সম্পাদকীয় যা তুমি দেখাও তার চেয়ে বেশি তোমার থাকা উচিত; যা তুমি জানো তার চেয়ে তোমার কম কথা বলা উচিত। -শেক্সপিয়ার

যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৬-২০১৯ ইং ০১:১৭:০৮ | সংবাদটি ১০৪ বার পঠিত

এবার যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে আসছে ভ্রাম্যমাণ গাড়ি। মরণব্যাধি যক্ষ্মা নির্ণয়ে নামানো হচ্ছে উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি সংযোজিত এই ভ্রাম্যমাণ গাড়ি। দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা যক্ষ্মা রোগীদের চিহ্নিত করে চিকিৎসার আওতায় আনতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এই গাড়িগুলো। যক্ষ্মার সংক্রমণ থাকতে পারে এমন এলাকায় এই গাড়িগুলো পৌঁছে যাবে সব ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে। ফলে যক্ষ্মা রোগীরা নিজেদের বাড়িতে বসেই পাবেন চিকিৎসা। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রাথমিকভাবে চারটি ভ্রাম্যমাণ গাড়ি রাস্তায় নামানো হবে। এক্সরে ও জিন এক্সপার্ট মেশিন সংযুক্ত এই বিশেষ ধরনের গাড়ি যক্ষ্মা প্রবণ এলাকা, জেলখানা ও কলকারখানায় গিয়ে লোকদের পরীক্ষা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে। যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
যক্ষ্মা একটি অতি পুরনো সংক্রামক ঘাতকব্যাধি। এই রোগ সংক্রমিত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে চারপাশের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য হচ্ছে, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ জনসংখ্যায় দু’শ ২১ জন যক্ষ্মা রোগী রয়েছে। গত বছর (২০১৮) দুই লাখ ৬৮ হাজার ছয়শ’ জন রোগীকে শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসা হয়। যা অনুমিত যক্ষ্মা রোগীর ৭৪ ভাগ। জানা গেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে যে কটি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ রয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বিশ্বের যে ৩০টি দেশে যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা সর্বাধিক, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে এখনও দেশের ২৬ ভাগ যক্ষ্মারোগী নির্ণয়ের বাইরে রয়ে গেছে। রোগটি এখনও বিশ্বব্যাপী আতংকের বিষয়। প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় দশ দশমিক চার মিলিয়ন মানুষ নতুনভাবে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হচ্ছে। আর এতে মৃত্যুবরণ করছে এক দশমিক তিন মিলিয়ন মানুষ। যক্ষ্মার ভয়াবহতার কারণে ১৯৯৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ রোগটিকে গ্লোবাল ইমার্জেন্সি ঘোষণা করে।
অথচ যক্ষ্মা সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য রোগ। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ন, অপুষ্টি, দারিদ্র্য প্রভৃতি কারণে এই রোগের প্রকোপ কমছে না। মূলত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তৈরী করা পরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশ সরকার এই ভ্রাম্যমাণ গাড়ির মাধ্যমে চিকিৎসা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। যক্ষ্মা যেহেতু একটি সংক্রামক ব্যাধি, তাই এর চিকিৎসার পাশাপাশি এই রোগের সংক্রমণ রোধ করতে হবে। এজন্য সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। সমাজে অনেক যক্ষ্মা রোগী রয়েছে, যারা নিজেও জানে না। এই রোগের ব্যাপারে। এদের খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ গাড়ি ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করছি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT