উপ সম্পাদকীয় খোলা জানালা

অধিক ফসলের স্বার্থে

রঞ্জিত কুমার দে প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৬-২০১৯ ইং ০০:০১:৩৫ | সংবাদটি ৮৯ বার পঠিত


আমাদের দেশ কৃষিপ্রধান। এই দেশের শতকরা ৭০ জন কৃষিকার্য করে জীবিকা নির্বাহ করে। ক্রমাগত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে লোকে নতুন নতুন বাড়ীঘর নির্মাণ করায় ভূমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে সরকার অধিক গুরুত্বারোপ করায় কৃষি উৎপাদন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে; এতে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে চাল রপ্তানী করা হচ্ছে। অধিক ফসল ফলাতে হলে এই দেশের মানুষকে সমবেতভাবে কৃষির উন্নতির দিকে মনোযোগ দিয়ে চাষাবাদ করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার খাদ্য সমস্যা দূর করার উদ্দেশ্যে দেশের কৃষকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ঋণের ও ভর্তুকি প্রদানের ব্যবস্থা করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের দেশের কৃষকগণ যদি সরকারের সাথে সহযোগিতা করে চাষাবাদ করে তবে অনায়াসে বাংলাদেশের খাদ্য সমস্যার সমাধান করতে পারবে।
জমির উৎপাদন শক্তি অনেক খানি নির্ভর করে উপযুক্ত সার প্রয়োগের উপর। মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করে কোন সার কত পরিমাণ দিলে কোন জমির কতখানি উন্নতি হবে তা কৃষকদের জানা দরকার। অনাবাদী যে সমস্ত পতিত জমি আছে সেগুলো যাতে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য সংস্থানের জন্য কাজে লাগান যেতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। বর্তমানে ভূমি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা একান্ত প্রয়োজন। কোন জমিতে কোন কোন শস্য উৎপাদনের সুবিধা আছে এবং কোন জমিতে অসুবিধা আছে তা ঠিক করে নিতে হবে। কৃষকের অজ্ঞতা দূরীকরণ, সেচ কার্যের জন্য নদী সংস্কার, খাল, কুয়া প্রভৃতির খনন, কৃষককে স্বল্প মেয়াদী এবং দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ দান ব্যবস্থা, চাষীকে উন্নত বীজ সরবরাহ, ভূমি ব্যবস্থার সংস্কার সাধন, কৃষি গবেষণাগার স্থাপন ইত্যাদি প্রয়োজন।
অধিক ফসল উৎপাদন করতে হলে যৌথ খামার স্থাপন করতে হবে। কৃষি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। কি করে বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রচুর পরিমাণে শস্য উৎপাদন করা যায় তা কৃষকদের শিখাতে হবে। বন্যা নিবারণের জন্য নদীর তীরে বাঁধ দিতে হবে। আবার প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য মাঝে মাঝে নদী কেটে বা খনন করে দিতে হবে। অরণ্য মেঘ আকর্ষণ করে, ভূমির সিক্ততা রক্ষা করে। অরণ্যের বিনাশে অনাবৃষ্টি বাড়ে। অরণ্য রক্ষিত হলে অনাবৃষ্টি হবে না, নদীতেও পানির অভাব হবে না। তখন নদী থেকে চারদিকে খাল কেটে শস্য বাঁচান যায়।
অধিক ফসল ফলাতে হলে নি¤œলিখিত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করতে হবে ঃ-
(১) কৃষি শিক্ষা বিস্তার করতে হবে (২) বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের ব্যবস্থা করতে হবে (৩) বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে যোগপোযোগী কৃষি পদ্ধতির প্রবর্তন করতে হবে (৪) উৎকৃষ্ট সার ও বীজের ব্যবস্থা করতে হবে (৫) গ্রামে গ্রামে সমবায় কৃষি ঋণ দান সমিতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে (৬) বন্যা নিবারণের জন্য সক্রিয় ব্যবস্থা নিতে হবে (৭) নদীকে বহমান রাখার জন্য চর কাটাতে হবে (৮) অনাবৃষ্টি নিবারণের জন্য বনভূমি রক্ষা করতে হবে (৯) শস্য ক্ষেত্রে পানি সেচের জন্য নদী থেকে খাল কাটাতে হবে।
আমাদের অধিক ফসল ফলানোর অন্তরায় হচ্ছে অল্প পরিমাণ যেটুকু জমি মাথাপিছু পড়ে তার বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান। এরূপ ছোট ছোট খন্ডিত জমিতে লাভজনকভাবে কৃষি কাজ করা যায় না। জমির পরিমাণ অল্প বলে উৎপাদিত ফসলের তুলনায় কৃষি কার্য ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। বছরের পর বছর চাষ করার ফলে এবং জমিতে দীর্ঘকাল ধরে সার না পড়ায় জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমে গিয়েছে। এর আশু প্রতিকার করা দরকার। অধিক ফসল উৎপন্ন উপেক্ষা করে দেশের খাদ্য সমস্যার প্রতিকার করা, আর্থিক সচ্ছলতা আনয়ন করা কিংবা জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা কখনই সম্ভব হতে পারেনা। বর্তমানে বর্ষাকালীন ফসলের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনার জন্য শুষ্ক মৌসুমেই জল সেচের সাহায্যে অধিক ফসল উৎপাদনের ব্যবস্থা হওয়ায় ফসল উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এ ব্যবস্থার আরও উন্নতি করতে হবে।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • কিশোর-কিশোরীদের হালচাল
  • বলকানস : ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্র
  • সন্তানের প্রতি অভিভাবকের দায়িত্ব
  • শিক্ষার হার এবং কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ
  • শিক্ষার রাজ্যে এক বিস্ময়
  • ডেঙ্গু ও বানভাসি মানুষ
  • শিল্প-সাহিত্যে ১৫ আগস্ট
  • ইমাম-মুয়াজ্জিন সার্ভিস রোলস-এর প্রয়োজনীয়তা
  • বাঙালির মুক্তিসনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা
  • শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে পরিবেশ
  • তিনি কোন দলের নয়, সমগ্র বাঙালির
  • ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম অধ্যায়
  • বঙ্গবন্ধুর ফিরে আসা
  • শিক্ষা ও নৈতিকতা
  • কুরবানির সূচনা
  • কুরবানি ও আমাদের করণীয়
  • উন্নয়নের মানবিকতা বনাম গতানুগতিকতা
  • বিশ্বাসের উপলব্ধি
  • নিরাপত্তাহীনতায় নারী
  • স্বাগতম ঈদুল আযহা
  • Developed by: Sparkle IT