পাঁচ মিশালী

স্বপ্নপুরী লন্ডনে

মোঃ বেলাল আহমদ প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০৬-২০১৯ ইং ০০:৩৫:২৮ | সংবাদটি ২২৯ বার পঠিত

লন্ডন একসময় ছিল পৃথিবীর রাজধানী। এখন ইউনাইটেড কিংডমের রাজধানী যাকে বলা হয় যুক্তরাজ্য। অল্পতেই এখানে জীবনকে অনেক বেশী আনন্দে ভরপুর করে তোলা যায়। শহরের আয়তন হবে একশত বর্গমাইলেরও বেশী। বিলেত আগে আমাদের কাছে স্বপ্নপুরী দেশ হিসেবে বিবেচিত হতো। বিলেত ফেরত মানুষকে একসময় এ দেশের লোক দেখতে আসতো। বিলেতের গল্প শোনার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকতো। এও শোনা গেছে বিলেত ফেরত লোকের গায়ে হাত দিয়ে দেখত বিলেতে মানুষ গেলে এদেশের মানুষ কেমন হয়। যে বাড়ীর মানুষ বিলেতে আসতো সেই বাড়ীর সামাজিক মর্যাদাও বেড়ে যেতো। বিলেতে পাঁচ যুগ আগে আমাদের দেশের এবং উপমহাদেশের বড় লোক, ব্যবসায়ী জমিদার ছেলে-মেয়েরা আসতো ব্যারিস্টারি, চাটার্ড একাউন্টেন্সি পড়তে। এখন তো বিলেতে যে কোন বিষয়ে পড়তে আসা বিশেষ করে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ায় অতি সহজ হয়ে গেছে। বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে সারা দুনিয়া আজ সীমান্ত বিহীন হয়ে গেছে। ইন্টারনেটের বদৌলতে পৃথিবী একটি ড্রইং রুমে পরিণত হয়েছে। এই ড্রইং রুমে বসে নিমিষের মধ্যে বিশ্বের খবরাখবর পাওয়া যাচ্ছে। কনকর্ডের সাহায্যে পৃথিবীর এপার থেকে ওপার ভ্রমণ করে আসা যায়।
এছাড়া বাংলাদেশ বিমান, সারা বিশ্বকে আমাদের দরজায় এন দিয়েছে। আকাশে শান্তির নীড়। শান্তির নীড়ে স্বাচ্ছন্দ্যে বসে উড়ে আসা যায় এখন বিলেতে। কয়েক ঘন্টার মধ্যেই হিথ্রো বিমান বন্দর। তিন নম্বর টার্মিনাল। বিলেত একদিকে প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন নিয়ে বেঁচে আছে। অন্যদিকে আবার আধুনিকতার ছোঁয়া। অত্যাধুনিক স্থাপত্য শিল্পকর্মের প্রতিচ্ছবি পুরাতন ও নতুনের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে প্রতিদিন নতুন নতুন সাজে বিলেত। চারদিকে তাকালে চোখ ফিরিয়ে নেয়া মুশকিল। থিয়েটার, সিনেমা পাব শত বছরের পুরনো হাট-বাজার যেমন পোর্ট কোট লেন, পোট বেলো মার্কেট, স্ট্রাট ফোর্ড মার্কেট, ডগ মার্কেট সহ বিভিন্ন ধরনের বাজার।
দোকান পাট পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে রয়েছে। এছাড়া ইউরোপের সবচেয়ে ব্যস্ত শপিংসেন্টার অক্সর্ফোড ট্রীট পর্যটকদের কাছে আরো প্রিয়। বিলেতের বিশ্ব জোড়া খ্যাতি অর্থনীতি আর সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে। সেই এলাকার রেস্তোঁরাগুলো সব সময়ই পর্যটকদের নিয়ে ব্যস্ত। বহু বর্ণ ধর্মসহ বহু জাতি বিশিষ্ট লন্ডন শহরের রেস্তোঁরাগুলোতেও বহু জাতির খাদ্য সম্ভারের ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য সম্ভবত লন্ডন শহরের রয়েছে বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা। বিলেতে জাদুঘরের অভাব নেই। বিজ্ঞান, প্রাণী, যানবাহন সহ নানা ধরনের জাদুঘর রয়েছে। বৃটিশ মিউজিয়াম দুনিয়ার যত ঐতিহাসিক নিদর্শন এনে জমা করেছ।
