উপ সম্পাদকীয়

মোদীর বিজয় : আমাদের ভাবনা

ফকরুল কবীর খাঁ প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৬-২০১৯ ইং ০০:০৫:০৪ | সংবাদটি ৮১ বার পঠিত


ভারতের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি একক সংখাগরিষ্ঠতা পেয়ে আবারো সরকার গঠন করেছে। হিন্দুত্বই বিজেপির মূল চেতনা। যদিও ধর্মনিরপেক্ষতা, সকল ধর্মালম্বী তথা নাগরিকদের সমান অধিকার ইত্যাদি সংবিধানে সংযোজিত করা হয়েছে। বাহ্যিক ধর্ম নিরপেক্ষতার লেবাছ ভারতের গায়ে জড়ানো রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কংগ্রেস, বিজেপি, বাম, ডান, অর্থাৎ ভারতের সকল রাজনৈতিক দলই অন্তরে অভিন্ন। কংগ্রেস শাসনামলে ভারতে বড় বড় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংগঠিত হয়েছে। কেন্দ্রে কংগ্রেস ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় বাবরী মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে। যদিও কংগ্রেস নেতৃত্ব ধর্মনিরপেক্ষতার, মানবাধিকার ইত্যাদি বুলি আউড়িয়ে তাদের আসল চেহারা ঢেকে সংখ্যালঘু মুসলমান ও দলিত শ্রেণীকে ধোকা দেওয়ার চেষ্টা করে। অপর দিকে বিজেপি কোন রাখ ঢাক না করে স্পষ্ট ভাবে হিন্দুত্ব প্রধান ইস্যু করে সমগ্র ভারতে আলোড়ন সৃষ্টি করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। মোদী বলেন -“জনগণ আমার ভাষা বুঝে এবং আমি জনগণের ভাষা বুঝি”। এ বাস্তবতার কারণে কংগ্রেস বা এর সভাপতি রাহুলগান্ধী মোদীর হিন্দুত্বের রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে নিজেরা কথিত সেকুলারিজমের জামা খুলে, প্রকাশ্যে নিজেও হিন্দুত্ববাদী হয়ে গেছে। আবার দাবিও করছে, এটা নাকি মোদীর মতো হার্ড হিন্দুত্ববাদ নয়, সফট হিন্দুত্ববাদ। অর্থাৎ তথাকথিত সেকুলারিষ্ট কংগ্রেস হিন্দুত্বকে ঠেকাতে চাওয়া দেখে সরাসরি মোদীর হিন্দুত্বের ভাগ চাইতে নেমেছে। নির্বাচন প্রচারণা বন্ধ হলে,পরদিন মোদী হিন্দুতীর্থস্থান কেদারনাথের মন্দিরে গিয়ে ধ্যান করার শো-অফ করতে গেলে তা দেখে কংগ্রেসের জবাব হলো - রাহুল সেখানে হেটে গিয়েছিলেন আর মোদী গেছেন বিশেষ হেলিকপ্টারে,কাজেই আমরাই শ্রেষ্ঠ। হিন্দুত্বের জোয়ারে মোদী আসলে বহু আগেই কংগ্রেস, সিপিএমদের হারিয়ে দিয়েছেন। রামের ¯্রােতে বাম ডান সবাই তলিয়ে গেছে। বামরা এখন খোলস পাল্টিয়ে গেরুয়া চাদরের নিচে আশ্রয় নিচ্ছে।
এবারের মোদীর নিরঙ্কুশ বিজয়ে কেন বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন এ বিষয়ে কিছু কথা বলা জরুরি। মোদীর এ বিজয় দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে যেমন প্রভাবিত করতে পারে, তেমনিভাবে প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্কের উপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপির এবার প্রাক নির্বাচনী ঘোষণা ও প্রচারাভিযানের দুটি উল্লেখযোগ্য দিকের একটি হলো-বাংলাদেশের কথিত অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে আসামের মতো পশ্চিমবঙ্গ ও অন্যান্য প্রদেশে এন.আর.সি করা হবে। আর অনাগরিক চিহ্নিত করে দেশ ছাড়া করা হবে। একই সাথে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আগত অমুসলিম বা হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এ বিষয়টির বড় ধরনের প্রভাব-পড়বে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কে।
বিজেপির দ্বিতীয় ঘোষণা ছিল-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত সংবিধানের সুরক্ষা বাতিল করা নিয়ে। এ ঘোষণার বাস্তবায়ন জম্মু ও কাশ্মীরের উপর শুধু প্রভাব ফেলবে না, সেই সাথে পাকিস্তানের সাথে ভারতের সম্পর্কের উপরও প্রভাব ফেলবে।
প্রথমোক্ত ইস্যুটির কারণে মোদির সরকার গঠনের পর বাংলাদেশকে বড় ধরনের সংকট মোকাবিলা করতে হতে পারে। ভারতের সাথে সুসম্পর্কের ব্যাপারে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার সবসময় সচেষ্ট থাকলেও নানা ইস্যুতে দেশের সার্বিক স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সরকার আরেক বৃহৎ প্রতিবেশী চীনের দিকে বেশি ঝুকে পড়ছে বলে মনে হয়েছে। গত এক বছরের বেশি সময়ে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ ও প্রভাব যে নিরঙ্কুশ ভাবে বেড়েছে সেটি সব পর্যবেক্ষকের মত, আমার চোখে ধরা পড়েছে। মোদীর এ সরকার চীনের এ প্রভাবকে কিছুতে স্বাভাবিক ভাবে নেয়নি। এ নিয়ে নির্বাচনের আগেই বেশ কিছু বিষয়ে টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। তবে সব থেকে বড় বিপদ হিসেবে দেখা দেওয়ার আশংকা হলো, আসামের মতো পশ্চিমবঙ্গ ও অন্যান্য প্রদেশে এন.আর.সি মাধ্যমে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করার ঘোষণা, এই ঘোষণা নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ দুজনের কাছ থেকে এসেছে।
এই ইস্যুর কারণে ভারতের পার্লামেন্ট নির্বাচনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গুরুত্বপূণ রাজনৈতিক। ইস্যু হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের বিভিন্ন পর্যবেক্ষক বিষয়টিকে বেশ উদ্বেগের সাথে লক্ষ করেছেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক সমীর দাশ এ প্রসঙ্গে বলেন, সাধারণত এর উল্টোটাই হয়ে থাকে। ভারত সবসময় বাংলাদেশের একটা বড় নির্বাচনী ইস্যু হয়। কিন্তু এবার ক্ষমতাসীন বিজেপি বাংলাদেশ থেকে আসা (কথিত) অবৈধ অভিবাসীদের এক বড় ইস্যুতে পরিণত করেছে।
ভারতের লোকসভা নির্বাচনের আগ দিয়েই আসামের ন্যাশনাল রেজিষ্ট অব সিটিজেন (এন.আর.সি) আপডেট করা হয়েছে। আসামের আঞ্চলিক গ্রুপগুলো বাংলাদেশ থেকে আসা কথিত অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। গত ডিসেম্বর মাসে এই তালিকার একটা খসড়া প্রকাশিত হয়েছে। সে তালিকায় ৪০ লাখ অধিবাসীর নাম বাদ পড়েছে। যারা মূলত বাংলাভাষী হিন্দু ও মুসলিম। ভারতীয় সুপ্রিমকোর্ট এর আদেশ অনুযায়ী ৩১ জুলাই এর মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
এবারের নির্বাচনের প্রচারণায় বিজেপির জাতীয় সভাপতি অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অন্যান্য রাজ্যের এনআরসি তৈরী করা হবে এবং পরে এটা সারাদেশে সম্প্রসারিত হবে।
পশ্চিমবঙ্গে এই ইস্যুতে বিজেপি সবচেয়ে বেশি প্রচারণা চালিয়েছে। সেখানকার এক নির্বাচনী সভায় অমিতশাহ বলেছেন, আমরা যদি ক্ষমতায় ফিরে আসি, তাহলে আমরা পশ্চিমবঙ্গে ও ভারতের সবখানে এনআরসি তৈরী করব। বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অধিবাসীদের চিহ্নিত করে তাদের বহিষ্কার করার ব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি অবৈধ অভিবাসীদের “উইপোকা“ হিসাবেও সম্বোধন করেছেন।
মোদী পশ্চিম বঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসসহ সেকুলার রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, তারা নিরাপদ ভোট ব্যাংক হিসেবে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে। বেশ কিছু নির্বাচনী সমাবেশে তিনি বলেছেন, তার দল অবৈধ অভিবাসীদের দরজা দেখানোর জন্য বদ্ধপরিকর।
মোদী অবশ্য এটাও স্পষ্ট করেছেন, তার দল সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারেও সমানভাবে আগ্রহী। এর অর্থ হলো বাংলাদেশ ,পাকিস্তান, আফগানিস্থান থেকে আসা অমুসলিম অভিবাসীদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। বিজেপি সরকার বিলটি উথাপনের পর সেটি পার্লামেন্টের নি¤œকক্ষে পাস হয়েছিল কিন্তু উচ্চকক্ষে আটকে যায়। উচ্চকক্ষে ক্ষমতাসীন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না। এর পর থেকে মোদি বলে আসছেন, ক্ষমতায় এলে বিলটি আবার উথাপন করবেন তিনি। এখন মোদী সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল।
এনআরসি ইস্যুটি যে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বড় ধরনের সংকট হয়ে দেখা দিতে পারে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের বিশ্লেষক সুবির ভৌমিক, তিনি এ ব্যাপারে লিখেছেন, বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগকে ভারতপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কিন্তু দলটির বহু রাজনীতিবিদ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন , বিজেপির বাংলাদেশ বিরোধী বক্তব্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষতি হতে পারে। আসামের এনআরসিতে যেসব বাংলাদেশীদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের প্রতিক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের একজন সিনিয়র কূটনীতিক বলছেন, মোদী আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নাকি আশ্বস্ত করেছেন এনআরসি ভারতের আভ্যন্তরীন একটা প্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশে কাউকে পুশব্যাক করা হবে না। কিন্তু অমিত শাহের মতে, বিজেপির রাজনীতিবিদরা সবসময় অবৈধ অভিবাসীদের পুশব্যাক করার কথা বলছেন। আমি নিশ্চিত যে, তাদেরকে ছুড়ে ফেলা হবে না। আমার এক মাত্র আশা হলো, এগুলো যেন আবার দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের নতুন কোন ইস্যু না হয়ে ওঠে, যেখানে বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক সবচেয়ে ভালো পর্যায়ে রয়েছে।
ভারতের বাংলাদেশ বিষয়ক বিশিষ্ট পর্যবেক্ষক সুখরঞ্জন দাশগুপ্ত এ প্রসঙ্গে বলছেন, “বিজেপির রাজনীতির কারণে হয়তো ভারতকে শেষ পর্যন্ত তাদের গুরুত্বপূর্ণ একটা মিত্রকে হারাতে হবে। বিশেষ করে হাসিনা সরকারের বিরোধীরা এরই মধ্যে তাঁকে ভারতের তাবেদার হিসাবে বর্ণনা করতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, বিজেপি পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে একই দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করেছে ,কারণ তারা উভয়ই মুসলিম সংখ্যাগুরু দেশ।”
এ বক্তব্যে পাকিস্তানের সাথে একই কাতারে ফেলে বাংলাদেশের মতো দেশের বন্ধুত্ব ভারত হারাতে পারে বলে শংকা প্রকাশের মধ্যে এই বাস্তবতাও রয়েছে। বাংলাদেশ ভারতের সহানুভূতি হারানোর ঝুকির মধ্যে রয়েছে। এই ঝুকির প্রাথমিক কারণ কিন্তু বাংলাদেশ ভারতের প্রতি বৈরিতা প্রদর্শন করছে তা নয়। বরং বাংলাদেশ তার নিজস্ব প্রয়োজনে চীনের দিকে ঝুকে পড়া, দিল্লী ভালোভাবে নিতে পারেনি। ভারত সবসময় চেয়েছে বাংলাদেশ একান্ত অনুগত রাষ্ট্র হিসেবে বিহেভ করুক।
শেখ হাসিনার পক্ষে এ ধরনের ভূমিকায় থেকে বাংলাদেশকে অবকাঠামো উন্নয়নের ধারায় রাখা বেশ কঠিন হয়ে দাড়াতে পারে। কারণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন যেখানে এসে দাড়িয়েছে, তাতে ব্যাপক উন্নয়নের সহায়তা ছাড়া টিকে থাকা কঠিন। আর বিশ্বব্যাংক বা সহযোগী পশ্চিমা দেশগুলো সাহায্যের ক্ষেত্রে যে ধরনের স্বচ্ছতা ও তাদের জবাবদিহিতা চেয়ে থাকে তা শেখ হাসিনা দিতে চান না। এ ক্ষেত্রে চীন হলো হাসিনার পছন্দের দেশ। যে দেশটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র বা মানবাধিকারের কোথায় কি হলো, ভোট অবাধ হলো কি না, সেটি তেমন একটি বিচার করে না।
শেখ হাসিনা ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগগুলো দূর করার ব্যাপারে আগের মতোই সচেষ্ট থাকতে পারেন। কিন্তু চীনা বিনিয়োগের ব্যাপারে আপত্তিগুলোকে তিনি মোটা দাগে গ্রাহ্য নাও করতে পারেন। বিশেষভাবে আওয়ামীলীগকে নূতন মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর মতামতকে গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। যেহেতু নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনের সক্রিয় সহায়তায় আওয়ামীলীগ পুনরায় ক্ষমতাসীন হয়েছে এবং টিকে আছে। এসব প্রতিষ্ঠান ভারতের নির্দেশিত অধীনতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চায় না। যার ফলে ভারত যখন বাংলাদেশকে একটি ব্যাপক ভিত্তিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পাদনের জন্য বেশ চাপাচাপি করেছিল, তখন সেনা প্রতিষ্ঠান এর বিরেধিতা করেছে। কারণ এসব সার্বভৌমত্ব বিসর্জনকারী প্রতিরক্ষা চুক্তির মোড়কে যদি কোন কারণে ভারত বাংলাদেশের উপর দিয়ে মার্চ করে যায়, তবে পৃথিবীর কোন দেশ বিশাল ভারতকে চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশের পক্ষে সক্রিয়ভাবে দাঁড়াবে বলে মনে হয় না। বিশ্ব মোড়লরা শুধু নিন্দা প্রস্তাব বক্তৃতা বিবৃতির বেশি করবে বলে মনে হয় না। মোদীর সরকার পুণঃ নির্বাচিত হওয়ায়, নূতন করে এই চাপ দেয়া হলে দুই দেশের সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে ভারত পশ্চিমবঙ্গ আসামের মতো এনআরসি মানে আসামের মতো নাগরিকত্বের তালিকা তৈরী করার কাজ জোরেসোরে শুরু করবে। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে এ নিয়ে কাজ শুরু হয়ে গেছে বলে অনেকের দাবি। কলকাতায় তথা সমগ্র ভারতে যদি আসামের মতো এনআরসি তৎপরতা শুরু আর তাতে কোন হিন্দু নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ হয় তাকে মোদী সরকার নূতন করে নাগরিকত্ব দেবে। আর মুসলমান হলে নাজেহাল করা হবে। কথিত পুশব্যাক যদি আপাতত-নাও হয়, চীনের উইগুরুর মুসলমানদের মত অন্তত আলাদা ক্যাম্পে তাদের ফেলে রাখবে। ভোটার লিষ্ট থেকে বাদ দিয়ে ওয়ার্ক পারমিট দিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদায় পশ্চিমবঙ্গে তথা বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে থাকতে দিতেও পারে। আবার কখন যে দাঙ্গার খোরাক বানিয়ে নিজেদের ক্ষমতায় যাওয়ার সিড়ি বানিয়ে ফেলবে, কে জানে?
