ধর্ম ও জীবন সূরা : বাক্বারাহ

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৬-২০১৯ ইং ০০:০২:৩৯ | সংবাদটি ১১২ বার পঠিত



[পূর্ব প্রকাশের পর]
আনুষাঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয় :
জ্ঞাতব্য : কোনো কোনো সময় কারও বক্তব্যের ভেতরই কোনো কিছুর অঙ্গিকারও বোঝা যায় যদিও তা সুস্পষ্ট নয়। আলোচ্য আয়াতে ‘ছুম্মা আক্বরারতুম’ অনিশ্চয়তা অপনোদন করে বলা হয়েছে যে, তাদের অঙ্গিকার সাক্ষ্যদানের মতোই সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ছিলো।
দেশত্যাগ সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞার অর্থ এই যে, কাউকে এমন উৎপীড়ন করবে না, যাতে সে দেশত্যাগে বাধ্য হয়।
বনী-ইসরাঈলকে তিনটি নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। প্রথমত : খুনাখুনি না করা, দ্বিতীয়ত : বহিষ্কার অর্থাৎ, দেশ ত্যাগে বাধ্য না করা এবং তৃতীয়ত : স্বগোত্রের কেউ কারও হাতে বন্দী হলে অর্থের বিনিময়ে তাকে মুক্ত করা। কিন্তু তারা প্রথমোক্ত দু’টি নির্দেশ অমান্য করে তৃতীয় নির্দেশ পালনে বিশেষ তৎপর ছিলো। ঘটনার বিবরণ এরূপÑ মদিনাবাসীদের মধ্যে ‘আওস’ ও ‘খাযরাজ’ নামে দু’টি গোত্রের মধ্যে শত্রুতা লেগেই থাকতো। মাঝে মাঝে যুদ্ধও বাধত। মদিনার আশে-পাশে ইহুদীদের দু’টি গোত্র ‘বনী কোরায়যা’ ও ‘বনী-নুযায়ের’ বসবাস করতো। আওস গোত্র ছিলো বনী-কোরায়যার মিত্র এবং খাযরাজ ছিলো বনী-নুযায়েরের মিত্র। আওস ও খাযরাজের মধ্যে যুদ্ধ আরম্ভ হলে মিত্রতার ভিত্তিতে বনী কোরায়যা আওসের সাহায্য করতো এবং নুযায়ের খাযরাজের পক্ষ অবলম্বন করতো। যুদ্ধে আওস ও খাযরাজের যেমন লোকক্ষয় ও ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হতো, তাদের মিত্র বনী নুযায়েরেরও তেমনি হতো। বনী-কোরায়যাকে হত্যা ও বহিষ্কারের ব্যাপারে শত্রু পক্ষের মিত্র নুযায়েরেরও হাত থাকতো। তেমনি নুযায়ারের হত্যা, বাস্তুভিটা থেকে উৎখাত করার কাজে শত্রু পক্ষের মিত্র বনী কুরায়যারও হাত থাকতো। তবে তাদের একটি আচরণ ছিলো অদ্ভুত। ইহুদীদের দুই দলের কেউ আওস অথবা খাযরাজের হাতে বন্দী হয়ে গেলে প্রতিপক্ষীয় দলের ইহুদী স্বীয় মিত্রদের অর্থে বন্দীকে মুক্ত করে দিতো। কেউ এর কারণ জিজ্ঞেস করলে বলতোÑবন্দীকে মুক্ত করা আমাদের উপর ওয়াজিব। পক্ষান্তরে যুদ্ধে সাহায্য করার ব্যাপারে কেউ আপত্তি করলে তারা বলতোÑকি করব, মিত্রদের সাহায্যে এগিয়ে না আসা লজ্জার ব্যাপার। আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তাদের এ আচরণেরই নিন্দা করেছেন এবং তাদের এ অপকৌশলের মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছেন।
‘গোনাহ ও অন্যায়’ আয়াতে ব্যবহৃত এ দু’টি শব্দ দ্বারা দু’রকম হক বা অধিকার নষ্ট করার প্রতি ইঙ্গিত হতে পারে। অর্থাৎ, আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে তারা একদিকে আল্লাহর হক নষ্ট করেছে এবং অপরকে কষ্ট দিয়ে বান্দার হকও নষ্ট করেছে।
ঘটনায় বর্ণিত ইহুদীরা নবী করিম (সা.) এর নবুওয়ত স্বীকার না করায় নিঃসন্দেহে কাফের। কিন্তু এখানে তাদের কুফর উল্লেখ করা হয়নি, বরং কতিপয় নির্দেশ পালন না করাকে কুফর বলে অভিহিত করা হয়েছে। অথচ যতোক্ষণ কেউ হারামকে হারাম মনে করে, ততোক্ষণ কাফের হয় না। এ প্রশ্নের উত্তর এই যে, শরীয়তের পরিভাষায় কঠোর গুনাহকে শুধু কঠোরতার প্রেক্ষিতেই কুফর বলে দেয়া হয়। আমরা নিজেদের পরিভাষায়ও এর দৃষ্টান্ত অহরহ দেখতে পাই। উদাহরণত কাউকে কোনো নিকৃষ্ট কাজ করতে দেখলে আমরা বলে দেইÑ তুই একেবারে চামার। অথচ সে মোটেই চামার নয়। এ ক্ষেত্রে তীব্র ঘৃণা এবং সংশ্লিষ্ট কাজটির নিকৃষ্টতা প্রকাশ করাই উদ্দেশ্য। ‘যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামায ছেড়ে দেয়, সে কাফের হয়ে যায়’ এবং এ জাতীয় অন্যান্য হাদিসের বেলায়ও এ অর্থই বুঝতে হবে।
আয়াতে উল্লেখিত দু’টি শাস্তির প্রথমটি হলো পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা ও দুর্গতি। তা এভাবে বাস্তব রূপ লাভ করেছে যে, নবী করিম (সা.) এর আমলেই মুসলমানদের সাথে সম্পাদিত চুক্তিভঙ্গের অপরাধে বনী-কুরায়যা মৃত্যুদ-ে দ-িত ও বন্দী হয়েছে এবং বনী নুযায়রকে চরম অপমান ও লাঞ্ছনার সাথে সিরিয়ায় নির্বাসিত করা হয়েছে।
কুরআন-হাদিসের বিভিন্ন স্থানে হযরত জিবরাঈল (আ.) কে ‘রুহুল কুদুস’ (পবিত্রতা) বলা হয়েছে। কুরআনের আয়াতে ‘ক্বুল নাজ্জালাহু রুহুল কুদুস’ এবং হাদিসে হযরত হাসস্ান ইবনে সাবতের কবিতা হয়েছেÑ
জিবরাঈল (আ.) এর মাধ্যমে ঈসা (আ.) কে কয়েক রকম শক্তি দান করা হয়েছে। প্রথমত জন্মগ্রহণের সময় শয়তানের স্পর্শ থেকে রক্ষা করা হয়েছে। এছাড়া জিবরাঈলের দম করার ফলেই মরিয়মের উদরে হযরত ঈসার গর্ভ সঞ্চারিত হয়। বহু ইহুদী ঈসা (আ.) এর শত্রু ছিলো। এ কারণে দেহরক্ষী হিসাবে জিবরাঈল তাঁর সাথে থাকতেন। এমনকি, শেষ পর্যন্ত জিবরাঈলের মাধ্যমেই তাঁকে আকাশে তুলে নেয়া হয়। ইহুদীরা হযরত ঈসা (আ.) সহ অনেক পয়গাম্বরকে মিথ্যাবাদী বলেছে এবং হযরত যাকারিয়া ও হযরত ইয়াহ্হিয়া (আ.) কে হত্যা পর্যন্ত করেছে।
[চলবে]

