উপ সম্পাদকীয়

ভারতের জাতীয় উন্নয়ন ও ভারত মহাসাগর

অ্যাডভোকেট আনসার খান প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০৬-২০১৯ ইং ০০:৪৩:৪৬ | সংবাদটি ১৮৭ বার পঠিত

ভারত মহাসাগরে প্রভুত্ব এবং প্রাধান্য প্রতিষ্ঠায় দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে। উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে ৩৫০০ কি.মি সীমান্ত রয়েছে এবং উভয় রাষ্ট্রই বিপুল জনসংখ্যা ও বিশাল আয়তন বিশিষ্ট এবং বিশ্বের উদীয়মান অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে বিশ্বপরিমন্ডলে স্বীকৃত। যদিও সকল দিক দিয়ে ভারতের চেয়ে চীনই এগিয়ে আছে বলে গণ্য করা হয়ে থাকে।
ভারত এক উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি এবং পর্যায়ক্রমে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ করে চলেছে; ভারতও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বৃহৎ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের লক্ষ্যে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে চলেছে এবং এজন্য ভারত মহাসাগরে প্রাধান্য অর্জন করা কৌশলগত ও ভূরাজনীতির অবস্থানগত কারণেই জরুরি বলে মনে করেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। ভারত সেজন্যই নানাভাবে অব্যাহত রেখেছে ভারত মহাসাগরে নিজেদের একক প্রভুত্ব স্থাপনের জন্য। এক্ষেত্রে ভারতের সামনে প্রধান বাধা প্রতিবেশী চীন। এ দু’টি রাষ্ট্রের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব এশিয়া সহ আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে প্রভাবিত করে ব্যাপকভাবে। তা সত্ত্বেও একটা অন্যটাকে পেছনে ফেলে এ মহাসাগরে প্রাধান্য স্থাপনে সচেষ্ট।
আঞ্চলি ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বৃহৎ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের ক্ষেত্রে ভারত মহাসাগর কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ তা নিয়ে আলোচনার শুরুতেই চীনের জন্য এ সাগরের গুরুত্ব কেন অধিক সেটার বিষয়ে আলোকপাত করে একটা উপসম্পাদকীয় লিখেছি, যা গত ১৩ জুনের সিলেটের ডাকে প্রকাশিত হয়েছে এবং বক্ষমান নিবন্ধ সেটারই সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।
ভারত দাবি করে ঐতিহাসিক ভাবেই ভারত মহাসাগরের ওপর তার অধিকার ও মালিকানা রয়েছে এবং এ কারণে ভারত এখনো ভারত মহাসাগরকে ‘নিজস্ব লেইক’ এবং ‘পেছনের উঠান’ হিসেবে দাবি করে থাকে।
ভৌগোলিকভাবে ভারত মহাসাগরের মধ্যস্থানে ভারতের অবস্থান এবং দেশটির ১২০০ দ্বীপ ভূমি পরিবেষ্টিত দেশটির উপকূল সীমানা ৭৫০০ কিলোমিটার বিস্তৃত এবং রয়েছে ২.৪ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার বিশিষ্ট এক্সক্লুসিভ ইকোনোমিক জোন (ই.ই.জেড)। এ কারণে অর্থনৈতিক, সামরিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত কারণে এ সাগরের ওপর ভারতের জাতীয় উন্নয়ন ও নিরাপত্তা অনেকখানি নির্ভর করে।
এ মহাসাগর অঞ্চলের কেন্দ্রীয় ও ভূকৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভারতের অবস্থান হওয়ায় দেশটির জাতীয় ও অর্থনৈতিক স্বার্থ এ মহাসাগরের সাথে সম্পর্কিত বলে ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের অভিমত। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ কে.এম পানিকর সেই ১৯৪০ সালে তাঁর এক লেখায় এ অভিমত দিয়েছিলেন যে, ‘ভারত মহাসাগর একমাত্র ওসেনিক অঞ্চল, যা ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্ব সাগর। ভারতের স্বাধীনতা নির্ভর করবে এ সাগরের পানি প্রবাহের স্বাধীনতার নিশ্চয়তার ওপর।’
এই সমুদ্র উপকূলের সুরক্ষা ব্যতীত শিল্পোন্নয়ন, বাণিজ্যিক উন্নয়ন ও বৃদ্ধি এবং স্থিতিশীল রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন মি: পানিকর।
অন্যদিকে, ব্রুকিংস ইন্ডিয়ার গবেষক ধ্রুব জয়শংকরের মতে, ভারত মহাসাগরের সুরক্ষা, এর প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা, এর গুরুত্বপূর্ণ ট্রেড রুটের ওপর নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ চলাচল তথা ফ্রিডম অব নেভিগেশনের নিশ্চয়তার জন্য, সাসটেইনেবল রিসোর্স বেইচ, সামরিক প্রতিযোগিতা, রাষ্ট্র বহির্ভূত সন্ত্রাসবাদ, ঝুঁকিপূর্ণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদি থেকে ভারতীয় মহাসাগর অঞ্চল (আই.ও.আর) কে নিরাপদ রাখার জন্য এ মহাসাগরের ওপর ভারতের প্রাধান্য স্থাপন করা অপরিহার্য।
আরেক বিশেষজ্ঞ শ্রীনাথ রাগবন মনে করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব মোকাবেলার জন্য, চীন কী চায় সেটার জন্য অপেক্ষা না করে ভারত কী করতে পারে সেটার ওপর জোর দিতে হবে এবং আগেভাগেই চীনের মোকাবেলায় ভারতের সক্ষমতার প্রকাশ ঘটাতে হবে। তাই ভারতের দরকার, তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করা, এর প্রতিজ্ঞাসমূহ ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা। আর এসবের সফল প্রয়োগ ঘটাতে হবে ভারত মহাসাগরের ওপর সুপ্রীমেসি স্থাপন করে।
ভারতের বৈশ্বিক ট্রেড রুটের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত-যা বৈশ্বিক ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য ক্রসরোড হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে এবং এ ট্রেড রুট বিশ্বের প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক অঞ্চলকে, যেমন-উত্তর আটলান্টিক এবং এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে সংযুক্ত করেছে। বিশেষ করে-মালাক্কা প্রণালী দিয়ে পূর্বাঞ্চলের ৪০% শতাংশ বৈশ্বিক ব্যবসা বাণিজ্য এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের পশ্চিম অংশের ৪০% ক্রুডওয়েল বাণিজ্য সম্পাদিত হয়ে থাকে।
অন্যদিকে, ভারতের জ্বালানী তেলের জন্য সম্পর্কিত হলো ভারত মহাসাগর। ভারত বিশ্বের চতুর্থতম অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রায় ৭০% তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল দেশটি। আর এ তেলের প্রধান অংশটাই আসে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ সমূহ থেকে। এসব আমদানি হয়ে থাকে ভারত মহাসাগর দিয়ে। ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ চৌক পয়েন্ট সুয়েজখাল, হরমুজ প্রণালী ও আলাক্কা প্রণালী হয়ে আমদানিকৃত তেলবাহী কন্টেইনার ভারতে এসে পৌঁছায়। তাই ভারত মহাসাগরসহ সাগরের সকল সামুদ্রিক রুট নিরাপদ ও কন্টেইনার চলাচলের জন্য সারা বছর ধরে খোলা থাকা অপরিহার্য ভারতের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য।
বর্তমান সময়কালে বিশ্বের কমপক্ষে এক লাখ কন্টেইনারের মাধ্যমে প্রতিবছর ৯.৮৪ বিলিয়ন তেল, পণ্য দ্রব্য ইত্যাদি ভারত মহাসাগর দিয়ে চলাচল করে থাকে। তাই এ সাগরের ওপর নিরাপত্তা বিধানের জন্যও ভারতের ভূমিকা রয়েছে।
অন্যদিকে, ৯৫% শতাংশ ভারতীয় বাণিজ্য এ সাগর দিয়ে সম্পাদিত হয়, মূল্য হিসেবে এর মোট মূল্যের ৬৮% শতাংশ। আর ৩.২৮ মিলিয়ন ব্যারেল অর্থাৎ ৮০% শতাংশ ক্রুডওয়েল প্রতিদিন দরকার ভারতের এবং তা এ সাগর দিয়েই আমদানি করা হয়ে থাকে। ভারত চতুর্থ প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিকারক এবং ৪৫% শতাংশ গ্যাসই এ মহাসাগর হয়ে ভারতে এসে পৌঁছে।
বিশ্বের মোট মৎস্য উৎপাদনের ১৫% শতাংশই ভারত মহাসাগরে হয়ে থাকে। আর এই সাগর হলো ভারতের মৎস্য উৎপাদনের অন্যতমস্থল। ভারতের উপকুলের মৎস্যজীবিদের জন্য এ সাগরের উপকূলগুলো হলো একমাত্র মৎস্য চাষের স্থান। এ মৎস্য চাষ থেকে প্রাপ্ত আয় ভারতের অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছে।
প্রকৃত অর্থেই, ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বাণিজ্যিক ও শিল্পোন্নয়নের সহিত ভারত মহাসাগরের সম্পর্ক রয়েয়ে এবং ভারত মহাসাগরের ওপর দেশটির প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা ভারতকে এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে একটি গ্রহণযোগ্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।
ভারতের এশিয়া অঞ্চলে আঞ্চলিক একক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ভারত মহাসাগরের ওপর দেশটির সুপ্রিমেসি স্থাপন করা এ কারণে দরকার যে, আঞ্চলিক ও বিশ্ব রাজনীতির মূল কেন্দ্রে রয়েছে এ মহাসাগর। এজন্য এ মহাসাগরের ওপর আধিপত্য স্থাপনের জন্য অতীতে বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং এমনকি, যুদ্ধ পর্যন্ত সংঘটিত হয়েছে।
চলমান বিশ্ব ব্যবস্থায় ও ভারত মহাসাগরে প্রতিপত্তি স্থাপনের লক্ষ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিযোগিতা চলছে। এ প্রতিযোগিতার দুটি পক্ষ নিকট প্রতিবেশী দু’টি রাষ্ট্র যা ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিযোগী দু’টি পক্ষ ভারত ও চীন এ মহাসাগরের ওপর নিজেদের ঐতিহাসিক মালিকানা রয়েছে বলে দাবি করছে। এ মালিকানা চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দুটি রাষ্ট্র সামরিক ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন করে চলেছে। দুটি রাষ্ট্রই নিউক্লিয়ার অস্ত্রে সজ্জিত। অন্যদিকে সমুদ্রে প্রভাব বিস্তারের জন্য আধুনিক নৌ শক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে দেশ দু’টি।
ভারত মহাসাগর অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের এ প্রতিযোগিতাকে ‘গ্রেট গেইম’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এ প্রতিযোগিতায় পক্ষগুলো এশিয়া ও এর পার্শ্ববর্তী জলের ওপরও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জড়িয়ে পড়েছেন। এর লক্ষ্য বহুমাত্রিক, যেমন সামরিক, নিরাপাত্তা, ডিপলোমেটিক, জ্বালানী ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা।
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ২০১৭ সালে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দানকালে বলেছিলেন, পশ্চিমে গালফ অব এডেন, ইরানে চীনের অর্থায়নে নির্মিতব্য চাবাহার পোর্ট হয়ে দক্ষিণ পশ্চিমে ইরান এবং পূর্বে মিয়ানমার হয়ে থাইল্যান্ড পর্যন্ত ভারত প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
ভারত সমুদ্র পাড়ের রাষ্ট্র বিশেষ করে, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, মৌরিতিয়াস, সিসিলি, বাংলাদেশ প্রভৃতি রাষ্ট্রের সাথে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ়তর করেছে। একই সাথে চীনের কাউন্টার হিসেবে সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে চীনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষেণের জন্য ‘কোস্টাল সারভেইল্যান্স রাডার সিস্টেমস বা সিএসআরএস’ প্রকল্প গড়ে তুলেছে।
ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ চীনের ন্যাভাল ফোর্স। ভারত মহাসাগর এবং চৌক পয়েন্টগুলোর ওপর ভারতের কর্তৃত্ব স্থাপন ও বহাল রাখার জন্য চীনের নৌবাহিনীর শক্তি সামর্থের তুলনায় ভারতের নৌবাহিনী ততটা শক্তিশালী নয় বলে নানা সূত্র থেকে তথ্য পাওয়া যায়। যেমন-ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর স্ট্যাটেজিক স্ট্যাডিজ চীন ও ভারতের সিলেক্টেড ন্যাভাল ব্যাচেলের তুলনামূলক এক চিত্র উপস্থাপন করেছে। ২০১৮ সালের এপ্রিলের শেষ তথ্য মতে যে তুলনামূলক বিবরণ দেওয়া হয় তাহলো :
১. প্রিন্সিপাল সারফেস কমব্যাটান্টস (ইক্সকুলুডিং এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারস, ভারতের রয়েছে ২৭, পক্ষান্তরে চীনের রয়েছে ৮৩।
২. এ্যাটাক/গাইডেড মিসাইল সাবমেরিনস-ভারতের ১৫ এবং চীনের রয়েছে-৫৭।
৩. নিউক্লিয়ার পাওয়ারড ব্যালেস্টিক মিসাইল সাবমেরিন-ভারতের-০১, চীনের-০৪।
উপরোক্ত তথ্য মতে, সমুদ্র দখলদারিত্ব স্থাপন ও নিয়মিত টহলদান ও মোতায়েনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যাভাল যুদ্ধাস্ত্র ভারতের তুলনায় চীনের অনেক বেশি রয়েছে। চীন গড়ে তুলেছে ব্লুওয়াটার ন্যাভাল ফোর্স। ভারতের তেমন কোনো ফোর্স নেই।
অবশ্য ভারত তার নৌবাহিনী শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে ১৫ বছরের লক্ষ্যমাত্রা (২০১২-২০২৭) সামনে রেখে ন্যাভি আধুনিকায়ন পরিকল্পনা-দ্য লং টার্ম পারসপেক্টিভ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যার লক্ষ্য হলো, এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ফোর্স শক্তিশালীকরণ, ডেস্ট্রয়ার ও সাবমেরিনস উৎপাদন, মজুত করা এবং তা দক্ষিণ চীন সাগর, ওয়েস্টার্ন প্যাসিফিক এবং ভূমধ্যসাগরে টহলদানের জন্য মোতায়েন করা। এ পরিকল্পনা উচ্চবিলাসী হলেও ব্রুকিংস ইন্ডিয়া এর গবেষক ধ্রুব জয়শংকর মনে করেন, মহাদেশীয় বিবেচনায় ভারত এ মহাসাগর অঞ্চলে কৌশলগত প্রাধান্য দিয়েছে-যে কারণে নৌবাহিনী আধুনিকায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে।
অন্যদিকে, মেইড ইন্ডিয়া প্রোগ্রাম-২০১৪ সালের ঘোষণা অনুযায়ী ভারত তার নিজস্ব ডমেস্টিক প্রতিরক্ষা শিল্প বিকশিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ভারতীয় সরকার তার পররাষ্ট্রনীতিতে ভারত মহাসাগর অঞ্চলকে প্রাধান্য দিয়ে সে অনুযায়ী এ মহাসাগরের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা এবং নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ সাগরে নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে এবং বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকে ভারতের শক্তি-সামর্থতা সম্পর্কে আশ্বস্থ করতে যা করা দরকার তা করে যাচ্ছে। ভারতের ভূঅর্থনীতি ও জিওপলিটিক্যাল স্বার্থেই দেশটি সাগরে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। জাতীয়-আন্তর্জাতিক ও রিজিওনাল কানেকটিভিটি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা ইত্যাদির জন্য এ সাগরে সুপ্রিমেসি স্থাপন দেশটির জন্য অপরিহার্য।
লেখক : আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ
  • জলবায়ু পরিবর্তনই আসল সমস্যা
  • কিশোর অপরাধ
  • আ.ন.ম শফিকুল হক
  • হোটেল শ্রমিকদের জীবন
  • বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও কাশ্মীরের ভবিষ্যত
  • বাংলাদেশে অটিস্টিক স্কুল ও ডে কেয়ার সেন্টার
  • বেদে সম্প্রদায়
  • গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে সুপারিশমালা
  • ত্যাগই ফুল ফুটায় মনের বৃন্দাবনে
  • প্রকৃতির সঙ্গে বিরূপ আচরণ
  • ঈদের ছুটিতেও যারা ছিলেন ব্যস্ত
  • সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বর্ষপূর্তি : প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা
  • আইনজীবী মনির উদ্দিন আহমদ
  • শিশুদের জীবন গঠনে সময়ানুবর্তিতা
  • শাহী ঈদগাহর ছায়াবীথিতলে
  • কিশোর-কিশোরীদের হালচাল
  • বলকানস : ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্র
  • সন্তানের প্রতি অভিভাবকের দায়িত্ব
  • শিক্ষার হার এবং কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ
  • Developed by: Sparkle IT