ইতিহাস ও ঐতিহ্য

ঐতিহ্যে অম্লান গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়

সৈয়দ আহমদ প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০৬-২০১৯ ইং ০০:৪৯:২৪ | সংবাদটি ১০৮ বার পঠিত

সিলেট-সুনামগঞ্জ ও ছাতকের মিলনস্থলে অবস্থিত প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়। ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচীনতম এই বিদ্যালয়টি যুগ যুগ ধরে অত্রাঞ্চল ও দেশের মানুষকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রসংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। মানবজীবনের অগ্রগতির মূলনীতি হলো শিক্ষা। গৌরবান্বিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সুদৃঢ় সম্পৃতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সু-শিক্ষার আলো ছড়িয়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষা ও মেধাই মানুষের বড় সম্পদ। সেই মানসম্পন্ন মেধা ও শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে মানুষকে সভ্য করে গড়ে তোলার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে বিদ্যালয়। সুনামগঞ্জ জেলাধীন ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনতম বিদ্যাপীট গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়টির অবধান সে ক্ষেত্রে প্রসংসনীয় ও অনস্বীকার্য।
শিক্ষা ছাড়া কোনো কালেই কোনো জাতি উন্নতি করেছে এমন নজির বিরল। শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। আর সে মেরুদন্ড গড়ার শক্ত ভিত্তির ক্ষেত্রস্থল হল বিদ্যালয়। প্রতিটি মানুষকে সভ্য করে গড়ে তোলার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে বিদ্যালয়। তাই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করার মতো মহৎ ও কল্যাণকর কাজ আর দ্বিতীয়টি নেই। তাই গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী বিদ্যালয়টি সম্পর্কে লিখার প্রথমেই শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ও আমার শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক মরহুম এ.কে.এম শামছুল হক (ছমরু মিয়া) ও প্রতিষ্ঠাতা সহকারী প্রধান শিক্ষক মরহুম আব্দুস ছোবহান (মদরিছ মাস্টার) এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক ও পরবর্তীতে গোবিন্দগঞ্জ আং হক স্মৃতি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মরহুম সিরাজুল ইসলাম সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে। যাদের শ্রমে ঘামে গড়া এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গোবিন্দগঞ্জ অঞ্চলকে আজ শিক্ষার আলোয় আলোকিত করছে। আলোকিত মানুষ তৈরী করে সমাজ, দেশ ও জাতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। আমরা এই খ্যাতিমান বিদ্যালয়টির উত্তরোত্তর উন্নতি ও সাফল্য কামনা করছি।
সিলেট-সুনামগঞ্জ আন্তঃজেলা মহাসড়কটির সাথে ছাতক-সিলেট আঞ্চলিক সড়কের মিলনস্থল অথবা ছাতক-সিলেট রেলওয়ে লাইনের ক্রসিং পয়েন্ট সংলগ্ন স্থানটির নাম গোবিন্দগঞ্জ তেমুখী পয়েন্ট। গোবিন্দগঞ্জ নতুন বাজার সংলগ্ন বর্তমান তেমুখীর দক্ষিণ পার্শ্বের দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর পিছনে বা দক্ষিণ দিকে ছাতক-সিলেট রেল লাইনের ভটের খাল নদীর উপর লাল সেতুটির পূর্ব পাশে এবং গোবিন্দগঞ্জ নতুন বাজারের পশ্চিম পার্শ্বে ভটের খাল নদীর তীরে গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়টির অবস্থান। বর্তমানে সিলেট-সুনামগঞ্জ আন্তঃজেলা মহাসড়কের দক্ষিণ পার্শ্বে স্থাপিত একটি সাইনবোর্ড শোভা পাচ্ছে। দৃশ্যমান সাইনবোর্ড হতে একটি রাস্তা গোবিন্দগঞ্জ নতুন বাজারের ভিতর দিয়ে মসজিদের পাশ ঘেষে স্কুলে প্রবেশ করেছে। রেলওয়ে সড়কের উপর দিয়ে অথবা রেলসেতুর নীচ দিয়ে পশ্চিম পার্শ্বের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ স্কুলে প্রবেশের আরও একটি রাস্তা রয়েছে। আমরা যখন স্কুলটির ছাত্র ছিলাম (১৯৬৯-৭২) তখন স্কুলটির চতুর্পাশ দিয়েই স্কুলে প্রবেশ করতে পারতাম। তখন গোবিন্দগঞ্জ তেমুখী পয়েন্টে কোনো দোকানপাট ছিল না, ফলে পয়েন্ট থেকে বিদ্যালয়টি স্পষ্ট দেখা যেতো। আমরা ছাতকবাজার থেকে বেবীটেক্সী যোগে পয়েন্টে নেমে রেললাইন ধরে সামান্য কয়েক কদম হেঁটে সরাসরি বিদ্যালয়টিতে প্রবেশ করতে পারতাম।
বিদ্যালয়টির সামনে পেছনে প্রচুর খোলামেলা জায়গা ছিল। আমরা শীতকালে এসব খোলা জায়গাগুলোতে কাবাডি, দাড়িয়াবান্দা ও ফুটবলসহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা করতাম। তখন অবশ্য ক্রিকেট খেলার প্রচলন ছিল না। চতুর্পার্শ্বে খোলামেলা থাকায় গরমের দিনে জানালা দিয়ে শ্রেণী কক্ষগুলোতে প্রচুর বাতাস প্রবেশ করার কারণে চরম গরমের দিনগুলোতেও ক্লাশ করতে আমাদের অসুবিধা হতো না। বিদ্যুৎ ও ফ্যান ছিল তখন স্বপ্নের বিষয়। তখন পূর্ব-পশ্চিমে এল সাইজের একটি সেমিপাকা টিনশেড বিল্ডিং ছিল। বিদ্যালয়ের সামনের মাঠেও আমরা খেলাধুলা করতাম কিন্তু বাজারের দিন অর্থাৎ সোম ও বৃহস্পতিবার উক্ত স্কুলের মাঠে গরুর বাজার বসতো এবং নদীর পাড়ে একটি রাইস মিল ও পূর্ব পার্শ্বে ডাকঘর থাকায় আমাদের খেলাধুলা ও চলাচলে অসুবিধা হতো। ব্যাপারটি নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিবাদ ও অভিযোগ থাকলেও তখন সমাধান করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে আর আগের মতো তেমন অসুবিধা নেই, এখন বেশ কিছু নতুন বিল্ডিং হয়েছে, চর্তুদিকে বাউন্ডারী করা হয়েছে। বিল্ডিং ক্লাশরুম যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে তৎরূপ ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে একটি কথা না বল্লেই নয়, আমাদের সময় বিদ্যালয়টিতে ছাত্রী সংখ্যা নিতান্তই কম ছিল। আমাদের ক্লাশে মাত্র একজন ছাত্রী ছিল। এখন বিদ্যালয়টিতে ছাত্রের চেয়ে ছাত্রীর সংখ্যা বেশি। কারণ অভিভাবকবৃন্দের চোখ খোলে গেছে, মেয়ে সন্তানকে শিক্ষিত করার আগ্রহ বাড়ছে ফলে মেয়ে শিক্ষার প্রবণতা ও হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই অত্রাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটছে। ‘আমাকে শিক্ষিত মা দিন আমি আপনাদেরকে উন্নত দেশ উপহার দিব’ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নেপোলিয়ানের উক্ত বাণীর প্রতি আগ্রহ আমাদের দেশবাসীকে উদ্ভুদ্ধ করছে। যা দেশ ও জাতীর উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। তাইতো আজ আমরা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি।
১৯৫৭ সালে মাত্র ৫৮ জন ছাত্র নিয়ে শিক্ষা দরদী শ্রদ্ধেয় প্রধান শিক্ষক মরহুম এ.কে.এম শামছুল হক (ছমরু মিয়া) ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মরহুম মদরিছ মাস্টারের নেতৃত্বে এক দরজা ও এক কক্ষ বিশিষ্ট পরিত্যক্ত এস.ডি মাদ্রাসার কক্ষে যে বিদ্যালয়টির শুভ সূচনা হয়েছিল, পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালে বর্তমান স্থানের ১.৩৮ একর জমির উপর স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিদ্যালয়টিকে আর পেছনের দিকে তাকাতে হয়নি। এলাকাবাসীর গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শুভাকাক্সিক্ষগণকে সাথে নিয়ে কন্ঠকাকীর্ণ দূর্গম, পথে প্রজ্জলিত শিক্ষার আলোর মিছিল নিয়ে যখন দুই বন্ধু অতিক্রম করছিলেন তখন তাদের সেই মিছিলে দরদী মন নিয়ে যোগ দেন হরিনগর নিবাসী আমার প্রাণপ্রিয় শিক্ষক শিক্ষাবিদ মরহুম অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সেই যুদ্ধে বিজয়ী শিক্ষকবৃন্দের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অত্র অঞ্চলের অন্ধকার দূরিভূত হয়ে আলোর পথে এগুচ্ছিল এবং স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছিল তখন আরও দ্রুত উন্নয়নের জন্য শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটি কর্তৃক বহিরাগত ছাত্র-ছাত্রীদের এলাকায় সাদরে গ্রহণ করে লজিং বা আশ্রয় দিয়ে বিদ্যালয়টির উন্নয়ন ও ছাত্র-ছাত্রী বৃদ্ধির কাজ চলছিল। আমরা তখন এই বিদ্যালয়টিতে ছাত্র হিসাবে যোগ দিয়েছিলাম।
১৯৫৭ সালে যে বিদ্যালয়ে মাত্র ৫৮ জন ছাত্র নিয়ে শুরু হয়েছিল সেই বিদ্যালয়ে আমরা যখন ভর্তি হলাম অর্থাৎ ১৯৬৯ সালে শুধু আমাদের ৭ম শ্রেণীতেই প্রায় ৬০/৬৫ জন ছাত্র ছিল এবং বিদ্যালয়ে তখন মোট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ছিল ২৫০ শত থেকে ৩০০ শত জন। বর্তমানে ছাত্র সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৪ সালের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পূনর্মিলনী স্মারকগ্রন্থের হিসাব অনুযায়ী মোট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ২১৬৪ জন। ২০১৯ সালে হয়তো আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৩০০০ (তিন হাজার) অতিক্রম করতে পারে। ছাত্র-ছাত্রী বৃদ্ধির মূল কারণ হল, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে গোবিন্দগঞ্জ অঞ্চলের সু-শিক্ষার একমাত্র কর্ণধার হিসাবে সুখ্যাতি অর্জন সহ প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে সুশিক্ষার আলোকবার্তা সফলভাবে পৌঁছে দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি আজ আদর্শ মানুষ গড়ার সুতিকাগার হিসাবে সুখ্যাতি অর্জন করেছে। তাছাড়া উক্ত বিদ্যালয় থেকে শত শত ছাত্র-ছাত্রী আলোকিত মানুষ হিসাবে সমাজ, অঞ্চল ও দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে অথবা দেশমাতৃকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই আজ গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় সুনামগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসাবে স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত। প্রাক্তন ছাত্র হিসাবে উক্ত বিদ্যালয়টির আরও উন্নতি ও শ্রেষ্ঠত্ব কামনা করছি।
১৯৬৯ সালে আমি যখন উক্ত বিদ্যালয়টিতে ৭ম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিলাম তখন প্রধান শিক্ষক ছিলেন এ কে এম শামছুল হক (ছমরু মিয়া)। তিনি এই বছরেই অবসরে চলে যাওয়ায় প্রধান শিক্ষক হিসাবে জনাব মহিবুর রহমান স্যার যোগদান করেছিলেন। তিনি শিক্ষক হিসাবে ছিলেন অনেক প্রজ্ঞাবান। আমরা উনাকে শ্রদ্ধা করতাম তিনি আমাদেরকে সন্তানতুল্য ভালোবাসতেন। আমাদের শ্রেণী শিক্ষক ছিলেন শ্রদ্ধেয় রবি স্যার। তিনি আমাদেরকে অংক করাতেন। আমি অংকে ভালো ছাত্র ছিলাম বলেই হয়তো তিনি আমাকে ¯েœহ করতেন। আজহার আলী স্যার, প্রদীপ স্যার, মগনী স্যার আমাদেরকে সন্তানতুল্য ¯েœহ করতেন। আমাদের ক্লাসমিটদের মধ্যে ওয়াছির আলী, নির্মল কান্তি দাস, প্রফুল্ল কুমার দাস, তাপস দাস পুরকায়স্থ, চমক আলী, কবির উদ্দিন লালা ও আং খালিকসহ, অনেকের নাম মনে নেই। লালা ও খালিক উভয়ই ভালো বাউল গান গাইতে পারতো। প্রায় দিনই তারা ক্লাশের মধ্যে টেবিল ও ডেক্স চাপরিয়ে গান গাইতো, আমরা শ্রোতা হিসাবে তাদের সাথে তাল মিলিয়ে গানে যোগ দিয়ে আনন্দ উপভোগ করতাম। সেই আনন্দ বেদনা ও দুষ্টামির কথাগুলো আজও ভুলতে পারিনি। আমরা যখন ৮ম শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণীতে উন্নীত হলাম তখন ছিল ১৯৭১ সাল অর্থাৎ স্বাধীনতার বছর। ফলে বছরের প্রথম থেকেই দেশ ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি স্বরূপ মিটিং, মিছিল, হরতাল ইত্যাদি দ্বারা উত্তাল। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর ইত্যাদি শ্লোগানে আকাশ বাতাস ছিল মুখরিত। ফলে নবম শ্রেণীতে মার্চ পর্যন্ত ক্লাশ করা সম্ভব হয়নি। জানুয়ারি থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আমরা স্কুলে উপস্থিত থাকলেও সারা দিন ক্লাশ বাদ দিয়ে মিটিং, মিছিল, হরতাল ও অসহযোগ আন্দোলনে ব্যস্ত থাকতে হতো। ২৫শে মার্চের কালো রাত্রির পর হতে অত্রাঞ্চলের পরিস্থিতি থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। পাক সেনাদের ভয়ে চারিদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছিল, অন্যদিকে পাক বাহিনীকে প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুতিও চলছিল। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষক অভিভাবকের কথায় আমরা বহিরাগত ছাত্ররা স্কুল ও লজিং ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যাই এবং যুদ্ধ শেষে বিজয়ীর বেশে লজিং বাড়িতে এলাম অর্থাৎ ১৬ই ডিসেম্বরের পর পুনঃরায় লজিং বাড়িতে এসে স্কুলে যোগদান করেছিলাম। মধ্যখানের উল্লেখিত নয় মাস আমরা অনেকেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। নয় মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস পরবর্তীতে লিখতে চেষ্টা করব।
নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ৩০/৩৫ কিঃ মিঃ দূরে গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে যেদিন প্রথম ভর্তি হয়ে প্রথম ক্লাশ করতে গিয়েছিলাম, তখন মনের মধ্যে অনেক ভয়ভীতি ও সংশয় থাকলেও প্রত্যাশা ছিল প্রচুর। তাই কিছুদিন ক্লাশ করার পর সহপাঠি ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দের আন্তরিক ¯েœহ-মমতা ও ভালোবাসায় সেই ভয়ভীতি কেটে গিয়ে স্বস্থি ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছিল। শিক্ষকবৃন্দের অমায়িক ব্যবহার ও পিতৃসুলভ সদাচরণ ও বিদ্যালয়ের সহপাঠিবৃন্দের বন্ধুসুলভ ভালোবাসায় বিদ্যালয়ের সকলকে এক পরিবারভুক্ত বলেই মনে হতো। শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মন্ডলীর ¯েœহ-মমতা ও ভালোবাসায় বিদ্যালয়ের আঙিনাটিও যেন পরম মমতায় আমাকে আঁকড়ে ধরেছিল। বিশেষ করে আমার শ্রদ্ধাভাজন প্রধান শিক্ষক মরহুম ছমরু মিয়া ও মরহুম মুহিবুর রহমান স্যারসহ রবি স্যার, মগনি স্যার ও সিরাজুল ইসলাম স্যারের ভালোবাসা ও ¯েœহ মমতায় ছিলাম আচ্ছাদিত এবং একেই পরিবারভুক্ত। কিছুদিন পূর্বে সেই স্কুল কম্পাউন্ডে কিছু তথ্যের জন্য গিয়েছিলাম বিদ্যালয়টির বর্তমান প্রধান শিক্ষক শিক্ষাবিদ জনাব আতাউর রহমান স্যারের নিকট। উনার কথা ও কাজের সহযোগিতাসহ অমায়িক ব্যবহারে আমি আস্বস্ত ও সন্তুষ্ট এই জন্য যে, স্কুলটিকে আরও গতিশীল ও উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনিই প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মরহুম ছমরু মিয়া স্যারের একমাত্র যোগ্য উত্তরসূরী। সিলেট থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে গোবিন্দগঞ্জ তেমুখীতে পৌঁছলেই মনের কোণে একটা বেদনার ভাব জমে উঠে এই ভেবে যে, জীবনের মধুর একটা সময় আমরা উক্ত বিদ্যালয়ের আঙিনায় কাটিয়েছিলাম। সোনালী সেই দিনগুলো এখন হারিয়ে যাচ্ছে হাজার স্মৃতির ভিড়ে। তবু সেই দিনগুলি শরতের নীল আকাশের মতো ছেয়ে থাকবে আমৃত্যু আমার মনের গহিনে। তাই আজও গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাফল্য কামনা করি, অনেক দূর এগিয়ে যাক এই বিদ্যাপিঠ, আরোহন করুক সাফল্যের শীর্ষে।

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • সিলেট প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে ভাবনা
  • খাপড়া ওয়ার্ড ট্রাজেডি
  • জাদুঘরে হরফের ফোয়ারা
  • ইতিহাস গড়া সাত শক্তিমান
  • ভেজাল খাবার প্রতিরোধের ইতিহাস
  • বর্ষাযাপন : শহর বনাম গ্রামগঞ্জ
  • বর্ষা এলো বর্ষা
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • নবীদের স্মৃতিচিহ্নে ধন্য যে জাদুঘর
  • দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র
  • ঐতিহ্যে অম্লান গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়
  • বিলুপ্তির পথে গরীবের ‘শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত’ মাটির ঘর
  • হারিয়ে যাচ্ছে হিজল গাছ
  • তালের পাখা প্রাণের সখা
  • জামাই ষষ্ঠী
  • বাঙালির অলংকার
  • জল-পাহাড়ের ’কাঁঠালবাড়ি’
  • সাগরের বুকে ইসলামি স্থাপত্য জাদুঘর
  • বাঙালির আম-কাঁঠাল
  • ঐতিহ্যের সিলেট
  • Developed by: Sparkle IT