শেয়ার করুন
ধর্ম ও জীবন এর আরো সংবাদ
  •   সুস্থতা আল্লাহ তা’আলার মহান নেয়ামত
  • মুমিনের মেরাজ
  • যে আমলে মিলবে জান্নাতের ফল লাভ
  • তাফসিরুল কুরআন
  • মুসলমানদের পারস্পরিক সর্ম্পক ভ্রাতৃত্বের
  • মসনবি শরিফের একটি ঘটনা
  • ইসলামে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব
  • বাইতুল্লাহর সঙ্গে মুসলিম উম্মাহর বন্ধন
  • তাফসিরুল কুরআন
  • আরাফাহের খুতবা : মুসলিম জাহানের অনবদ্য দিকনির্দেশনা
  • কোরবানি ও প্রাসঙ্গিক মাসাইল
  • পবিত্র মদিনা মুনাওয়ারার মর্যাদা
  • তাফসিরুল কুরআন
  • সাবাহি মক্তবের আধুনিক সংস্করণ
  • মুসলিম উম্মাহর একতার নিদর্শন হজ্ব
  • তাফসিরুল কুরআন
  • ন্যায়বিচার একটি ইবাদত
  • সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় : স্নেহ-ভালবাসা
  • মধুর ডাক
  • তাফসিরুল কুরআন
  • Developed by: Sparkle IT