মহিলা সমাজ

নারী সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ

রূপালী চক্রবর্তী (রূপু) প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৬-২০১৯ ইং ০১:০৮:৫৫ | সংবাদটি ২২৮ বার পঠিত

সৃষ্টির আদিলগ্ন থেকে আমাদের পুরুষ শাসিত সমাজে নারীরা অবহেলিত এবং বঞ্চিত হয়ে আসছে। পুরুষরা নারীদেরকে সবসময় মনে করতো যে নারীরা অবহেলিত। তারা যা আদেশ করবে তাদেরকে তা মাথা পেতে নিতে হবে। পুরুষেরা নারীদেরকে তাদের দাসী ভাবতো। কিন্তু কালের আবর্তে নারীরা আজ তাদের অধিকার বুঝতে শুরু করেছে। নারীরা আজ আর কোন দিক দিয়ে পিছিয়ে নেই।
নারীদের কথা লিখতে গেলেই লিখতে হয় বেগম রোকেয়ার কথা, লিখতে হবে মাদার তেরেসার কথা। তারা উভয়েই মানবপ্রেমী, মানবদরদী, মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মহিয়সী নারী ছিলেন। নারীদের জাগরণের ক্ষেত্রে বেগম রোকেয়ার অবদনা অনস্বীকার্য। আজ এই নারীরা পুুরুষের সমান হয়ে কাজ করছে। নারীদের নিয়ে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘কোনো কালে একা হয়নি গো জয়ী পুরুষের তরবারি, প্রেরণা দিয়েছে শক্তি যুগিয়েছে বিজয়া লক্ষ্মী নারী।’ অথচ এই নারীদেরকে তাদের সেই ন্যায্য অধিকার আদায় করতে কতোই না সংগ্রাম করতে হয়েছে। নারীরা তাদের অধিকার আদায়ে কখনই পিছপা হয়নি। কারণ নারীরা জানে যে, এই যে সুন্দর বসুন্ধরা অর্ধেক হয় নারীর দ্বারা অর্ধেক হয় পুরুষের দ্বারা। আর এই পৃথিবীর অর্ধেকই যদি হয় নারীর দ্বারা তাহলে কেন তারা পুরুষের দাসী হয়ে থাকবে। তারাই বা পুুরুষের চেয়ে কম কী?
আজ আর নারীরা পিছিয়ে থাকছে না আর থাকবেও না। কিন্তু আবার আমরা লক্ষ্য করলে দেখতে পাই যে, এই নারীরাই আজ বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রেক্ষিতে নিজেদের খারাপ পথে পরিচালনা করছে। এই নারীরা বিভিন্ন ধরণের অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। যেমনÑ চোরাচালানকারী, মাদকদ্রব্য পাচার, শিশু পাচার এবং দেহের অপবিত্রতা ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের অসৎ উপায় অবলম্বন করছে। যে নারীদেরকে লক্ষ্মীর সাথে তুলনা করা হয় সেই নারীরাই আজ এই অপকর্মে লিপ্ত হয়ে গোটা নারী জাতিকে করেছে কলঙ্কিনী। কিছু স্বার্থপর এবং সুবিধাবাদী নারীদের জন্য গোটা নারী জাতিকে এই কলঙ্ক বহন করতে হবে তা ঠিক নয়।
নারীরা কেন এই সব অপকর্মে লিপ্ত হবে। নারীদেরকে বলা হয় যে, ঘরের লক্ষ্মী। আবার এই নারীরাই কোনো না কোনো সন্তানের মা। তাহলে নারী যদি মা’ই হয়ে থাকে তবে কেন সে এই সব অপকর্মে নিজেকে নিয়োজিত করে। কারণ একজন মার কাছেই তার সন্তান শিক্ষা পায়। মা যদি সন্তানকে ভালো শিক্ষা না দিতে পারেন তবে তার সন্তান কী করে নিজেকে ভালো বলে সমাজে জাহির করবে। আর এই নারীদেরকে নিয়ে নেপোলিয়ান বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদেরকে একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দিবো।’ আর এই নেপোলিয়ান তো নারীদের উপর আশা করেই বলেছিলেন এই কথা। তাহলে নারীরা যদি খারাপ পথে নিজেকে পরিচালনা করে তবে কী করে সম্ভব হবে শিক্ষিত জাতি গড়া।
নারীরা মায়ের জাতি আর এই মা ভালো হলে তার সন্তান হবে ভালো। আর তাই তো শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র বলেছেন ‘অভ্যাস ব্যবহার যেমনতর সন্তানও পাবি তেমনতরা।’ আর তাই ভালো সন্তান পাওয়ার আশা থাকলে তার মা বাবাকে ভালো হতে হবে। কারণ একটি ভালো সন্তান জন্ম দিলে সমাজ ও জাতির অনেক উপকারে আসে। আর তাই নারীদেরকে হতে হবে ভালো। তারা যদি তাদের অভ্যাস ব্যবহার ভালো করে তাহলে সমাজ ও জাতি তার কাছ থেকে অনেক উপকৃত হবে। আর তাই তো বলি যে, জাগো লক্ষ্মী মায়ের দল, তোমরা না জাগিলে দেশের অমঙ্গল। তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা দেশ। তোমরাই জাগলে দেশের হবে অনেক উপকার। নারীরা আজ গা ভাসিয়ে চলে। কেন নারীরা খারাপ পথে নিজেকে ধাবিত করছে। তবে কী নারী জাতির বিবেক বুদ্ধি সব লোপ পাচ্ছে। আর বিবেক বুদ্ধি না থাকলেই তো একজন মানুষ কোন কাজ খারাপ, কোন কাজ ভালো তা অনুধাবন করতে পারে না। আর তাই উচিত নারীদের সঠিক পথ বাছাই করে সেই পথ অনুসরণ করে চলা। এর জন্য দরকার পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ মেনে চলা। সমাজে কিছু কিছু নারী আছে যারা নিজেরা ভুল পথে নিজেদের অগ্রসর করছে। তারা ভালো মন্দ না বুঝে গা ভাসিয়ে চলতে থকে। আর এই গা ভাসিয়ে চলার কারণেই হচ্ছে গোটা সমাজ ও দেশের ক্ষতি। আর তাই তো আমাদের সবসময় বুঝে শুনে সঠিক পথ বাছাই করে সেই পথ ধরে এগিয়ে যেতে হবে। তবেই হবে সমাজ ও দেশের উপকার।
নারীদের উপরই নির্ভর করে অনেক কিছু। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীবের সমাজ ব্যবস্থায় রয়েছে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বিধাতার দেওয়া মায়া-মমতা ও মহিমাকে কাজে লাগিয়ে শারীরিক, মানসিক মূল্যবোধ বজায় রেখে সুস্থ সুন্দর সমাজ বিনির্মানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। পুরুষের পাশাপাশি নারী জাতিকেও। কথায় আছে, মাতা, মাতৃভাষা, মাতৃভূমি স্বর্গের চেয়েও গরীয়সী।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT