উপ সম্পাদকীয় খোলা জানালা

গ্রামাঞ্চলে বৃক্ষ রোপণ

লোকমান হেকিম প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০৬-২০১৯ ইং ০০:৩৩:৪৫ | সংবাদটি ১২৪ বার পঠিত

বর্ষণ হোক বা না হোক এখন আষাঢ়। আজ থেকে বাংলা বর্ষপঞ্জিতে শুরু হলো বর্ষাকাল। তাই সকলের সমবেত প্রচেষ্টায় অধিক বৃক্ষ রোপণ প্রাকৃতিক পরিবেশ সুস্থ ও নির্মল রাখতে সাহায্য করবে। প্রাকৃতিক পরিবেশ সুস্থ ও নির্মল রাখতে গাছের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস, যানবাহন ও কলখারখানা থেকে নির্গত কার্বন-ডাই-অক্সাইড প্রতিনিয়ত আমাদের পরিবেশকে দূষিত করছে। সবুজ গাছ বা বৃক্ষ সে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং বিনিময়ে অক্সিজেন ত্যাগ করে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের ভারসাম্য রক্ষা করছে। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, কোন দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য তার মোট ভূ-খন্ডের অন্ততঃ শতকরা ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা দরকার। কিন্তু বাংলাদেশের মোট বনভূমির পরিমান শতকরা ১৭ ভাগ মাত্র।
দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে ব্যাপকহারে গাছপালা কাটা হচ্ছে। অথচ সে হারে বৃক্ষ রোপণ ও তার রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে না। ফলে গাছপালার ঘাটতির কারণে একদিকে যেমন আমাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় গাছপালাজাত দ্রব্যের অভাব ঘটছে, অপরদিকে প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে। দেশে বন্যা, খরা, ঝড়-ঝঞ্জা, আবহাওয়ার ঊষ্ণতা বৃদ্ধি, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হ্রাস, ভূমিক্ষয়, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উত্তরাঞ্চলের মরু বিস্তারের আশংকা ইত্যাদি বিরূপ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতির মোকাবিলায় সত্যিকারের দেশ প্রেমের মনোভাব নিয়ে প্রতিটি নাগরিককে অধিক বৃক্ষ রোপণ ও তা সংরক্ষণের দায়িত্বভার হাতে নিতে হবে।
এখন বর্ষাকাল। বৃক্ষের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় । কাজেই, নিজের প্রয়োজন, জাতীয় স্বার্থে ও দেশের কল্যাণে এবং আমাদের অস্তিত্ব রক্ষায় এসময় বেশি করে বনজ, ফলদ এবং ওষুধি গাছের চারা লাগানো উচিত। গাছ রোপণের স্থান সঠিক হওয়া প্রয়োজন। যেখানে যে ধরনের গাছ সুষ্ঠুভাবে জন্মানোর উপযোগী, সেখানে সেই গাছ লাগাতে হবে। গ্রামাঞ্চলে কোথায় কি জাতের বৃক্ষের চারা রোপণ করতে হবে তা নি¤েœ বর্ণিত হলো :
বাড়ির আশে-পাশে : গ্রামাঞ্চলের বাড়ির আশে-পাশে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, নারিকেল, সুপারী, খেজুর, বাতাবী লেবু, পাতিলেবু, ডালিম, জামরুল, কুল, বেল, শরিফা, আমড়া, পেয়ারা, করমচা, কামরাঙা, গোলাপজাম, কলা, পেঁপে, জারুল, কড়ই, পিতরাজ, তেলসুর, জলপাই, তেঁতুল, আকাশমনি, ইপিল,ইপিল, শিরিষ, কৃষ্ণচুড়া, সোনালু, মিঞ্জিরি, মেহগিনি এবং বিভিন্ন প্রকার ওষুদি যথাঃ- নিম, অর্জুন, হরিতকি, বাসক, বহেরা, ওলট কম্বল, তুলসি ও ফুলের চারা লাগানো যায়। বাড়ির উত্তর-পশ্চিম কোণে একটি বাঁশঝাড় তৈরি করা যেতে পারে। বাড়ির পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে ছোট আকৃতির সূর্যালোক প্রিয় গাছ এবং পশ্চিম ও উত্তর দিকে বড় গাছ লাগানো ভাল।
স্কুল-কলেজ, মাদরাসা, হাসপাতাল, সরকারি ও বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানে : গেটের দু’পাশে দেবদারু, ছায়ার জন্য কম্পাউন্ডে মেহগিনি, বকুল, শিরিষ এবং চারপাশের সীমানায় কনকচুড়া, কৃষ্ণচুড়া, কেসিয়া নডুসা, জারুল, অশোক, কাঞ্চন, সোনালু, সেগুন, ঝাউ, নাগেশ্বর, নিম, নারিকেল, সুপারি, আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, জলপাই, আমলকি, পেয়ারা, বাতাবিলেবু, জামরুল, খেজুর প্রভৃতি গাছ লাগানো দরকার।
গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও হাট বাজারে : মেহগিনি, বট, তেলসুর, রেইন্ট্রি, শিরিষ, কড়ই, মিঞ্জিরি, নিম, বাবলা, ইপিল-ইপিল, আকাশমনি, পলাশ, জারু, আম, জাম, কাঁঠাল, খেজুর, তেঁতুল, শিশু ইত্যাদি গাছ লাগানো যায়। গ্রামের স্যাঁত সে্যঁতে জায়গায় : হিজল, জারুল, শিমুল, বাবলা, পিটালী, ছাতিয়ান, কদম, গাব, মান্দার, বেত, মুর্তা প্রভৃতি গাছ থাকা প্রয়োজন। উঁচু অনাবাদী ও পতিত জায়গায় : তাল, খেজুর, আম, কাঁঠাল, কাজুবাদাম, শাল, খয়ের, মিঞ্জিরি প্রভৃতি গাছ লাগানো ভাল।
নদী-নালার পাশে : শিশু, কড়–ই, পিটালী, ছাতিয়ান, কদম, জারুল, রেইন্ট্রি, করমচা, শিমুল, খয়ের, বাবলা, খেজুর, তাল, ঝাউ, বাঁশ, বেত, মুর্তা প্রভৃতি গাছ লাগানো যেতে পারে। উপকূলীয় অঞ্চলে : বৃহত্তম খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী এবং চট্টগ্রাম জেলার লবণাক্ত জমিতে কড়ই, শিরিষ, নিম, ইপিল-ইপিল, মান্দার, বাবলা, শিশু, ঝাউ, জাম, কুল, খেজুর, নারিকেল, সুপারি, তাল ইত্যাদি গাছ লাগানো উত্তম। রেল লাইনের পাশে : বাবলা, শিশু, খেজুর, তাল, খয়ের, মেহগিনি, রাজকড়ই, নোনাঝাউ, আকাশমনি, প্রভৃতি গাছ লাগানো দরকার। রেল লাইনে বৃক্ষ রোপণের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন রেল লাইনের ক্রেষ্ট থেকে ৬০ সেঃমিঃ নিচ থেকে গাছ লাগানো হয়। কোন অবস্থাতেই রেল ষ্টেশনের বাইরের সিগনালের ভেতরে, লাইন থেকে বাঁক নিয়েছে সেখানে বা লেভেল ক্রসিং এর কাছে গাছ লাগানো উচিত নয়। সড়ক ও জনপথ : শিরিষ, কড়ই, রেইন্ট্রি, মেহগিনি, ইপিল-ইপিল বকুল, শিশু, বাবলা, তেতুঁল, আম, জাম, কাঁঠাল প্রভৃতি গাছ লাগানো উত্তম । আর শহরতলীতে দেবদারু, ঝাউ, সোনালু, কৃষ্ণচুড়া, অষ্ট্রেলিয়ান একাশিয়া, তাল প্রভৃতি গাছ লাগানো দরকার। যেখানে রাস্তার পাশে অতিবৃষ্টিতে ডুবে যাবার সম্ভাবনা আছে বা যেখানে বর্ষার পর বেশ কিছু সময় বৃষ্টির পানি জমে থাকে সেসব সড়কের পাশে রেইন্টি ও শিশু গাছের চারা লাগানোই উত্তম । কেননা এসব গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে। যেসব জায়গায় বর্ষায় ২/৩ দিন জলাবদ্ধ থাকে কোন অবস্থাতেই সেখানে ইপিল-ইপিল লাগানো উচিত নয়। গাছ একটি আমানত, পরিবারের রক্ষা কবজ। মহানবী সা. নিজ থেকে গাছ রোপণ করেছেন। ধর্মীয় মতে, যদি তুমি জানো আগামীকাল কিয়ামত হবে তবুও আজ একটি গাছের চারা রোপণ কর।
লেখক : কলামিস্ট।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ
  • জলবায়ু পরিবর্তনই আসল সমস্যা
  • কিশোর অপরাধ
  • আ.ন.ম শফিকুল হক
  • হোটেল শ্রমিকদের জীবন
  • বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও কাশ্মীরের ভবিষ্যত
  • বাংলাদেশে অটিস্টিক স্কুল ও ডে কেয়ার সেন্টার
  • বেদে সম্প্রদায়
  • গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে সুপারিশমালা
  • ত্যাগই ফুল ফুটায় মনের বৃন্দাবনে
  • প্রকৃতির সঙ্গে বিরূপ আচরণ
  • ঈদের ছুটিতেও যারা ছিলেন ব্যস্ত
  • সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বর্ষপূর্তি : প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা
  • আইনজীবী মনির উদ্দিন আহমদ
  • শিশুদের জীবন গঠনে সময়ানুবর্তিতা
  • শাহী ঈদগাহর ছায়াবীথিতলে
  • কিশোর-কিশোরীদের হালচাল
  • বলকানস : ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্র
  • সন্তানের প্রতি অভিভাবকের দায়িত্ব
  • শিক্ষার হার এবং কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ
  • Developed by: Sparkle IT