উপ সম্পাদকীয়

চীনের বিশ্বশক্তির প্রত্যাশা ও ভারত মহাসাগর

অ্যাডভোকেট আনসার খান প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৬-২০১৯ ইং ০০:২৬:৪৩ | সংবাদটি ৭১ বার পঠিত

ভারত মহাসাগরের ওপর দখলদারিত্ব এবং প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার জন্য বৃহৎ শক্তিগুলো এবং এমনকি, উদীয়মান শক্তিগুলো পর্যন্ত দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে দেখা গেছে সুদূর অতীতকাল থেকে এবং বর্তমান সময়কালেও চীন-ভারত এ মহাসাগরের ওপর প্রভুত্ব স্থাপনের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত আছে। আর আমেরিকা তো ওখানটায় আধিপত্য করে আসছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে। অবশ্য সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আধিপত্য স্থাপনের প্রতিযোগিতায় আমেরিকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলো সোভিয়েত ইউনিয়ন।
অবশ্য পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় ভারত মহাসাগরে আধিপত্য স্থাপনের প্রতিযোগিতায় আমেরিকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে ওঠেছে উদীয়মান অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি গণচীন। অন্যদিকে, ভারতও বর্তমান সময়কালে উদীয়মান অর্থনৈতিক ও সামারিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং এক্ষেত্রে ভারতের নিকট প্রতিবেশী দেশ চীনকে প্রধান বাধা মনে করছে ভারত। তাই ভারত ও চীনের মধ্যে বৃহৎ শক্তি হওয়ার ক্ষেত্রে একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে এবং এর প্রভাব পড়েছে ভারত মহাসাগরের ওপর। কেননা, বিশ্ব শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের জন্য ভারত মহাসাগরের ওপর প্রাধান্য ও প্রভুত্ব স্থাপন করা অপরিহার্য। চীন-ভারতের এ প্রতিযোগিতায় আমেরিকা ভারতকে সমর্থন যুগিয়ে যাচ্ছে। কারণ, ভারতের মাধ্যমে চীনের অগ্রযাত্রা, বৃহৎ শক্তি হিসেবে উত্থান ও ভারত মহাসাগরে চীনের প্রাধান্য ও প্রভুত্ব স্থাপনের প্রচেষ্টাকে থামিয়ে দিতে চাইছে আমেরিকা।
বৃহৎ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ এবং বৃহৎ শক্তি হিসেবে বিশ্বব্যাপী প্রভুত্ব করার ক্ষেত্রে ভারত মহাসাগরের ভূকৌশলগত অবস্থান, ভূরাজনীতি ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব এতটাই প্রবল যে, এ সাগরের ওপর প্রাধান্যতা স্থাপনে সক্ষম না হলে কোনো রাষ্ট্রের পক্ষে বৃহৎ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করাই অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং এমনকি, কোনো বৃহৎ শক্তি যদি এ সাগরের ওপর তার আধিপত্য ধরে রাখতে না পারে-তাহলে তার বৃহৎ শক্তির মর্যাদা খর্ব হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যে কারণে বর্তমান সময়ের বৃহৎ শক্তিগুলো ভারত মহাসাগরের ওপর আধিপত্য বজায় রাখার জন্য সর্বাধিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
ভারত মহাসাগরের ওপর প্রাধান্য স্থাপনের অপরিহার্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে আমেরিকান সমুদ্র বিশেষজ্ঞ লিয়াল এডমিরাল আলফ্রেড টাহার মাহান ঊনিশ শতকের দিকে বিখ্যাত বক্তব্য রেখেছিলেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেছিলেন-‘যে ভারত মহাসাগরের ওপর প্রভুত্ব এবং প্রাধান্যতা স্থাপন করতে সক্ষম হবে’-সে আন্তর্জাতিক রাজনীতির মুখ্য খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভুত হবে।’ তিনি আরো বলেছিলেন, ‘যে ভারত মহাসাগর নিয়ন্ত্রণ করবে-সে এশিয়ার ওপর প্রভুত্ব করবে। একুশ শতকের পৃথিবীতে সাত মহাসাগরের মধ্যে ভারত মহাসাগর হবে প্রধান নিয়ামক এবং বিশ্বব্যবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই পানি প্রবাহই মুখ্য হয়ে ওঠবে।’
ভারত মহাসাগরের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে আরেক বিশেষজ্ঞ রবার্ট কাপলান বলেছিলেন, ‘বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জলবেষ্টিত ভারত মহাসাগর একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় ভূমিকায় থাকবে। বিশ্বের জ্বালানী নিরাপত্তা ও সংকট, ইসলামের সাথে পশ্চিমা সভ্যতার সংঘাত এবং চীন ও ভারতের মধ্যে শত্রুতা ইত্যাদি বৈশ্বিক সংগ্রামের ক্ষেত্রে ভারত মহাসাগরই হবে প্রধান খেলোয়াড়।’
বিশ্বের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ তৃতীয় বৃহত্তম জলবেষ্টিত ভারত মহাসাগরের অবস্থান সম্পর্কে আলোকপাত করা যেতে পারে। ভারত মহাসাগর এশিয়া, ওশেনিয়া, এন্টার্কটিকা এবং আফ্রিকাকে পৃথক করেছে। বিশ্বের মোট জলধারার শতকরা ২০% শতাংশ জলবেষ্টিত ভারত মহাসাগরের মোট আয়তন হলো ৭৩.৪৪ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার। এ মহাসাগরের উত্তরে পাকিস্তান, ইরান ও ভারত, পশ্চিমে আরবিয়ান পেনিনসুলা ও আফ্রিকা। পূর্বে মালয় পেনিনসুলা, অস্ট্রেলিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণে সাউদার্ন মহাসাগর বা এন্টার্কটিকা।
ভারত মহাসাগর হলো-প্যাসিফিক বা প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর এবং ভূমধ্যসাগরের মধ্যে যাতায়াত ও প্রবেশের কৌশলগত ক্রুসরোড। ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়া এবং ওশেনিয়ার মধ্যে সামুদ্রিক রুট অব কম্যুনিকেশন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত নৌরুট হলো ভারত মহাসাগর। এ মহাসাগরের সামুদ্রিক বন্দরগুলো সারা বছর ধরে কার্যকর বা অপারেশনাল থাকে এবং এটি এতো বেশি গভীর ও প্রশস্থ যে বছরের চার ঋতুতেই এই মহাসাগর দিয়ে জাহাজ, কন্টেইনার চলাচল করতে পারে। এজন্য এ মহাসাগর উন্নত এবং ব্যস্ত এক নৌরুট হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে বিশ্ব পরিমন্ডলে।
বিশ্বের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ভারত মহাসাগর, প্রশান্ত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে অতিক্রম করে ও স্পর্শ করে প্রবাহিত হওয়ার ফলে ভারত মহাসাগর বিশ্বের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ট্রেড করিডর এবং বিশ্বের ভূরাজনৈতিক অবস্থানগত দৃষ্টিতে বিবেচনার ক্ষেত্রে এ মহাসাগরকে প্রধান কৌশলগত সামুদ্রিক করিডর হিসেবে বিশ্বের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।
এটা স্পষ্ট যে, ভূকৌশলগত অবস্থানের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক ট্রেড রুট, অর্থনৈতিক ও জ্বালানী পরিবহনের ট্রেড রুট এবং বিশ্ব ব্যবস্থার নিরাপত্তার জন্য ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ও পাওয়ার পলিটিক্সের জন্য অপরিহার্য বিধায় যুগ যুগ ধরে এ মহাসাগরের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও প্রভুত্ব স্থাপনের জন্য বিশ্ব শক্তিগুলো প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হয়েছে।
বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় এ মহাসাগরের ওপর একক আধিপত্য ছিলো আমেরিকার। কিন্তু এটা সত্য যে, বিশ্ব ব্যবস্থায় ক্ষমতার বহুমুখিতা লক্ষ করা যাচ্ছে, নতুন নতুন শক্তিগুলোর আবির্ভাব হচ্ছে এবং বিশ্বের ক্ষমতার ভরকেন্দ্র পূর্বমুখি হচ্ছে। পূর্বের দুটি শক্তি-চীন ও ভারত এখন বিশ্বের ক্ষমতা বলয়ের কেন্দ্রে ওঠে আসার জন্য জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং রাষ্ট্র দু’টি ভারত মহাসাগরের ওপর প্রাধান্য ও প্রভুত্ব স্থাপনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে।
চীন ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতা বিচারে বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলোর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হওয়ার পর্যায়ে চলে এসেছে এবং ভারতও নিজেকে একটা উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে ভাবছে। চীন এশিয়ার এক পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের জন্য ভারত মহাসাগরের পর একক প্রভুত্ব ও প্রাধান্যতা স্থাপন করতে নানামুখি তৎপরতা শুরু করেছে কয়েক বছর ধরেই।
ভারত মহাসাগর পাড়ের এশিয়া মহাদেশের ১৮ এবং আফ্রিকা মহাদেশের ১৬, অর্থাৎ মোট ৩৪টি রাষ্ট্রের অবস্থান, যার মোট জনসংখ্যা ২.৬ বিলিয়ান, অর্থাৎ বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৩৫% শতাংশই ভারত মহাসাগর পাড়ের বাসিন্দা। কাজেই বিরাট এ অঞ্চলের ওপর একক কর্তৃত্ব স্থাপনে সক্ষম হলে চীনের বিশ্বশক্তি হয়ে ওঠার পথে প্রতিবন্ধকতা অনেকটাই দূর হয়ে যায়। এর ফলে জলে-স্থলে চীনের অর্থনৈতিক, জ্বালানী শক্তি ও সামরিক স্বার্থের ওপর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে চীনাদের অভিমত।
চীনা কর্তৃপক্ষ মনে করে ভারত মহাসাগর অঞ্চল (আই.ও.আর) নিজেদের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে চীনের আমদানীকৃত পণ্যাদি ও তেলবাহী কন্টেইনারের যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে। উল্লেখ্য যে, আই.ও.আর এর গুরুত্বপূর্ণ চেকপয়েন্ট মালাক্কা ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ৮০% শতাংশ ক্রুডওয়েল ও পেট্রোলিয়ামবাহী কন্টেইনার ও অন্যান্য পণ্যবাহী ৫০% শতাংশ কন্টোইনার চলাচল করে থাকে। আর চীনের ৭০% শতাংশ আমদানীকৃত তেলবাহী কন্টেইনার এ পথ দিয়েই চীনে পৌঁছায়। অবশ্য মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্সের রিপোর্টে বলা হয়েছে ভারত মহাসাগর দিয়ে চীনের ৮৪% শতাংশ আমদানীকৃত জ্বালানী তেল চীনে পৌঁছে। তাই চীনের অর্থনৈতিক, সামরিক ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই আই.ও.আর এর ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য বলে মনে করে চীনা কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞরা।
আই.ও.আর-এর গুরুত্বপূর্ণ চেকপয়েন্ট মালাক্কা হলো ইন্দো-ফ্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান জলপথ ও কৌশলগত ট্রেডরুট এবং ঐ রুটের মাধ্যমেই আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এশিয়ার দেশগুলোর সাথে চীনের নৌবাণিজ্য তথা আমদানী রপ্তানীর কাজ সম্পাদিত হয়। কখনো যদি শত্রুপক্ষ ঐ নৌরুটের ওপর অবরোধ আরোপ করে তাহলে চীনের অর্থনীতিতে ধস নামবে এবং এমনকি, চীনের ন্যাভাল ফোর্সের জন্যও বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে, যা চীনের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে। এছাড় ও চীন তার আই.ও.আর-এলাকার বাণিজ্যিক বন্দরগুলোকে সামরিক ঘাঁটিতে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে। এ পরিকল্পার সফল বাস্তবায়নের জন্যও এ মহাসাগরে চীনের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।
চীন তার একক এশিয়ান শক্তি ও ভবিষ্যতে বিশ্বশক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্যে অনেকগুলো প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সচেষ্ট রয়েছে। এর মধ্যে আছে বেল্ট এন্ড রোড প্রকল্প, মেরিটাইম সিল্ক রোড, চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর, সশস্ত্র বাহিনী ও সমরাস্ত্রের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন, ব্লুওয়াটার ন্যাভাল ফোর্স গঠন, বর্হি:রাষ্ট্রে ন্যাভাল বেইস স্থাপন, এশিয়ায় ও আফ্রিকায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্প্রসারণ ও বৃদ্ধির দ্বারা অত্রাঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করা।
বেল্ট এন্ড রোড প্রকল্পের মাধ্যমেও একই সাথে মেরিটাইম সিল্করোডের মাধ্যমে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার রাষ্ট্রগুলোর সাথে সরাসরি চীনের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন করার উদ্দেশ্যে তিনটা রুট প্রতিষ্ঠার কাজ করে চলেছে চীন। (১) চীনের ইউনান প্রদেশ থেকে মায়ানমার হয়ে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত রুট সম্প্রসারণ, (২) ওসেনিক মেরিটাইম সিল্ক রোডের মাধ্যমে চীনের উপকূলীয় অঞ্চলের সাথে ভারত মহাসাগরের সংযোগ রুট তৈরী করা এবং (৩) চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের মাধ্যমে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের সাথে পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দর হয়ে ভারত মহাসাগরের সংযোগ স্থাপন করা। এ করিডোরের মাধ্যমে আরব সাগরের সাথে চীনের সরাসরি ল্যান্ড ব্রিজ স্থাপিত হবে, যা চীনের সাথে আবর সাগর পাড়ের দেশগুলোর সম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে এবং ফলে চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন গতিশীল হবে। সম্প্রসারিত হবে চীনা ন্যাভাল ফোর্সের কার্যক্রম।
সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য চীন ন্যাভাল ফোর্স শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে এবং বর্হি:বিশ্বে ন্যাভাল বেইস স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে জিবুতিতে ন্যাভাল বেইস স্থাপন করেছে এবং পাকিস্তানের জিওয়ানীতে আরো একটা বেইস স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। এটা পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দর থেকে মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত। এ দুটি বেইস স্থাপনের ফলে চীনের সামরিক শক্তি ও সক্ষমতা যেমন বৃদ্ধি পাবে-তেমনি বিশ্বের ৮টা চেক পয়েন্টের মধ্যে হরমুজ প্রণালী ও বাব আল-মানদেব-এ দু’টি চেক পয়েন্টের ওপর চীনের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, হরমুজ দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের ৩৫% শতাংশ এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকায় সরবরাহ ও আমদানী রপ্তানী হয়ে থাকে। আর বাব আল-মানদেব দিয়ে রেড সী ও ভূমধ্যসাগরে চীনের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হবে এবং সংযোগ স্থাপিত হবে মোজাম্বিক চ্যানেল, ক্যাপ অব গুড হোপ এর সাথে, এ দু’টি হলো ভারত মহাসাগর ও সাউথ আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে সংযোগের গেইটওয়ে। এটিও গুরুত্বপূর্ণ ট্রেড রুট। এ পথ দিয়ে বিশ্বের ৫০% শতাংশ কন্টেইনার এবং ৮০% শতাংশ তেল বাণিজ্য সম্পাদিত হয়ে থাকে। একই সাথে মালাক্কা প্রণালীতেও চীনের নিয়ন্ত্রণ স্থাপিত হওয়ায় চীনের বর্হি:বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে । এ রুট দিয়ে বিশ্বের এক-তৃতীয়ংশ তেল বাণিজ্য সম্পাদিত হয়।
অন্যদিকে, মেরিটাইম মিল্ক রোডের ভূমধ্যসাগর ও দক্ষিণে আফ্রিকার সাথে চীনের নৌযোগাযোগ সম্প্রসারিত হবে। ফলে ঐ সকল অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর সাথে চীনের সম্পর্ক ও বাণিজ্য সুদৃঢ় হবে। এভাবেই ভারত মহাসাগরের ওপর কর্তৃত্ব স্থাপনের মাধ্যমেই চীন বিশ্বশক্তি হয়ে আত্মপ্রকাশ করতে চাইছে।
লেখক : আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ভারতের জাতীয় উন্নয়ন ও ভারত মহাসাগর
  • জীবনে শৃঙ্খলাবোধের প্রয়োজনীয়তা
  • চলুক গাড়ি বিআরটিসি
  • জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবেলায় আমাদের করণীয়
  • নির্ধারিত রিক্সাভাড়া কার্যকর হোক
  • নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা
  • খাদ্যে ভেজাল রোধে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে
  • মুর্তাজা তুমি জেগে রও!
  • সন্তানের জীবনে বাবার অবদান
  • এবার কুম্ভকর্ণের নিদ্রা ভংগ হোক
  • বন উন্নয়নে মনোযোগ বাড়ুক
  • একজন অধ্যক্ষের কিছু অবিস্মরণীয় প্রসঙ্গ
  • গ্রামাঞ্চলে বৃক্ষ রোপণ
  • শান্তির জন্য চাই মনুষ্যত্বের জাগরণ
  • উন্নয়ন ও জনপ্রত্যাশা পূরণের বাজেট চাই
  • মোদীর বিজয় : আমাদের ভাবনা
  • অধিক ফসলের স্বার্থে
  • টেকসই উন্নয়ন ও অভিবাসন সমস্যা ও সমাধানে করণীয়
  • সড়ক দুর্ঘটনা
  • চীনের বিশ্বশক্তির প্রত্যাশা ও ভারত মহাসাগর
  • Developed by: Sparkle IT