ইতিহাস ও ঐতিহ্য

হারিয়ে যাচ্ছে হিজল গাছ

মো. শরীফ প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০৬-২০১৯ ইং ০০:০৮:৪৭ | সংবাদটি ৩৮ বার পঠিত

সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হাওর অঞ্চলে এক সময় চোখে পড়তো দৃষ্টিনন্দন হিজল বন। হিজল বনে শুধু হিজল গাছই ছিল না, ছিল তমাল, করচ, বরুণ ও নানা প্রজাতির মূল্যবান গাছ। এসব গাছ যেমন পানিতে বেঁচে থাকতে পারে তেমনি প্রচন্ড খরায়ও মরে না। বর্ষাকালে হিজল বন বর্ষার পানিতে ডুবে যায়, ভেসে থাকে গাছের অগ্রভাগ মাত্র। জেলেরা হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়লে নৌকা হিজল ও অন্যান্য গাছের সঙ্গে বেঁধে জান বাঁচাতেন। মাছ, সাপ ও পাখি আশ্রয় নিতো এসব গাছে। প্রাকৃতিক শোভা ও সৌন্দর্য বর্ধনকারী এসব গাছ আজ হাওর থেকে প্রায় হারিয়েই গেছে বলা চলে।
অষ্টগ্রামের কালনী নদীর তীরে, মিটামইন থানার দিল্লীর আখড়া, বানিয়াচং থানার ভিতলং আখড়ায় গেলে এখনও কিছু হিজল গাছ চোখে পড়ে। তবে গাছগুলো অযতœ আর অবহেলায় মুমূর্ষ প্রায়। এক শ্রেণির জেলে প্রতিবছরই ডালপালা কেটে নদীতে মাছের আশ্রয় কেন্দ্র তৈরির ঘাটা হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। ফলে গাছগুলো যেন ডালপালা মেলতেই পারে না। অন্যদিকে কাঠ কেটে নিয়ে লাকড়ি করে বিক্রি করে দেবারও নজির আছে। শুধু তাই নয়, হিজল করচ বন বাঁচানোর জন্য নেই কোন সরকারি উদ্যোগ, যা করা হয়েছে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর ও শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওর রক্ষার ক্ষেত্রে। টাঙ্গুয়ার হাওরকে ‘আন্তর্জাতিক হ্যারিটেজ’ এর অংশ হিসেবে ঘোষণা দেয়ায় তা আজ একটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে যাচ্ছে।
প্রতিবছর এখানে আসে হাজার প্রজাতির দেশিয় ও অতিথি পাখি। এখন প্রায় একশো প্রকারেরও বেশি প্রজাতির মিটা পানির মাছ পাওয়া যায় টাঙ্গুয়ার হাওরে। এসব সম্ভব হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপের ফলে। হাওরের এই হিজল-করচ বন রক্ষায় যথাযথ কর্তৃপক্ষ সমীপে কিছু প্রস্তাব উপস্থাপন করছি।
১. সরকারি উদ্যোগে হিজল, তমাল, করচ ও বরুণ গাছসহ নানা গাছ হাওরে লাগানোর উদ্যোগ নিতে হবে। ২. এসব গাছ বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার জন্য কৃষি ও বন বিভাগকে এর নার্সারি তৈরি করে চারাগাছ জনগণকে সরবরাহ করতে হবে। ৩. এনজিওগুলো হাওরে বনাঞ্চল তৈরির কাজ হাতে নিতে পারে। ৪. হিজলসহ এ জাতীয় গাছের চারা লাগানোর জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT