উপ সম্পাদকীয় খোলা জানালা

শিশুর জন্য নৈতিক শিক্ষা

মোঃ আবদুল আউয়াল প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০৬-২০১৯ ইং ০০:০৫:০৮ | সংবাদটি ২৮ বার পঠিত

যে গুণাবলী শিশুদের চরিত্রকে সৌন্দর্যমন্ডিত করে, সেগুলোর মধ্যে নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ। নৈতিকতা প্রকৃতপক্ষে মানবজীবনে সুনাম ও যশের দীপশিখা প্রজ্জ্বলিত করে। এ গুণ কেউ জন্মগতভাবে নিয়ে আসেনা। নিবিড় অনুশীলনের মাধ্যমে তা অর্জন করতে হয়। নৈতিকতা শিক্ষার সর্বোৎকৃষ্ট সময় ছাত্রজীবন। বাস্তবতার নিরিখে এ গুণ মানুষের মধ্যে সৌজন্যবোধ জন্মায়। আর সৌজন্যবোধ থেকেই মানুষের জীবন মহিমান্বিত হয়ে ওঠে। তাই মানবজীবনে নৈতিকতার গুরুত্ব অপরিসীম।
একটি কথা আমরা অবশ্যই জানি যে, মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। আর এই শ্রেষ্ঠত্ব বিকাশ লাভ করে তার নৈতিকতাপূর্ণ কার্যকলাপ এবং দৈনন্দিন জীবনের আচার-আচরণের মধ্য দিয়ে। অপরের প্রতি ন¤্র, ভদ্র, সদয়, সুমিষ্ট ও মার্জিতপূর্ণ ব্যবহারকেই নৈতিকতার বহিপ্রকাশ হিসেবে বিশেষভাবে গণ্য হয়ে থাকে। সংক্ষেপে বলতে গেলে নৈতিকতার পরিচয় প্রস্ফুটিত হয় একমাত্র মানুষের কার্যকলাপের মধ্য দিয়েই। মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। তারই ফলশ্রুতিতে মানুষের সম্পর্ক ঘনিষ্টতর হয়ে ওঠে। তাছাড়া, দৈনন্দিন জীবনাচরণে একজন অন্যজনের সাথে বিভিন্নভাবে সংশ্লিষ্ট। এ চিরন্তন সংযোগের ফলে একজনের আচার-আচরণের বৈশিষ্ট্য অন্যজনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। এ বাস্তব সত্য বিষয়টি কোনক্রমেই অস্বীকার করার কোন জো নেই। মানুষ যেরূপ বন্ধু-বান্ধবের সাথে চলাফেলা করে তার আচার-আচরণও সেরূপ হয়ে থাকে। সে কারণেই যুগ যুগ ধরে শুধু শিশু-কিশোররাই নয়, সকল বয়সের মানুষই সৎসঙ্গের প্রয়োজনীয়তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করে এসেছে। কবি শেখ সাদী (রহ:) এর একটি বিখ্যাত উক্তি রয়েছে, ‘সৎসঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎসঙ্গে সর্বনাশ’। কাজেই একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সৎসঙ্গের প্রভাবে নিজের জীবনের অপূর্ণতা ও ত্রুটিমুক্ত হয় এবং চরিত্র নির্মল ও নিষ্কলুষ হয়।
এ স্বল্পায়ু সংসার জীবনে যে সব তিন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের প্রয়োজন হয়, টাকা থাকলেই তা ক্রয় করা যায়, কিন্তু টাকার বিনিময়ে যা ক্রয় করা যায় না তাহলো নৈতিক গুণাবলী। গুণাবলী কঠোর সাধনা, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও অনুশীলনের ফলে অর্জন করতে হয়। তাই টাকা থাকলেই মানুষের চরিত্রকে সুন্দর করে গড়ে তোলা যায় না। এ পৃথিবীতে যারা সুন্দর চরিত্রের অধিকারী হয়েছেন, তাঁরা তাঁদের সাধনালব্ধ চরিত্র দিয়েই তা করেছেন। মূলত মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কর্মকান্ডের মাধ্যমেই নৈতিক শিক্ষার বৈশিষ্ট ও আলোকবর্তিকা ফুটে উঠে। কথা-বার্তা, চাল-চলন, আচার-ব্যবহার ইত্যাদি ছাড়াও আহার-বিহার ও পোষাক-পরিচ্ছদের মাধ্যমে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের নিখুঁত রূপটি নির্মেঘ আকাশের চাঁদের মত দৃষ্টিতে ধরা পড়ে। প্রকৃতপক্ষে, শিষ্টাচার ও নৈতিক চরিত্রের অনুশীলনের মাধ্যমেই ব্যক্তি জীবন ও বংশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা যায়।
জীবন চলার পথে আমাদের একটি কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, নীতি এবং নৈতিক শিক্ষা শিশুদের জীবন গঠনের জন্য অপরিহার্য। নীতি হলো কথা ও কাজে সৎ, সুন্দর ও মার্জিত আচার-আচরণ করা। কোনরূপ অন্যায় কাজকর্মের অনুশীলন থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকা। কারণ, নীতিহীন মানুষ চিরদিনই পশুতুল্য।
যে ব্যক্তি চলাফেরা ও কথাবার্তায় নীতির অনুসরণ করে না, সমাজের সকলে তাকে ঘৃণা করে। অপরপক্ষে, নীতিবান মানুষকে সবাই ভালবাসে। সকলে তাকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে শ্রদ্ধা করে, সম্মান করে। প্রকৃতপক্ষে চরিত্রের গুরুত্ব অপরিসীম ও অনস্বীকার্য। চারিত্রিক দৃঢ়তা ও সততাই মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে, সত্য কথা বলতে এবং সমাজে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে সর্বোতভাবে সহায়তা করে। যে জাতি চারিত্রিক দিক দিয়ে অসৎ ও দুর্নীতিবাজ, অসত্য, অন্যায় ও অবিচারের প্রশ্রয়দাতা, সে জাতি কখনোই উন্নতি করতে পারে না।
অন্যদিকে যে জাতি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত, সৎ ও ন্যায়পরায়ণ, সত্য ও ন্যায়ের অনুসারী, সে জাতিই কেবল অগ্রগতির পথে নির্বিঘেœ এগিয়ে যেতে পারে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স:) ছিলেন সর্বোত্তম ন্যায়-নীতির অধিকারী। তিনি সদা সর্বদা উম্মতগণকে নীতি নৈতিকতা শিক্ষা দিতেন এবং নিজে অনুশীলন করতেন। উত্তম চরিত্র নীতির জন্য শত্রুরাও তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করতেন।
অপরপক্ষে, নৈতিক চরিত্রে যার ঘাটতি আছে তার জীবনে কিছুই নেই। সে সকলের ঘৃণার পাত্র। মানব সমাজে তার স্থান নেই। সে মনুষ্য নামের অযোগ্য। আর নৈতিক চরিত্র মানুষকে আশরাফ-আতরাফ ব্যবধান ভুলে গিয়ে সমাজে সাম্য ও শান্তি ধারাকে গতিশীল করে। নৈতিক শিক্ষায় বলীয়ান হলে, সকল কাজে সফলতা আসে। ফলে, জীবন হয় সার্থক ও সাফল্যমন্ডিত।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ভারতের জাতীয় উন্নয়ন ও ভারত মহাসাগর
  • জীবনে শৃঙ্খলাবোধের প্রয়োজনীয়তা
  • চলুক গাড়ি বিআরটিসি
  • জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবেলায় আমাদের করণীয়
  • নির্ধারিত রিক্সাভাড়া কার্যকর হোক
  • নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা
  • খাদ্যে ভেজাল রোধে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে
  • মুর্তাজা তুমি জেগে রও!
  • সন্তানের জীবনে বাবার অবদান
  • এবার কুম্ভকর্ণের নিদ্রা ভংগ হোক
  • বন উন্নয়নে মনোযোগ বাড়ুক
  • একজন অধ্যক্ষের কিছু অবিস্মরণীয় প্রসঙ্গ
  • গ্রামাঞ্চলে বৃক্ষ রোপণ
  • শান্তির জন্য চাই মনুষ্যত্বের জাগরণ
  • উন্নয়ন ও জনপ্রত্যাশা পূরণের বাজেট চাই
  • মোদীর বিজয় : আমাদের ভাবনা
  • অধিক ফসলের স্বার্থে
  • টেকসই উন্নয়ন ও অভিবাসন সমস্যা ও সমাধানে করণীয়
  • সড়ক দুর্ঘটনা
  • চীনের বিশ্বশক্তির প্রত্যাশা ও ভারত মহাসাগর
  • Developed by: Sparkle IT