উপ সম্পাদকীয় খোলা জানালা

বন উন্নয়নে মনোযোগ বাড়ুক

মো. সামছ উদ্দিন প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৬-২০১৯ ইং ০০:১৯:১৯ | সংবাদটি ৯১ বার পঠিত

বনজ দ্রব্যের বহুবিদ ব্যবহার ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। বৈশ্বয়িক জলবায়ু পরিবর্তন প্রশোমনে বনের গুরুত্ব উল্লেখযোগ্য। বন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং বনজ দ্রব্য বন নির্ভরশীল মানুষের জীবিকার প্রধান উপায়। অন্যদিকে অবৈধভাবে বনভূমি দখল, বন হতে অবৈধ এবং মাত্রাতিরিক্ত বনজ সম্পদ আহরণ, বন ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান না থাকা এবং বন আইনের সীমাবদ্ধতা ও যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় ক্রমাগতভাবে বন ধ্বংস হচ্ছে। বন ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন খাতে সরকারের উন্নয়ন এবং অ-উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল। কিন্তু স্থায়িত্বশীল বন ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের ধারাবাহিক এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক বিনিয়োগ দরকার। সরকারের জনস্বার্থ সংশ্নিষ্ট অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ অগ্রাধিকারের কারণে বাজেটে বন খাত সব সময় উপেক্ষিত বিধায় সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, সিভিল সোসাইটি, প্রাইভেট সেক্টর বা বেসরকারি উদ্যোগ ও সংস্থার বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ইতিমধ্যে বন ব্যবস্থাপনায় দাতা গোষ্ঠীর সহায়তায় সহ-ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক-কমিউনিটি বনায়ন মডেল সৃষ্টি করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম-সুখ্যাতি অর্জন করেছে। বন ব্যবস্থাপনায় সরকারের এসব সফল উদ্যোগগুলোকে আরও প্রসার, শক্তিশালী এবং গতিশীল করার জন্য বন খাতে আর্থিক বিনিয়োগকে বহুমুখীকরণ করতে হবে।
সিভিল সোসাইটি সরকারের বাইরের সহযোগী অংশীজন হিসেবে দুর্নীতি দমন, সুশাসনের উন্নয়ন ও জনঅধিকার সম্পর্কে মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সিভিল সোসাইটির ভূমিকা, বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখছে। বাংলাদেশে বন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সিভিল সোসাইটির ভূমিকা চোখে পড়ার মতো নয়। সাম্প্রতিক সময়ে বনভূমি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা সংস্থা উন্নয়নের নামে বন-বহির্ভূত বিদ্যুৎ, সামরিক ও নানা ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ নিচ্ছে। বনভূমি বন-বহির্ভূত অন্যান্য উন্নয়ন খাতে ব্যবহার চেয়ে দাবিদার মন্ত্রণালয় বা সংস্থার সঙ্গে বন অধিদপ্তর বা সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এ ক্ষেত্রে যৌক্তিক দরকষাকষির দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে বলে জানা যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পের কাছে পবিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং বন অধিদপ্তর নিরুপায়। এ পরিস্থিতিতে সিভিল সোসাইটি বন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গণসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে বন অধিদপ্তর ও সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করতে পারে। অধিকন্তু বন-সংক্রান্ত জাতীয় সংলাপ এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে বনভূমি যাতে নন-বনভূমিতে পরিবর্তন না হয়, সে ক্ষেত্রে জনমত গঠন করে বন উজাড় ও অবক্ষয় রোধকল্পে কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে। সিভিল সোসাইটি বন-সংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা এবং বন সম্পর্কিত নীতিমালা প্রণয়নে বিভিন্ন কারিগরি কমিটিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্বব্যাপী প্রাইভেট সেক্টর বন ব্যবস্থাপনায় অন্যতম অংশীজন হিসেবে বিবেচিত এবং দিন দিন বন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রাইভেট সেক্টরের গুরুত্ব বাড়ছে। বন ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমে প্রাইভেট সেক্টর বিশেষ অংশীজন হিসেবে গণ্য। বাংলাদেশে এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোম্পানি বন ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ সরকার ভিশন-২০২১ পূরণার্থে প্রাইভেট সেক্টরকে অন্যতম অংশীজন হিসেবে বিবেচনা করেছে। বন সেক্টরের ওই ভিশন বাস্তবায়নের জন্য প্রাইভেট সেক্টর বনজ দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন, বিপণন, বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করতে পারে। প্রাইভেট সেক্টর বন উজাড় ও অবক্ষয় রোধে জনমত গঠন করে বন সংরক্ষণে এবং বন নির্ভরশীল মানুষের বিকল্প জীবিকায়নে ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশে বনকেন্দ্রিক সমাজভিত্তিক পর্যটন দ্রুত বিকাশ ঘটছে। বন ও জীববৈচিত্র্য বিশেষ করে বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ ও প্রাণী সংরক্ষণে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। এসব কাজের জন্য তাদের বিশেষ স্বীকৃতি প্রদান, যেমন- বিশেষ বন এলাকা বা বন অঞ্চল তাদের নামে নামকরণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ক্লাব, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং গ্রামভিত্তিক নানা উদ্যোগ ফান্ড সংগ্রহ করে বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে পারে। সিভিল সোসাইটি, প্রাইভেট সেক্টর বা অন্য উদ্যোগগুলো যাতে বন উন্নয়ন খাতে অবদান রাখতে পারে, সে জন্য সহায়ক নীতি ও কর্মকৌশল প্রণয়নও জরুরি হয়ে পড়েছে।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ
  • জলবায়ু পরিবর্তনই আসল সমস্যা
  • কিশোর অপরাধ
  • আ.ন.ম শফিকুল হক
  • হোটেল শ্রমিকদের জীবন
  • বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও কাশ্মীরের ভবিষ্যত
  • বাংলাদেশে অটিস্টিক স্কুল ও ডে কেয়ার সেন্টার
  • বেদে সম্প্রদায়
  • গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে সুপারিশমালা
  • ত্যাগই ফুল ফুটায় মনের বৃন্দাবনে
  • প্রকৃতির সঙ্গে বিরূপ আচরণ
  • ঈদের ছুটিতেও যারা ছিলেন ব্যস্ত
  • সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বর্ষপূর্তি : প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা
  • আইনজীবী মনির উদ্দিন আহমদ
  • শিশুদের জীবন গঠনে সময়ানুবর্তিতা
  • শাহী ঈদগাহর ছায়াবীথিতলে
  • কিশোর-কিশোরীদের হালচাল
  • বলকানস : ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্র
  • সন্তানের প্রতি অভিভাবকের দায়িত্ব
  • শিক্ষার হার এবং কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ
  • Developed by: Sparkle IT