এদিকে বিজেপির এমপি ও নেতা সুব্রাম্মনিয়াম স্বামী মাঝেমধ্যে বাংলাদেশের হিন্দুদের জন্য বাংলাদেশের ভেতরে আলাদা রাষ্ট্র গঠন করার জন্য ভারতের হস্তক্ষেপের কথা বলে থাকেন , তেমন একটি বিষয় যদি সামনে চলে আসে, তা হলে বিস্ময়ের কিছু থাকবেনা।
এমনিতেই মানবতা দেখাতে গিয়ে বারো লক্ষ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে কি বিপদের মধ্যে রয়েছে-তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সব রোহিঙ্গা যে মায়ানমারে ফিরে যাবে, তা আমি আর বিশ্বাস করতে পারছিনা। হয়তো বাংলাদেশের উপর চিরস্থায়ী বোঝা হয়ে থাকবে।

এমনিতেই বাংলাদেশ জনভারাক্রান্ত তিনদিক থেকে ভারত পরিবেষ্টিত ছোট একটি দেশ। এবং নানা সমস্যায় জর্জরিত। এর উপর আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাভাষী মুসলমান কয়েক লক্ষ লোক যদি ভারত বাংলাদেশে পুশব্যাক করে তা হলে এ দেশের যে কি অবস্থা হবে- তা ভাবতেই গা শিহরিয়া উঠে। যেহেতু সিলেটের সীমান্তবর্তী প্রদেশ হচ্ছে আসাম ,তাই এ জন¯্রােত যে সিলেটের দিকে ধাবিত হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সহানুভূতি রয়েছে এবং জাতিসংঘ সহ সব আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এদের ব্যায় বহন করে যাচ্ছে। কিন্তু আসাম বা পশ্চিমবঙ্গ থেকে যদি কয়েক লক্ষ লোক এ দেশে আসে - তবে এ- ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সাহায্য খুব একটা পাওয়া যাবে বলে আমার মনে হয় না। এ পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে আমরা সিলেটবাসী তথা বাংলাদেশের নাগরিক সংগত কারণেই উদ্বিগ্ন।
লেখক : কলামিস্ট

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ
  • জলবায়ু পরিবর্তনই আসল সমস্যা
  • কিশোর অপরাধ
  • আ.ন.ম শফিকুল হক
  • হোটেল শ্রমিকদের জীবন
  • বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও কাশ্মীরের ভবিষ্যত
  • বাংলাদেশে অটিস্টিক স্কুল ও ডে কেয়ার সেন্টার
  • বেদে সম্প্রদায়
  • গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে সুপারিশমালা
  • ত্যাগই ফুল ফুটায় মনের বৃন্দাবনে
  • প্রকৃতির সঙ্গে বিরূপ আচরণ
  • ঈদের ছুটিতেও যারা ছিলেন ব্যস্ত
  • সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বর্ষপূর্তি : প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা
  • আইনজীবী মনির উদ্দিন আহমদ
  • শিশুদের জীবন গঠনে সময়ানুবর্তিতা
  • শাহী ঈদগাহর ছায়াবীথিতলে
  • কিশোর-কিশোরীদের হালচাল
  • বলকানস : ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্র
  • সন্তানের প্রতি অভিভাবকের দায়িত্ব
  • শিক্ষার হার এবং কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ
  • Developed by: Sparkle IT