শেষের পাতা নদীভাঙন আতংক

কমলগঞ্জের নদীপাড়ের বাসিন্দাদের নির্ঘুম রাত যাপন

প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০৬-২০১৯ ইং ০২:১১:১৯ | সংবাদটি ২১৭ বার পঠিত
Image

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর তীরবর্তী ২শ’টিরও অধিক পরিবার নদীভাঙনের কবলে নি:স্ব হওয়ার পথে। বর্ষা মৌসুম এলে আতঙ্কে দিন কাটান নদীপাড়ের মানুষজন। নিদিষ্ট সময়ে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই ভাঙনের মুখে পড়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ধলাই নদী।
বিগত কয়েক বছরের নদীভাঙনের ফলে বিলীন হয়েছে নদীপাড়ের সম্পদ। হারিয়ে গেছে শত শত মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই। এতে বিলীন হয় সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা। হারিয়ে যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মানুষের ঘরবাড়ি, ক্ষেতের ফসল ও গাছপালা।
কমলগঞ্জ উপজেলার ৫৭ কি.মি আয়তনের বহমান ধলাই নদীর নতুন-পুরাতন মিলিয়ে ১৪টিরও অধিক ভাঙন প্রবণ এলাকা রয়েছে। তার মধ্যে কমলগঞ্জ পৌরসভার দক্ষিণ কুমড়াকাপন, গোপালনগর, রামপাশা, বাদে করিমপুর, আলেপুর। আদমপুর ইউনিয়নের ঘোড়ামারা, কাটাবিল, ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল, মাধবপুর ইউনিয়নের শিমুলতলা, হিরামতি, পাঠনিকোণা এই সকল স্থানগুলো অতি ভাঙন প্রবণ হওয়ায় প্রায়ই বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনের কবলে পড়তে হয়।
বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের আগ্রাসী হুমকির মুখে রয়েছে কুরমা-মৌলভীবাজার ও শমসেরনগর-শ্রীমঙ্গল সড়ক। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে যেকোন সময়। গত কয়েক বছরে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে শতাধিক পরিবারের ভিটেবাড়ীসহ শত শত একর ফসলি জমি। তারা সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে ঠাঁই নিয়েছেন অন্যত্র। আতঙ্কে রাতযাপন করছেন ভাঙন কবলিত এলাকার বাকি পরিবারগুলো। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই উজানের ঢলে নদীতে পানির স্রোত দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদী তীরবর্তী এলাকার বসবাসরত পরিবার। নদী ভাঙনে কৃষিজমি ও বসতভিটে হারিয়ে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে এখন ক্ষতিগ্রস্তরা।
নদীপাড়ের মানুষজন বিভিন্ন সময়ে বাঁধ মেরামতের জন্য মানববন্ধন ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও এখন পর্যন্ত কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
সরেজমিনে কমলগঞ্জ পৌরসভার রামপাশা গ্রাম পরিদর্শন করে জানা যায়, পৌর এলাকার রামপাশা গ্রামের ১শ’টিরও অধিক পরিবার নদীভাঙনের কবলে বিলীনের পথে। ধলাই নদী সংলগ্ন ছায়া সুনিবিড় রামপাশা গ্রামের মানুষ বর্ষা মৌসুমে ঘুমহীন রাতযাপন যেন তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুম এলে আতঙ্কে দিন কাটান তারা। নদীর বাঁধ এখন ধানীজমির সরু আলে পরিণত হয়েছে। যেকোন সময় পানির ছোবলে ভেসে যাবে পুরো গ্রাম। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্রমান্বয়ে নদীভাঙনের ফলে রামাপাশা গ্রামের ২৫-৩০ কেদারের অধিক জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সরকারিভাবে উদ্যোগ নিয়ে সংস্কার কাজের ব্যবস্থা করলেও সংশ্লিষ্ট তদারকি না থাকায় সঠিক কোনো সংস্কার কাজ এখন হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনের আশঙ্কায় থাকতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। এই নদীভাঙনের কবলে পড়ে প্রায় ৪৫ পরিবার ভিটা-মাটি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। তাছাড়া প্রবাহিত নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে রামপাশা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরে তা অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হয়। নদীর পাড় ঘেঁষা অর্ধশত বছরের পুরাতন ভৈরব থলী, মসজিদ ও একটি মন্দির রয়েছে।
রামপাশা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা স্বপন ধর, মিন্টু কর, জয়ধন মালাকার, হারিছ মিয়া, রেবতী মালাকার জানান, ২৪-২৫ বছর ধরে প্রতিটা বর্ষা মৌসুম এলেই নদীভাঙনের ভয়ে থাকতে হয় আমাদের। যেকোনো সময় নদী ভাঙতে পারে। নদীর পাড় ভাঙতে ভাঙতে এখন সরু হয়ে পড়েছে। পাড় দিয়ে ২ জন মানুষ এক সাথে হেঁটে যেতে পারেন না। চলতি সপ্তাহে বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পুরাতন ভৈরব থলী সংলগ্ন স্থানে বাঁধ কিছুটা ভেঙে পানি প্রবেশ করতে থাকে। এলাকাবাসী নিজেরাই বাঁশ ও মাটি দিয়ে বাঁধ ভাঙন রোধের চেষ্টা করেছেন।
এদিকে, কমলগঞ্জ পৌর এলাকার দক্ষিণ কুমড়াকাপন এলাকার ধলাই নদীর তীরবর্তী বসতভিটাসহ নদীর তীরে অবস্থিত কমলগঞ্জ আইডিয়াল হাই স্কুলের পেছনদিকে ধলাই নদীর বাঁধটিতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। কমলগঞ্জ আইডিয়াল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাসুক আহমেদ জানান, ‘প্রতিবছর বাঁধ মেরামতের জন্য বরাদ্দ আসলে স্কুলের মাঠ থেকে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে কাজের কাজ কিছুই হয় না। বরং স্কুলের মাঠ ভরাট করতে হিমশিম খেতে হয়। জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামত না করলে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে আইডিয়াল স্কুলসহ আশপাশের বসতভিটা। অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী।’
কমলগঞ্জ পৌর এলাকার গোপালনগর, বাদে করিমপুর, আলেপুর এলাকায় বেশ কয়েকটি ভাঙন প্রবণ স্থান রয়েছে। যা যে কোন সময় পানির তোড়ে ভেঙে যেতে পারে। ২০১৮ সালের জুন মাসে বাদে করিমপুর এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে কুরমা-মৌলভীবাজার সড়কসহ প্রায় ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। এছাড়া, ভানুগাছ চৌমুহনা সংলগ্ন আজাদুর রহমানের বাড়ির পাশের প্রতিরক্ষা বাঁধের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। যে কোন সময় ভেঙে গিয়ে প্লাবিত হতে পারে ভানুগাছ বাজারসহ আশপাশের এলাকা। চলিত মাসে বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে আদমপুর ইউনিয়নের ঘোড়ামাড়া এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে কয়েকেটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ররেন্দ্র চক্রবর্তী জানান, কমলগঞ্জের ধলাই নদীর ৫৭ কি.মি আয়তনের ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো আমরা মেরামত করবো। ঐ স্থানগুলোতে স্থায়ীভাবে মেরামতের জন্য সিসি ব্লক ব্যবহার করা হবে। আমাদের কাছে কোনো বরাদ্দ নেই। জরুরি ভিত্তিতে কাজ করার জন্য একটি প্রজেক্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাশ হয়ে আসলেই আমরা কাজ শুরু করে দেবো।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক জানান, এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে আলোচনা হয়েছে। ভাঙা বাঁধ মেরামতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে।

 

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন
  • শিল্পপতি আব্দুল মোনেমের ইন্তেকাল
  • সব কর্মীকে একসঙ্গে কাজে না ফেরাতে আইএলও’র সতর্কতা
  • দুই মাস বন্ধের পর মসজিদ খুলে দিয়েছে সৌদি আরব
  • জিয়া্উর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে দক্ষিণ সুরমায় খাবার বিতরণ
  • তিলপাড়া ইউনিয়নে বিয়ানীবাজার থানা জনকল্যাণ সমিতি ইউকে’র আর্থিক সহায়তা প্রদান
  • জগন্নাথপুরে নলজুর সেতুর সংযোগ সড়ক উদ্বোধন
  • বিয়ানীবাজারের ৪ ইউনিয়নে থানা জনকল্যাণ সমিতি ইউকের আর্থিক সহায়তা প্রদান
  • যুক্তরাজ্য বিএনপির উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের নিউহ্যাম হসপিটালের এনএইচএস ষ্টাফদের জন্য খাদ্য বিতরণ
  • সিলেটে ৮৫০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছে দক্ষিণ সুরমা সমাজ কল্যাণ সমিতি
  • ওয়ার্ল্ড বিডি হিউম্যান হেল্প এসোসিয়েশনের কমিটি গঠিত
  • রাধাকান্ত দেবনাথের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান আজ
  • ব্যবসায়ী গৌসুল আলম গেদু’র ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
  • মাধবপুরের আবাবিল সোসাইটির ত্রাণ বিতরণ
  • করোনায় অসহায় ১৮১ পরিবারের পাশে প্রজন্ম প্রত্যাশা
  • হাতিম চৌধুরী ইসলামিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
  • শাল্লায় কমিউনিস্ট পার্টির হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ
  • আরও একশ পরিবারে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিল বন্ধন সমাজ কল্যাণ যুব সংঘ
  • অসহায় পরিবারদের উপহার সামগ্রী দিল সিলেট জেলা ছাত্রলীগ
  • মাধবপুরে সুরমা চা বাগানে ত্রাণ বিতরণ
  • Image

    Developed by:Sparkle IT