ইতিহাস ও ঐতিহ্য

দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র

রঞ্জিত কুমার দে প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০৬-২০১৯ ইং ০০:৪৯:৫৫ | সংবাদটি ৩৪১ বার পঠিত
Image

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই বাংলাদেশ আজ সকলের কাছে পরিচিত। বাংলাদেশ নামক নতুন রাষ্ট্রের পরিচিতি সাম্প্রতিক সময়ের হলেও, গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ এলাকার পরিচিতি অতি প্রাচীন। অতীতে জানা বিশ্বের কাছে এদেশের পরিচিতি ছিলো সুজলা-সুফলা শস্য শ্যামলা রূপে। তাইতো প্রকৃতির সেই সৌন্দর্য দর্শনে, কখনও বা আধিপত্য বিস্তারে, এমনকি সম্পদ আহরণে যুগে যুগে বহিরাগতদের আগমন ঘটেছিলো এ দেশে। আবার ধর্ম প্রচারেও এদেশে বহু সুফি-সাধকদের আগমন ঘটেছিলো পশ্চিমা দেশের নানা অঞ্চল থেকে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত সে সকল বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সকলেই অবহিত। এদেশের লেখক, কবি, সাহিত্যিক আর শিল্পীদের লিখনী ও তুলির আঁচড়ে তারই ছবি প্রতিফলিত হয়ে আসছে সেই প্রাচীনকাল থেকে। বাংলা বান্দা থেকে সেন্টমার্টিন, গজনী থেকে কুয়াকাটা, জাফলং থেকে হিরণ পয়েন্ট সর্বত্রই রয়েছে প্রকৃতির নয়নাভিরাম দৃশ্যপট। এমনই প্রকৃতির নিজ হাতে সৃষ্ট সেই পরিবেশে এখানকার মানুষগুলোও চিরাচরিতভাবে সহজ সরল ও অনাড়ম্বর জীবন যাপনে অভ্যস্ত।
এদেশের মানুষের জীবন যাত্রা অতি সাধারণ হলেও, এই জাতির সভ্যতা অতিশয় পুরাতন। পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতা সমূহের মতো নগর সভ্যতা এখানে গড়ে না উঠলেও এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা ও কৃষ্টি ছিলো অত্যন্ত উন্নত। নরসিংদী জেলার ওয়ারী বটেশ্বরে আবিস্কৃত নৃ-তাত্ত্বিক নিদর্শন ও ঐতিহাসিক ঘটনা প্রবাহ তারই প্রমান বহন করে। প্রকৃতিকে দেখার ও উপভোগ করার বহুবিধ উপাদান এদেশের নানা এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে।
নগর সভ্যতার যান্ত্রিক উপাদানের বৈভব এখানে ততোধিক না থাকলেও, চোখ দিয়ে দেখার ও মন দিয়ে উপলব্ধি করার মতো সকল উপাদান বাংলাদেশের সর্বত্র বিদ্যমান। চোখ খুললেই দেখা যায় দিগন্ত বিস্তৃত সবুজের সমারোহ, নীল আকাশ, আবার কখনও মেঘ, বৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ের ঘনঘটা, আবার কোথাও নদী তীরে ভাঙা গড়ার খেলা। সমুদ্রতীরে সুদূর বিস্তৃত সৈকত ভূমি, জোয়ার ভাটার খেলায় গড়ে ওঠা শ্বাসমূলী বৃক্ষের অরণ্য ভূমি, আর তারই ছায়ায় লালিত ডোরাকাটা রয়েলের আবাসভূমি সুন্দরবন। পাহাড়ি উপত্যকায় সৃষ্টি সুদূর বিস্তৃত কৃত্রিম হ্রদ। তাছাড়া রয়েছে ষড় ঋতুর বৈচিত্র্যের পাশাপাশি এখানকার মানুষের অকৃত্রিম আতিথেয়তা।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের বাংলাদেশের রয়েছে অফুরন্ত সূর্যলোক, নদী প্রবাহে সঞ্চিত উর্বর পলিমাটি, বিস্তীর্ণ সমুদ্রের সান্নিধ্য, দীর্ঘ উপকূল রেখা ও সৈকত ভূমি, মৎস্য ভান্ডারে পূর্ণ জলাশয়, বৈচিত্রময় ভূমিরূপ, ষড় ঋতুর বৈচিত্র্য, আর নির্মল সৌন্দর্য মন্ডিত সবুজ বেস্টনি ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশ। এ যেন এখানকার মানুষের জন্য প্রকৃতির দেয়া এক অকৃত্রিম উপহার। প্রকৃতির দেয়া এই পরিবেশ আর সম্পদ অনায়াসে বয়ে আনতে পারে এখানকার মানুষ আর রাষ্ট্রের জন্য সার্বিক কল্যাণ ও সমৃদ্ধি।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • বালাগঞ্জের বাতিঘর বাংলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়
  • বঙ্গবন্ধু ও গান্ধীজী
  • সিলেটের দ্বিতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদক ছিলেন ‘মেশিনম্যান’
  • একটি যুদ্ধ : একটি শতাব্দী
  • বালাগঞ্জের প্রাচীন জনপদ শিওরখাল গ্রাম
  • ভাটিপাড়া
  • সময়ের সোচ্চার স্বর সোমেন চন্দ
  • বঙ্গবন্ধুর সিলেট সফর ও কিছু কথা
  • বায়ান্নতেই লিখেছিলেন ‘ঢাকাই কারবালা’
  • জীবনের শেষক্ষণে অর্থ-স্বর্ণ সবই জড়পদার্থ
  • কমরেড বরুণ রায়
  • বঙ্গবন্ধু ও রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
  • নারী ভাষাসৈনিকদের কথা
  • মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবীর ওসমানী
  • ভাটির বাতিঘর সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ
  • মাওয়ের লংমার্চের ৪ বছর পর সিলেটিদের লং মার্চ
  • শহীদ মিনারের ইতিকথা
  • সিলেটের লোকসংগীত : ধামাইল
  • পর্যটক ইবনে বতুতার কথা
  • বই এল কোথা থেকে?
  • Image

    Developed by:Sparkle IT