উপ সম্পাদকীয় দৃষ্টিপাত

সড়ক দুর্ঘটনা

এমদাদুল হক প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৬-২০১৯ ইং ০০:২৮:২৩ | সংবাদটি ২৩৭ বার পঠিত
Image

মহাসড়কে পর পর গাড়ি চলছে। হঠাৎ কড়া ব্রেক ধরার প্রচ- শব্দে সবাই সচকিত।
চলমান গাড়ির চালক : আরে ভাইÑ আপনি দেখে শুনে মহাসড়কে আসবেন না? আরেকটু হলেতো মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারতো।
কেন? আপনি কান চোখ খোলা রেখে মহা সড়কে গাড়ি চালাতে পারেন না, যত্তসব টাকার গরম।
এ রকম আক্কেল গুড়–ম অবস্থা হর-হামেশা ঘটছে। পরিত্রাণ নেই কারো। অবশ্য যারা সাইরেন বাজিয়ে গাড়ি চালিয়ে যান, তাদের কথা আলাদা। কিন্তু এসব কেন হয়, কেন হচ্ছে? গাড়ি চালোনায় গাড়ির ফিটনেস থেকে চালকের জ্ঞান পারদর্শীতা অপরিহার্য। চালকের লাইসেন্স কে দেয়, কিভাবে দেয়- চলুন দেখে নেই।
আমাদের দেশে চালক লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস ইত্যাদির একমাত্র কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ। কিন্তু ঐ বিআরটিএ একজন চালকের হাতে কিভাবে লাইসেন্স ধরিয়ে দেয়, তা সবাই জানেন। তবে সাধারণ কেন, খোদ সরকার বাহাদুরও এর মর্মার্থ বুঝেন বলে মনে হয়না। গাড়ির চালক হতে হলে প্রথমতঃ যে বিষয়ের জ্ঞান অর্জন করা দরকার, তা হলো- গাড়ি চালোনার ন্যূনতম বিধি বিধান জানা। কিন্তু আমাদের দেশে সরকার অনুমোদিত ড্রাইভিং স্কুলগুলোতেও কোন ট্রেনিং পাস প্রশিক্ষিত ইন্সট্রাক্টর আছে বলে মনে হয়না। তাই শিক্ষা দেয়ার বা এ ব্যাপারে পাঠদান করার কোন প্রচলন নেই। এই অবস্থায় একজন নতুন চালক রাস্তার নিয়ম বিধি শিখবে কোথায়? তাই লাইসেন্স হাতে নিয়ে একজন চালক গাড়ি চালিয়ে মানুষ খুন করে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা ছাড়া তার গত্যন্তর নেই। গাড়ি চালোনায় রাস্তায় কার অগ্রাধিকার বেশি, সেতো বিধিতে আছে। কিন্তু সে বিধি কেউ কি পড়ে দেখেছে? সুতরাং সমান অধিকার। লাইসেন্স প্রদানের আগে বিআরটিএ একটি লিখিত পরীক্ষা ও ফিল্ড টেস্ট নেয় ঠিকই। কিন্তু তা কেমন? লিখিত পরীক্ষা না হয় সীমিত প্রশ্ন পত্রের উত্তর দানে সুসম্পন্ন হয়। আর ফিল্ড টেস্ট? সে কিভাবে হয়, আশাকরি সবাই জানেন। তবু বলতে হয়, বিআরটিএ অফিস প্রাঙ্গনে কিছু অস্থায়ী বাঁধা সৃষ্টি করে একটি এবড়ো খেবড়ো রাস্তার নমুনা তৈরি করে উক্ত কল্পিত রাস্তায় চালক বিনা বাঁধায় গাড়ি চালিয়ে যেতে পারলেই তাকে পাশ দেওয়া হয়। আর ফিটনেস? সেতো আরও সহজ। গাড়ির ভেনোট খুলে ইঞ্জিন আর চেচিস নং দেখে নিলেই খালাস। গাড়িটি রাস্তায় চলার উপযুক্ততা যাচাই হয় কোথায়?
আরেকটি বিষয় খেয়াল করবেন। বিআরটিএ আইনে কোন গাড়িতেই বাম্পার সংযোজন আইনসিদ্ধ নহে। কিন্তু বাংলাদেশে চলমান একটি গাড়িও বাম্পার ছাড়া নেই। তথাপি এসব গাড়ি চলছে। আসল কথা হলো- আমাদের দেশের রাস্তা তো এতো নির্ঝঞ্জাট নয় যে, এ রকম একটি ৫০ ফিট কল্পিত রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে গেলেই তাকে মহা সড়কে ছেড়ে দেয়ার উপযুক্ততা অর্জন করে? অথচ আমাদের বিআরটিএ তাই করছে। ফলাফল- দুর্ঘটনা। তাই যতদিন না আমাদের যে রাস্তায় গাড়ি চলবে, সে রাস্তায় লাইসেন্স অথরিটির প্রশিক্ষিত ইন্সট্রাক্টর সহযোগে চালক অন্তত এক ঘন্টা গাড়ি চালোনায় পারদর্শীতা দেখাতে না পারবে, ততোদিন কাউকে লাইসেন্স ইস্যু করা মানে- সড়ক দুর্ঘটনাকে স্বাগত জানানো আর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা। তাছাড়া গাড়ি চালোনায় ওভারটেক, যেখানে সেখানে দাঁড় করা বা দাঁড় করিয়ে রাখা, এ সব কখন কোথায় করা যাবে আর যাবে না , সে বোধহয় খোদ বিআরটিএ-ই জানে না। আর চালক জানবে কি করে। ওটা মেনে চললে সড়কে শৃঙ্খলাবোধ আসতো। অনেকে আবার মনে করেন, পথচারী বা নাগরিক সচেতন হলে অবস্থার উন্নতি হয়ে যাবে। কিন্তু যাদের দেশ-বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আছে, তারা নিশ্চয়ই জানেন, দেখেছেন সড়কের শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক আইন কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। সুতরাং শুধুমাত্র নাগরিক/ পথচারী সচেতনতার উপর ছেড়ে দিলেই দায় মুক্ত হওয়ার উপায় নেই বরং আমাদের আইন, শৃঙ্খলা নিয়ম বিধি আরো সুদৃঢ়ভাবে বাস্তবায়ন করা একান্ত অপরিহার্য। নতুবা সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু থেকে জাতির পরিত্রাণ নেই।
লেখক : আইনজীবী, কলামিস্ট।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • করোনাকালের ঈদোৎসব
  • মহাপূণ্য ও করুণার রাত শবে-কদর
  • মাহে রামাজান: যাকাত আদায়ের উত্তম সময়
  • দারিদ্র দূরীকরণে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
  • চীন-আমেরিকার শীতল যুদ্ধ
  • চাই আশার বাণী
  • কোভিড-১৯:সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি
  • ক্যাস্পিয়ান সাগরের ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব
  • নিজগৃহে আমাদের এই উদ্বাস্তু জীবন
  • বেকারত্ব ও যুবসমাজ
  • আমার হাতেই আমার সুরক্ষা
  • কুড়িগ্রামের সুলতানা সরেবোর
  • স্মার্টফোনের আনস্মার্ট ব্যবহার
  • কোয়ারেন্টাইন না বলে ঘরবন্দি, একঘরে, ছোঁয়াচে বলুন
  • বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের বন্ধু
  • করোনা ভাইরাস ও করুণ পরিস্থিতি
  • পানির অপচয় রোধ করতেই হবে
  • বিশ্বনবী (সা) এর মিরাজ
  • বিদ্যুৎসাশ্রয় এবং আমাদের করণীয়
  • বেঁচে থাকি প্রাণশক্তির জোরে
  • Image

    Developed by:Sparkle IT