ধর্ম ও জীবন

নও মুসলিম কল্যাণ ফাউন্ডেশন গড়ে উঠুক

জাওয়াদুর রহমান প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৬-২০১৯ ইং ০০:০৩:৫৭ | সংবাদটি ১৮৮ বার পঠিত



সকল মুসলিম ভাই ভাই। বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মাহ একটি দেহ স্বরূপ, যে বিশ্বের এক প্রান্তের কোন মুসলিম আক্রান্ত হলে সকল মুসলিম ব্যথিত হয়। যেমনিভাবে দেহের একটি অঙ্গে আঘাত পেলে সমগ্র দেহে এর প্রভাব পড়ে। কোনো ব্যক্তি ইসলাম প্রচারের জন্য বের হলো এবং পা ও দেহে ধুলাবালি লাগলো, আখিরাতে সেই অঙ্গে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। রান্নার সময় পানির পরিমাণ বাড়িয়ে দাও যেন তোমার প্রতিবেশিকে এর একটি অংশ দেওয়া যায়। এই সকল কথা বলেছেন, সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। যে কথাগুলো আমাদের শিক্ষা দেয় বিনয়, আদব এবং সহযোগীতার।
আল্লাহ তা’আলা মুসাকে বলেছিলেন হে মুসা তুমি ফেরাউনকে ইসলামের দাওয়াত দাও হেকমতের সাথে। যা মানবজাতির জন্য এক মহান শিক্ষা। যে শিক্ষার আলোকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া যায় বিশ্বের অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তির কাছে। যে শিক্ষার আলোকে ইসলামের প্রচার করা যায় সমগ্র বিশ্বময়। কিন্তু বর্তমান সময়ে ইসলামের দাওয়াত দেওয়াতো দূরের কথা, যারা স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাদেরকেই মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। হ্যাঁ, আমি বলছি সেই নও মুসলিমদের কথা যারা আজ ইসলাম গ্রহণ করে থাকতে হচ্ছে আতঙ্কের মধ্যে। কারণ তার পূর্বের ধর্মের অনুসারীরা যে কোনো সময় আক্রমণ করতে পারে। ইসলাম গ্রহণের জন্য বঞ্চিত হয় সকল সম্পত্তি থেকে। অভাব-অনটনে কাটতে থাকে জীবন। কেউ এগিয়ে আসে না তাদের সাহায্যে কারণ ওরা যে নও মুসলিম।
এভাবেই অসহায়ের মতো সাঁতার কাটতে থাকে মাঝ সাগরে, যেন তাদের উদ্ধারের জন্য কেউ নেই। পূর্বের ধর্ম ত্যাগ করায় আত্মীয়-স্বজন থেকে হয় বিচ্ছ্যুত। অপর দিকে ইসলাম গ্রহণ করার পরও মুসলিম সমাজের সাথে মিশে ওঠতে পারে না, দীর্ঘ সময় লাগে। ওরা যেন মানসিক নির্যাতনে জর্জরিত হতে থাকে এবং সামাজিকভাবে হয়ে যায় ‘একঘরে’।
তাদের এই দুর্দশার দায় নিতে হবে সকল মুসলিমকে। তাদের এই কষ্ট লাঘবে এগিয়ে আসতে হবে এই মুসলিম সমাজকে। কারণ নও মুসলিমরা তো ইসলামের আলোয় আলোকিত হয়েছে আল্লাহকে চিনেছে। মুসলিম সমাজের উছিলায়। ওরাতো এই আশায় প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করেছে যে, যদি কখনও তাদের বিধর্মী আত্মীয়রা আক্রমণ করে তবে, তাদের রক্ষায় হাত বাড়িয়ে দেবে মুসলিমরা। কিন্তু যখন এর বিপরীত ঘটনা ঘটে তখন তাদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হয়। যেখানেই যাক না কোনো, থাকতে হয় লুকিয়ে লুকিয়ে।
তাদের এই পরিস্থিতি দেখে যারা ইসলাম গ্রহণের জন্য মনস্থির করেছিল তারাও পরিবর্তন করে ফেলে তাদের মনোভাব। এজন্য আখিরাতে জবাবদিহি করতে হবে আমাদেরকে।
এবার আসা যাক মূল প্রসঙ্গে। তাহলো কিভাবে নও মুসলিমদের কল্যাণে ও উন্নয়নের জন্য উদ্যোগ নেওয়া যায়? তার উত্তর হলো একটি ফাউ-েশন গড়ে তোলা যা নাম হবে নও মুসলিম কল্যাণ ফাউ-েশন।
ইসলাম গ্রহণ করার পর এই সকল লোক নানা সমস্যার সম্মুখিন হন। যেমনÑ তাদের আত্মীয়-স্বজনের হুমকি, সকল সম্পত্তি পূর্বের ধর্মের লোক দ্বারা জবর দখল হওয়া প্রভৃতি। তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে এই ফাউ-েশন। এর কাজ হবেÑ ১. যারা ইসলাম সম্পর্কে জানতে চায়, তাদেরকে সকল বিষয় জানানো এবং নও মুসলিমদেরকে এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া। ২. তাদেরকে আর্থিক, সামাজিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান করা। ৩. তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
দেখা যাবে, কিছু দিনের মধ্যে দলে দলে লোক ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নেবে। যা পরকালে আমাদের নাজাতের জরিয়া হবে। ‘নও মুসলিম কল্যাণ ফাউ-েশন’ গঠনের জন্য প্রথমে সমাজের জ্ঞানী-গুণী এবং ধৈর্যশীল ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। সকল ধর্মপ্রাণ মুসলিমকে এতে অংশগ্রহণ করতে হবে। প্রতি মাসে সবাই কিছু টাকা এই ফাউ-েশনে দান করতে হবে যেন এই টাকা নও মুসলিমদের দান করা, ঋণ দেওয়া এবং তাদের উন্নয়নে ব্যয় করা যায়।
নিঃস্বার্থে কাজ করে যাবে এই ফাউ-েশন। স্বার্থ শুধু একটাই তা হলো জান্নাতুল ফেরদাউস লাভ করা। এভাবেই নও মুসলিম খুঁজে পাবে তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। শান্তিতে ভরে উঠবে সমাজ, দেশ ও বিশ্ব। শাহজালালের উত্তরসুরি হিসেবে, সিলেট থেকে শুরু হউক এর যাত্রা এবং পালন হউক আমাদের উপর অর্পিত উত্তরাধিকারী সূত্রে পাওয়া এই দায়িত্ব।
আল্লাহ তা’আলা যেনো কবুল করেন আমাদের এই উদ্যোগ। আমিন!

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT