স্বাস্থ্য কুশল

তুলসীর গুণাগুণ

মুন্সি আব্দুল কাদির প্রকাশিত হয়েছে: ১০-০৬-২০১৯ ইং ০০:২৭:০৯ | সংবাদটি ৪৬৩ বার পঠিত

তুলসী গাছ আমরা সবাই কম বেশী চিনি। অযতেœই সাধারণত এই গাছ হয়ে থাকে। আমাদের দেশে ৪ প্রকারের তুলসী লক্ষ্য করা যায়। বাবুই তুলসী, রাম তুলসী, সাদা তুলসী ও কাল তুলসী। তবে বেশীর ভাগই সাদা তুলসী ও কালো তুলসী চোখে পড়ে। আমাদের দেশে হিন্দু সম্প্রদায় এই গাছকে পবিত্র মনে করে বসত বাড়ির আঙ্গিনায় যতœ করে লাগিয়ে থাকে। সব জাতের তুলসীর গুণাগুণ প্রায় একই। যে বাড়িতে তুলসী গাছ বেশী থাকে সে বাড়িত মশা থাকে না। এক পলকে আমরা তুলসীর নানাবিধ ব্যবহার জেনে নেই :
প্রশ্রাবের সমস্যা : তুলসী পাতা পানিতে কচলিয়ে চিনি মিশিয়ে খেলে প্রশ্রাবজনিত সমস্যায় খুব উপকার হয়। এমনকি প্রশ্রাবের ক্ষতও সেরে যায়।
হাম বা বসন্ত : হাম বা বসন্তের কালো দাগে তুলসী পাতার রস ব্যবহার করলে কালো দাগ চলে যায়। হাম বা বসন্ত উঠতে দেরী করলে পাতার রস খেলে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যায়।
দাদ : পাতার রসে লবন মিশিয়ে দাদে লাগালে দাদ ভাল হয়ে যায়।
ব্রংকাইটিস, হাঁপানি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, কফ এবং কোল্ড এলার্জি : কাল তুলসীর সাথে আমাদের ফুসফুসের মিল রয়েছে। পাতার রস ব্রংকাইটিস, হাঁপানি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, কফ এবং কোল্ড এলার্জির চিকিৎসায় উপকার হয়। এসব সমস্যায় কালো তুলসী পাতার রসের সাথে একটু মধু ও আদা মিশিয়ে সেবন করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। ইনফ্লুয়েঞ্জার ক্ষেত্রে তুলসী পাতার সাথে লবঙ্গ ও খাবার লবন ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়।
পিত্ত : কালো তুলসী পাতার বর্ণ পিত্তের বর্ণের সাথে মিল রয়েছে। কালো তুলসী পাতা পিত্তের বিভিন্ন রোগে খুবই উপকারী। পিত্তের রোগ নিরসনে ১-৩ চামচ কালতুলসী পাতার রস অথবা ১.৫০-৩ গ্রাম পাউডার সেবন করতে হবে।
সর্দি জ¦র : গরম দুধের সাথে ১০ ফোটা তুলসী পাতার রস এবং ১০ ফোটা আদার রস মিশিয়ে সকাল বিকাল খেলে সর্দি জ¦র ভাল হয়ে যায়।
শিশুর সর্দি কাশি : অনেক শিশু আছে প্রায়ই সর্দি কাশিতে ভোগে। তাদের প্রতিদিন সকালে ৫-১০ ফোটা তুলসী পাতার রসের সাথে ৩-৫ ফোটা মধু মিশিয়ে খাওয়ালে ভাল হয়। শুধু শিশুরা নয় যে কোন বয়সের লোকেরা এটি ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়।
নাক বন্ধ : শ্লেষ্মার কারণে নাক বন্ধ হয়ে গেলে কোন গন্ধ পাওয়া যায় না। এমন অবস্থায় তুলসীর শুকনো পাতার গুঁড়োর নস্যি ব্যবহার করলে সেরে যায়।
কর্ণ বেদনা : তুলসী পাতার রস ৩-৪ ফোটা সামান্য গরম করে দিনে ২-৩ বার কানে দিলে কর্ণ বেদনা ভাল হয়ে যায়।
কৃমি : তুলসী পাতার রস ২ চা চামচ, লেবুর রস ১ চা চামচ মিশিয়ে প্রতিদিন ২-৩ বার সেবন করলে সব ধরনের কৃমি রোগে উপকার পাওয়া যায়।
ঘামাচি ও চুলকানি : তুলসী পাতা ও দুর্বা ঘাসের ডগা সম পরিমাণ নিয়ে ভালভাবে পিষে প্রয়োজন মত গায়ে মাখলে ঘামাচি ও চুলকানি ভাল হয়ে যায়।
দূষিত রক্ত : শরীরের দূষিত রক্ত শোধনে তুলসী পাতার রস কিছু দিন সেবন করলে উপকার পাওয়া যায়।
শুক্রমেহ : বাবুই তুলসীর বিচি পানিতে ভিজিয়ে নাড়াচাড়া করলে যে লালবস্তু পাওয়া যায় তা শুক্রমেহ রোগে উপকার হয়।
রক্ত আমাশয় : বাবুই তুলসীর শেকড় পানের সাথে খেলে রক্ত আমাশয়ে উপকার পাওয়া যায়।
ধ্বজভঙ্গ : তুলসীর শিকড়ের চূর্ণ পানের রসের সাথে খেলে রোগ ভাল হয়।

শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  • ঠান্ডায় নাক বন্ধ হলে করণীয়
  • শশার গুণাগুণ
  • রোগ প্রতিরোধে কমলা
  • শিশুর খাবার
  • ডা. এ হাসনাত শাহীন অসুস্থ শিশুর যত্ন নিচ্ছেন মা
  • শীতে যেসব রোগের প্রকোপ বাড়ে
  • শীতকালে নাক, কান ও গলার সমস্যা
  • অ্যান্টিবায়োটিক এক অদৃশ্য ‘মহামারি’র নাম
  • তাফসিরুল কোরআন
  • ইসলামের চতুর্থ খলিফা হজরত আলী (রা.)
  • আল্লামা তাহির আলী তহিপুরী (র.)
  • মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.) -এর ভূমিকা
  • টেস্টিং সল্ট: মানবদেহের নীরব ঘাতক
  • ফুলকপির যত গুণ
  • স্বাস্থ্যকর ঘুমের নিয়মকানুন
  • নাক কান গলার ক্যান্সার
  • শীতের শুরুতে...
  • আপনার শিশুর বেড়ে ওঠা
  • সাধারণ রোগেই আমরা ভীত হয়ে যাচ্ছি কেন?
  • গর্ভকালীন কিছু কমন সমস্যা ও করণীয়
  • Developed by: Sparkle IT