হাজার হাজার দর্শকের ভীড় হয় প্রতিদিন। মোট কথা বলা চলে যে, লন্ডন শহর সারা বিশ্বকে কাছে এনে রেখেছে। লন্ডন শহর ছাড়াও বৃটেনের স্কটল্যান্ড, ওয়েলস, নর্দান আয়ারল্যান্ড এই প্রদেশ গুলো অতি প্রাচীন ঐতিহ্য সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক সম্পদ দিয়ে আরও পর্যটকদের আকর্ষণ করেছে। ওয়েম্বলী ষ্টেডিয়াম ফুটবল খেলার রাজধানী। ষ্টেডিয়াম বলে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। বিশ্ববিখ্যাত উইবিলডন টেনিস খেলার আর এক রাজধানী। সারা বিশ্বকে আকৃষ্ট করে রেখেছে। ক্রিকেট খেলোয়াড় আর ভক্তদের জন্য ওভাল আর লর্ডসের নাম বিশ্বব্যাপী। এছাড়া রয়েছে কভেন্ট গার্ডেনসে লাইফ সার্কাস, ম্যাজিক ফুট পাতের উপরেই দেখা যাবে। বারভে কিউ গার্ডেনে দুনিয়ার গাছ গাছালি দেখা যাবে। এখানে ধান গাছও রয়েছে।
টাউয়ার ব্রিজ, সেন্টপল ক্যাথেড্রাল, অরেস্ট মিনিস্টার প্যালেস, ওয়েস্ট মিনিস্টার এ্যাবে, লন্ডন চিড়িয়াখানা সেক্সপিয়ারের জন্মস্থান লন্ডন শহরের বাইরে। এখানে পর্যটকদের ভীঢ় কম নয়। পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের অধীনে বাংলা টাউন। বাঙ্গালি অধ্যুষিত এলাকা। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের অধীনে বাংলা টাউন, বাংলা অধ্যুষিত এলাকা। টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় প্রায় একলক্ষ নব্বই হাজার লোকের বাস। সাদা, কালো এশিয়ান সব মিলিয়ে কালচারাল কমিউনিটি। এই টাওয়ার হ্যামলেটে বসবাসকারীদের চল্লিশ ভাগই বাংলাদেশের সিলেটের মানুষ। অনেকের ধারণা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই কাউন্সিলে বাঙ্গালির সংখ্যা দাড়াবে শতকরা ষাট ভাগ। এই এলাকার বেশীর ভাগ বাঙ্গালিই সিলেট বিভাগ থেকে এসেছে। ব্রিকলেন এবং এর আশপাশ এখন বাংলা টাউন, নামে আখ্যায়িত হয়েছে। ব্রিকলেনই পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আর্ষণীয় স্থান হয়ে দাড়িয়েছে। সেন্ট্রাল লন্ডনে যেমন রয়েছে চায়না টাউন। এর মতো বাংলা টাউনেরও নামডাক। পূর্ব লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেল আর অল্ড ইস্টের মাঝ খানেই ব্রিকলেন। পাশেই বিখ্যাত স্পিটাল ফিল্ড এলাকা।
১৯৫৭-৫৮ সাল থেকে প্রথম বাঙ্গালিদের আগমন ঘটে। এরপর ১৯৬২-৬৩ তে, সবশেষ ১৯৭০-৮১ সালে বাঙ্গালিদের পরিবার পরিজন আসেন। প্রথমে হিউগোনো সম্প্রদায় ফ্রান্স থেকে বিতাড়িত হয়ে পূর্বলন্ডনে এসে বসবাস শুরু করে। এর পর হলুদী সম্প্রদায়, শেষে বাঙ্গালিসহ উপমহাদেশের মানুষ আসতে থাকে। এছাড়া চাইনিজ সম্প্রদায়ও রয়েছে বেশ বড় আকারে।
ইদানিং সোমালিয়া, ভিয়েতনাম, ক্যামবোডিয়া এসব দেশের মানুষও এসে বসবাস করেছে। এদের বেশীর ভাগই রিফিউজী। শ্বেতাঙ্গ এ্যাংলো, স্যাক্সন ছাড়া বিলেতে প্রধান এ্যাথনিক মাইনরিটি কমিনিটি কালো মানুষ আফ্রোক্যারিবিয়ান, তামিল ভারতীয়, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানীরা বাস করেছেন এই পূর্ব লন্ডনে। আইরিশ সম্প্রদায় এখনও রয়েছে এখানে । পূর্ব লন্ডনের মানুষ ইংরেজী ভাষা বলে থাকেন।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT