সম্পাদকীয়

আজ বাবা দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৬-২০১৯ ইং ০০:২২:১৫ | সংবাদটি ১১৬ বার পঠিত

দুটি অক্ষরে একটি শব্দ ‘বাবা’। অতি প্রিয় একটি শব্দ। প্রতিটি সন্তানের অতি আপনজন তার বাবা। জন্মদাতা পিতা। সন্তানের সুখ দুঃখে পাশে থাকেন বাবা; কষ্ট পেলে মাথায় হাত বুলিয়ে দেন বাবা। বাবাই হচ্ছে প্রতিটি ছেলেমেয়ের জীবনপথের পথ প্রদর্শক। বাবা একটি বটবৃক্ষ; যে সন্তানদের আগলে রাখেন গভীর মায়া মমতায়। জীবনের সকল দুর্যোগ-দুর্বিপাকে ঢাল হয়ে সামনে থাকেন বাবা-ই। বাবা মা’র মমতার বাধনে থেকে সন্তানেরা অনেক অসাধ্য সাধনের স্বপ্ন দেখতে সাহস পায়। একজন আদর্শ মা’র আচলের ছায়াতলে যেমন একটি সন্তান আদর্শ সন্তান হয়ে গড়ে উঠতে পারে-তেমনি সন্তানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বাবার আদর্শই ছায়ার মতো অবস্থান করে সন্তানের পাশে। সেই বাবাদের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে আজ দেশে পালিত হচ্ছে বাবা দিবস।
প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার পালিত হয় দিবসটি। বাবাদের তথা পিতৃত্বকেই সম্মান জানানোর দিন এটি। দিনটি শুধু বাবা নয়, বাবার বাবা মানে পিতামহ এবং তারও পূর্বপুরুষদের প্রতি সম্মান জানানোর দিন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন দিনে বাবা দিবস পালিত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যে জুন মাসের তৃতীয় রোববার পালিত হয় দিবসটি। আর অস্ট্রেলিয়ায় পালিত হয় সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম রোববার। কানাডায়ও জুন মাসের তৃতীয় রোববার পালিত হয় বাবা দিবস। ১৯১০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে প্রথম বাবা দিবস পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়। সে বছর ১৯ জুলাই সেদেশে পালিত হয় বাবা দিবস। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন জুন মাসের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস পালনের ঘোষণা দেন।
একজন সন্তানের জীবনে মায়ের ভূমিকা যতোটুকু, বাবার ভূমিকাও ততোটুকু। তাই সন্তানদের দায়িত্ব মা’র প্রতি যেমন বাবার প্রতিও তেমনি। যে সন্তানকে হাটি হাটি পা পা থেকে নিজের পায়ে চলতে শিখতে বাবা নিজের শ্রম মেধা ব্যয় করেন, সেই সন্তানেরা বাবাকে কী প্রতিদান দিচ্ছে? বিশেষ করে বাঙালি সমাজ ব্যবস্থা রক্ষণশীলতার আবরণে ঢাকা। এখানে ছেলেমেয়ের বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ইত্যাদি সকল পর্যায়ে মায়ের পাশাপাশি বাবার সমান অবদান। তাদের সেই ত্যাগের মূল্য দেয়ার সাধ্য নেই কোনো সন্তানেরই। অবশ্য কোনো বাবা বা মা বিনিময় পাওয়ার আশায় সন্তানদের লালন পালন করেন না। তারপরেও সুযোগ্য সন্তানেরা পিতার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে সদা প্রস্তুত থাকে। এটা তারা নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকেই করে থাকে। এর ব্যতিক্রমও আছে। পিতার যথাযথ অনুশাসনের পরও সন্তানেরা বেপথে পরিচালিত হচ্ছে।
যে বাবা-সন্তানের সম্পর্ক এতোই গভীর, সেই বাবা-সন্তানের সম্পর্কের মধ্যে এক পর্যায়ে কঠোরতা নির্মমতা এসে যায়। এর জ্বাজ্জল্য উদাহরণ ‘বৃদ্ধাশ্রম’। কঠিন বাস্তবতার নিগঢ়ে বন্দী যখন সন্তানের বিবেক-কান্ডজ্ঞান-দায়িত্ববোধ তখনই সে নিজের স্ট্যাটাস বজায় রাখতে গিয়ে বাবাকে দিয়ে আসে বৃদ্ধাশ্রমে। আর সেখানেই বাবার জীবনের শেষ সময়টুকু কেটে যায় নিঃসঙ্গতায়। এই বাবাদের যে কষ্ট, সেটা উপলব্ধি করেনা সন্তানেরা। আবার যে সন্তানেরা বৃদ্ধ বাবাদের গ্রামের বাড়িতে একাকী রেখে নিজেরা অন্যত্র বসবাস করছে সেই বাবাদেরও কষ্ট কম নয়। আজকের এই বাবা দিবসে আমরা সেই হতভাগা বাবাদের প্রতি জানাচ্ছি সহানুভূতি সহমর্মিতা। বাঙালির চিরায়ত একান্নবর্তী বা যৌথ পরিবারে বৃদ্ধ বাবাদের এমন করুণ ভাগ্য বিড়ম্বনার কথা চিন্তাই করা যায় না। অথচ আমরা সেই ঐতিহ্য থেকে সরে আসছি। আমরা নিজেদের বিবেককে জাগ্রত করে বাবাদের যথাযথ মর্যাদা সম্মান জানাতে কার্পণ্য করবো না; বাবাদের দেখানো সৃশৃঙ্খল পথটি ধরেই সন্তানরা এগিয়ে যাক।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT