর্জ্য হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। আর এই ই-বর্জ্য পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি। কারণ এই ই-বর্জ্যগুলো ভূমিতে ফেলে দেয়ার ফলে এ থেকে নানা ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতি বছর উৎপাদিত লাখ লাখ টন ই-বর্জ্যরে মাত্র ২০ শতাংশ পুনর্ব্যবহার করা হয়। জানা গেছে, ই-বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ করা না হলে আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ সারা বিশ্বে ই-বর্জ্য উৎপাদন হবে ১২ কোটি টন। বাংলাদেশেও ই-বর্জ্যরে ভয়াবহতা বেড়ে চলেছে। সরকারী হিসেবে দেখা গেছে, গত বছর (২০১৮) দেশে ই-বর্জ্যরে পরিমাণ ছিলো চার লাখ মেট্রিক টন। ২০৩০ সালে এর পরিমাণ দাঁড়াবে ২৫ লাখ মেট্রিক টন। আর ২০৩৫ সালে হবে ৪৬ লাখ মেট্রিক টন। এখানে রিসাইক্লিং হচ্ছে মাত্র তিন শতাংশ বর্জ্য। বাকি ৯৭ শতাংশই পরিবেশের সঙ্গে মিশে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে ই-বর্জ্যরে সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়ামসহ বিভিন্ন ভারী ধাতু পরিবেশের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে এবং খাদ্যচক্রের মাধ্যমে প্রবেশ করছে মানবদেহে, যা থেকে জন্ম হচ্ছে দূরারোগ্য ব্যাধি।
রিসাইক্লিংই হচ্ছে ই-বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের সর্বোত্তম উপায়। কিন্তু রিসাইক্লিং বা পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশ্বের সকল দেশই পিছিয়ে রয়েছে। দেখা গেছে বিশ্বে এখনও গড়ে মাত্র ২০ শতাংশ ই-বর্জ্য পুনব্যবহার করা হচ্ছে। আর বাংলাদেশে এই হার উল্লেখ করার মতো নয়। ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আইন হয়েছে। আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে ই-বর্জ্য আর ‘বর্জ্য’ হিসেবে থাকবে না, এমনটি আশা করছে সরকারের সংশ্লিষ্টরা। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে সচেতনতা। ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক পণ্য যাতে যেখানে সেখানে ফেলা না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। আর রিসাইক্লিং এর উদ্দেশ্যে এগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT