স্বাস্থ্য কুশল

এ সময়ের অসুখবিসুখ

এ বি এম আবদুল্লাহ প্রকাশিত হয়েছে: ১০-০৬-২০১৯ ইং ০০:২৪:১৪ | সংবাদটি ১৭৫ বার পঠিত

এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদ আনন্দ এখন সমাগত। এই ঈদ আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ খাবারদাবার হলেও একটু নজর দেওয়া দরকার-আমরা কী খাচ্ছি, কতটুকু খাচ্ছি, বিভিন্ন খাবারের প্রতিক্রিয়া কী তার ওপর। হঠাৎ খাদ্যাভ্যাসের কিছু পরিবর্তনের জন্য অনেকেই কিছু শারীরিক অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারেন। এই সময় কিছু রোগ সমস্যাও তৈরি করতে পারে। যেমনÑ
বদহজম : বদহজম বা পেটের সমস্যাই হলো এই সময়ের সাধারণ সমস্যা। বিশেষ করে আগে থেকে যাদের গ্যাস্ট্রিক বা পেটের পীড়ার সমস্যা থাকে, তারা ভোগেন বেশি। এটা থেকে রক্ষা পেতে মূল খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি পান করবেন না। বরং খাবার খাওয়ার আধা ঘণ্টা পর পানি পান করুন। এভাবে সারা দিন পর্যাপ্ত পানি ও তরল পান করুন। যাদের বদহজম হয়, তাঁরা সালাদজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। তবে সিদ্ধ সবজি খেতে পারেন। আদা চা আর পুদিনাপাতার চা হজমে সহায়ক। সবুজ চা বা গ্রিন টিও ভালো। যাদের এসিডিটির সমস্যা, গ্যাসের ব্যথা, পেটে চাপবোধের সমস্যা আছে, তাদের জন্য এ ধরনের চা উপকারী।
কোষ্ঠকাঠিন্য : শরীরে পানি ও তরলের স্বল্পতা, আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম কম করার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। এ জন্য আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ বাড়াতে বেশি করে শুকনো ফল, যেমন- খেজুর, কিশমিশ খান। বেল ও বেলের শরবতও খেতে পারেন। ঈদের আগের রাতে বা ঈদের সকালে ইসবগুলের ভুসি পানিতে মিশিয়ে খেয়ে নিতে পারেন। সকালে ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে সেমাই, পায়েসের সঙ্গে ফলের রস খেতে পারেন। যতটুকু সম্ভব হাঁটাচলা বা কায়িক পরিশ্রম করুন। তবে তা যেন অতিরিক্ত না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখুন।
দুর্বলতা : দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার কারণে শরীরের রক্তচাপ খানিকটা কমে যায়। যাদের বেশি কমে যায়, তাদের বেশি দুর্বলতা বোধ হয়। দুর্বলতা যেন অতিরিক্ত না হয়, সে জন্য স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি দুধ, দই, স্যুপ এ ধরনের খাবার খান। শরীরে যেন পানিস্বল্পতা না দেখা দেয়, সেদিকে লক্ষ রাখুন। ডাবের পানি খুব দ্রুত শরীরের খনিজ লবণের ঘাটতি দূর করতে পারে। তাই সম্ভব হলে ডাবের পানি পান করুন।
মাথা ব্যথা : এক মাস অভুক্ত থাকার প্রবণতায় অনেকেরই হঠাৎ মাথা ধরতে পারে। বিশেষ করে গরমে শরীর থেকে সহজেই ঘামের মাধ্যমে লবণ ও পানি বের হয়ে যায়। পানিস্বল্পতাও মাথা ব্যথার অন্যতম কারণ। এ জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করুন, পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
বুকজ্বলা : যাদের এসিডিটি বা বুকজ্বলা সমস্যা আগে থেকেই আছে এবং ওষুধ সেবন করতে হয়, তারা তৈলাক্ত খাবার, ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার, টমেটো সস, টক স্বাদযুক্ত ফল ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন। বুকজ্বলা থেকে বাঁচতে কফি, কোমল পানীয় ও কমলার জুস পান না করাই ভালো। কোনো খাবারই একবারে বেশি খাবেন না। খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খান। দুই বেলা খাবারের আধা ঘণ্টা আগে আলসারের ওষুধ যেমন-ওমিপ্রাজল, ইসমিপ্রাজল, রেনিটিডিন ইত্যাদি খেয়ে নিতে পারেন। প্রয়োজনে খাবার পর দুই চামচ এন্টাসিড খেতে পারেন। রাতে খাবার পরপরই ঘুমাতে যাবেন না, কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করতে পারেন। এর এক-দুই ঘণ্টা পর ঘুমাতে যান। সবার জন্যই খাবার হওয়া উচিত কম মসলাযুক্ত, কম তৈলাক্ত, ভালোভাবে রান্না করা খাবার।
রোগীদের জন্য বাড়তি সতর্কতা :
মাঝবয়সী, বয়োবৃদ্ধ বা যাদের অন্যান্য শারীরিক সমস্যা আছে, যেমন-ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেসার বা হৃদরোগ ইত্যাদি, তাদের খাবারের ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরি। ডায়াবেটিক রোগীকে অবশ্যই মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। তারা বরং টকজাতীয় খাবার খেতে পারেন। সবজি বা টক ফল দিয়ে মজাদার খাবার আগেই বানিয়ে রাখুন, এগুলো আপনাকে অন্য খাবার থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করবে। যথাসম্ভব পোলাও, বিরিয়ানি কম খেয়ে সরাসরি ভাত খাওয়াই ভালো। মুরগি বা গরুর মাংস খাওয়া যাবে, যদি অতিরিক্ত তেল বা চর্বি না থাকে। সঙ্গে কিডনির সমস্যা থাকলে মাংস পরিহার করাই ভালো। খাসি, কলিজা, মগজ, চিংড়ি ইত্যাদি খাবেন না। খাবারের পরিমাণটা ডায়াবেটিক রোগীর জন্য সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে বড় কথা, এসব খাবার এক বেলাই খাওয়া উচিত, অন্য বেলা স্বাভাবিক খেতে হবে। রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এখন একটু বেশি হাঁটাহাঁটি করার অভ্যাস করুন। প্রয়োজনে ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিনের মাত্রা চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে অ্যাডজাস্ট করে নিন। যাদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশি বা উচ্চ রক্তচাপ আছে, অথবা হার্টের সমস্যা আছে অথবা যারা মুটিয়ে যাচ্ছেন, তাদের অবশ্যই তেল ও চর্বিজাতীয় খাবার এড়িয়ে যেতে হবে। তারা ভাজাপোড়া, আগের দিনের বাসি খাবার, মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। কিডনির সমস্যা থাকলে প্রোটিনজাতীয় খাদ্য যেমন- মাছ, মাংস অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দিনে দুই টুকরার বেশি নয়। ফল খাবার ব্যাপারেও তাদের নিষেধাজ্ঞা থাকে।
মোট কথা, ঈদের পর খাবার খেতে হবে একটু রয়েসয়ে। তবে মূল সমস্যাটা হলো, খাবারের পরিমাণ নিয়ে। অনেকে হঠাৎ বেশি খেয়ে ফেলে। অনেকেই প্রচুর পরিমাণ তৈলাক্ত বা চর্বিযুক্ত খাবার খেয়ে হজম করতে পারে না। ফলে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে।

শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  • এডিস মশা ডেঙ্গু ছড়ায়
  • রোগ প্রতিরোধে আনারস
  • স্থূলতা : এখনই ব্যবস্থা জরুরি
  • মেহেদীর কতো গুণ
  • যে সব খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
  • শিশুকে ওষুধ দিন বয়স ও ওজন অনুযায়ী
  • জ্বর কমার পরের সময়টা ঝুঁকিপূর্ণ
  • কম্পিউটারজনিত চক্ষু সমস্যা
  • ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া জ্বরের লক্ষণ
  • ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায়
  • সুস্থ থাকতে ওজন নিয়ন্ত্রণ
  • স্মার্টফোনের প্রতি শিশুদের আসক্তিতে ভয়ানক ঝুঁকি!
  • বন্যায় স্বাস্থ্য সমস্যা : করণীয়
  • কম বয়সেও স্ট্রোক হতে পারে
  • থানকুনির রোগ নিরাময় গুণ
  • সাপের কামড় : জরুরী স্বাস্থ্য সমস্যা
  • প্রাকৃতিক মহৌষধ মধু
  • চোখ দিয়ে পানি পড়া
  •   তরুণদের মনোরোগ ও পরিবার
  • ঘাড় ব্যথায় করণীয়
  • Developed by: Sparkle IT