সম্পাদকীয়

সমন্বিত সঞ্চয় প্রকল্প

প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৬-২০১৯ ইং ০০:০১:৫৬ | সংবাদটি ১১৪ বার পঠিত


দারিদ্র্য দূরীকরণে এবার শুরু হচ্ছে নতুন কর্মসূচি। এটি হচ্ছে সমন্বিত সঞ্চয় সংগ্রহ ও ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ কর্মসূচি। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিটি গ্রাম ও শহরকে ভিক্ষুকমুক্ত করা। এর আওতায় দারিদ্রসীমার নীচে থাকা প্রত্যেক পরিবারের ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে কর্মক্ষম মানুষকে পছন্দমতো পেশায় প্রশিক্ষণ দিয়ে দুই লাখ টাকা ঋণ দেয়া হবে। এক বছর মেয়াদী এসব ঋণ পরিশোধ করতে হবে ১২ কিস্তিতে। যতোদিন পর্যন্ত কোন পরিবার দারিদ্রসীমার ঊর্ধ্বে না উঠবে, ততোদিন ঋণ দেয়া হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে খুব শিগগীরই দেশের আটটি বিভাগের আটটি উপজেলায় পাইলট ভিত্তিক এই কর্মসূচি শুরু হবে। আগামী ডিসেম্বর থেকে সারাদেশে চালু হবে এই কর্মসূচি। শুরুতে প্রত্যন্ত দরিদ্র অঞ্চল, পশ্চাৎপদ এলাকা, হাওর ও চর এলাকাকে গুরুত্ব দেয়া হবে। এ ব্যাপারে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার। ‘জাতীয় সমন্বিত সঞ্চয় ও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন নীতিমালা ২০১৯’ শীর্ষক এই নীতিমালার খসড়া তৈরী হয়েছে। এই নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য দশ সদস্যের একটি কমিটি কাজ করছে।
একটি জাতীয় দৈনিকে সম্প্রতি প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ভিক্ষাবৃত্তি নির্মূলসহ দারিদ্র বিমোচন হচ্ছে এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। প্রধানমন্ত্রীর ইতোপূর্বে সব মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় এনে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম একই ছাতার নীচে নিয়ে আসার লক্ষ্যে দেয়া দিকনির্দেশনার প্রেক্ষিতে নেয়া হয়েছে এই উদ্যোগ। যার মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঞ্চয় ও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে সমগ্র দেশের প্রতিটি গ্রাম থেকে শহর এলাকাকে সুসংগঠিত, টেকসই, আত্মনির্ভরশীল, দারিদ্র ও ক্ষুধামুক্ত এবং ভিক্ষুকমুক্ত এলাকায় রূপান্তর করা হবে। জানা গেছে বার্ষিক আয়ের ভিত্তিতে সারাদেশের দরিদ্র পরিবারগুলোকে তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা হবে। যাদের বার্ষিক আয় সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা, তাদের ক শ্রেণীতে, যাদের আয় এক লাখের বেশি তাদের খ শ্রেণীতে এবং আর যাদের দুই লাখ টাকার ওপরে তাদের গ শ্রেণীতে বিন্যাস করা হবে। ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার পাবে ক শ্রেণীর পরিবার। পরবর্তী পর্যায়ে পাবে খ এবং এর পারে গ শ্রেণীর পরিবার। ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রতিটি গ্রামে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা এবং পরবর্তীতে দেশের সব গ্রামকে সম্পূর্ণরূপে দারিদ্র ও ভিক্ষুকমুক্ত গ্রাম হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আমরা বিশ্ব দরবারে এখন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছি। এই অর্জন ধরে রাখার পাশাপাশি দেশকে একটি উন্নত দেশ-এ রূপান্তরের লক্ষ্যে রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়ন করছে সরকার। এই প্রেক্ষাপটে দারিদ্র্য বিমোচন একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দারিদ্র্যের হার হ্রাস পাওয়ার নানান তথ্য দেয়া হচ্ছে। দারিদ্র্য কমেছে, এটা ঠিক। তবে সেই হার খুব একটা বেশি নয়। গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে শহর-নগরে এখনও বিপুল সংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যের কষাঘাতে নিষ্পেষিত। ইতোপূর্বে ভিক্ষুক নির্মূলে গৃহীত সরকারের কর্মসূচিও সফল হয়নি। এবারের উদ্যোগ সফলতা পাবে বলেই আমরা আশাবাদি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT