সম্পাদকীয় একজন সাহসী মানুষ বিশ্বাসেও পরিপূর্ণ। -সিমেরো

মানুষ বাড়ছে মিনিটে দশ

প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০৬-২০১৯ ইং ০০:৪৫:৩৭ | সংবাদটি ৯৯ বার পঠিত

মিনিটে জনসংখ্যা বাড়ছে দশজন। আর দিনে বাড়ছে প্রায় ছয় হাজার। জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই হারকে রীতিমতো ‘জনবিস্ফোরণ’ বলে অভিহিত করছেন বিশেষজ্ঞগণ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে ১৯৭৪ সালে জনসংখ্যা ছিলো সাত কোটি ১৪ লাখ। ১৯৯১ সালে হয় দশ কোটি ৬০ লাখ। ২০১১ সালে দাঁড়ায় ১৪ কোটি ২০ লাখে। আর বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৭৪ লাখ ৬৯ হাজার। ১৯৭৪ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিলো আড়াই শতাংশ। ১৯৭০ সালে ছিলো তিন শতাংশ। আর বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এক দশমিক তিন সাত শতাংশ। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রায় ১১শ জন। অর্থাৎ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অতীতের তুলনায় বর্তমানে কমে আসলেও সার্বিকভাবে তা সন্তোষজনক নয়। কারণ এই হারে জনসংখ্যা বাড়লেও জনসংখ্যা ২০ কোটিতে পৌছুবে অচিরেই। তাই এখন থেকেই সতর্ক হতে হবে।
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম এ দেশে শুরু হয় স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই। বর্তমানে এই কার্যক্রম চলছে ঢিমেতালে। মাঠ পর্যায়ে সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ ব্যাপারে সচেতনতা নেই বললেই চলে। সেই সঙ্গে রয়েছে ধর্মীয় গোঁড়ামি। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষিত-সচেতন দম্পতিও অধিক সন্তান নিচ্ছে। অনেক দম্পতি অনাকাংখিত শিশুরও জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এ ব্যাপারে বলা যায় অন্ধকারে। এছাড়া, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন পদ্ধতি ও সামগ্রীর দুষ্প্রাপ্যতাও রয়েছে। বর্তমানে দেশে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ছেড়ে দেয়ার হার যেমন বেশি, সক্ষম দম্পতির সংখ্যাও তেমনি বেশি। দেশে কমপক্ষে ২৭ শতাংশ দম্পতির পরিবার পরিকল্পনার চাহিদা থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে সেই সেবা দেয়া হচ্ছে না। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এই যে ব্যর্থতা, এ থেকে উত্তরণ জরুরি। তার জন্য দরকার হচ্ছে ধর্মীয় অপব্যাখ্যা থেকে মানুষকে দূরে রাখা এবং যথাযথ প্রচারণা ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে সকল স্তরের মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন করে তোলা।
আসল কথা হলো, বাংলাদেশে বর্তমানে যে জনসংখ্যা রয়েছে তা আয়তনের তুলনায় অনেক বেশি। তাছাড়া, বাংলাদেশ বিশ্বে একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। সুতরাং এই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে টেকসই অবস্থানে নিয়ে আসতে না পারলে আমাদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনের সর্বক্ষেত্রে বর্ধিত জনসংখ্যা ভবিষ্যতে নানামুখী সমস্যা সৃষ্টি করবে। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মতৎপরতা জোরদার করার পাশাপাশি দরকার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণকে একটা সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করা।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT