শিশু মেলা

তাওসীফের যত শখ

  মোঃ মনজুর আলম প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৬-২০১৯ ইং ০১:২৭:০৮ | সংবাদটি ১০৮ বার পঠিত

তাওসীফ ৯ বৎসরের একটি ছোট ছেলে। পড়ালেখায় মনোযোগী হলেও তার অধিক শখ সবাইকে বোকা বানায়। তাওসীফদের বসতঘর তিনতলা, ঘরের সামনে কিছু জায়গায় পেয়ারা ও জামের গাছে এসে পাখি বসে। তাওসীফ সেই পাখিদের সঙ্গে অনেক সময় কাটায় বুলবুলি, টুনটুনি, শালিক আরো কত পাখি গাছের ডালে বসে সুরেলা কন্ঠে কত গান গায় তাওসীফ তাদের গান ও কিচির মিচির শোনতে আনন্দ পায়। রাত পোহানোর পর যখন পাখিগুলি গাছে উড়ে উড়ে এসে বসতে থাকে তখন তাওসীফ হাততালি দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে। সে চায় পাখি আসুক। কিন্তু তার হাততালির শব্দে দুই একটা পাখি চলে যায়। তখন তাওসীফ কান্না করে। তাওসীফের দাদী তাকে বুঝিয়ে বলেন হাততালি বা শব্দ করলে পাখি বসবে না চলে যাবে। তাওসীফ বুঝতে পারল পাখির বসবাসে যন্ত্রণা করলে বা শব্দ করলে পাখির অসুবিধা হয়। তাওসীফ আর হাততালি দেয় না। সে এখন নিঃশব্দে পাখির কিচির মিচির উপভোগ করে। প্রতিদিন সকাল বিকাল সে পাখির আনাগোনা দেখে এবং আনন্দ উপভোগ করে। তাওসীফ চায় পাখিরা তাদের গাছে বাসা বেঁধে থাকুক। সে গাছে কলস বেঁধে দিবার জন্য তার দাদাকে অনুরোধ করে। দাদা বলেন আচ্ছা তোমার শখ পূরণ হবে। তার দাদা কলস বেঁধে দেবার ব্যবস্থা করলেন। একদিন ঝড় এসে গাছের ডাল পালার অনেক ক্ষতি করল। পরদিন সকালে তাওসীফ গাছের এমন অবস্থা দেখে মন খারাপ করে বসে আছে। আর বিলাপ করে বলছে ও টুনটুনি ও বুলবুলি তোমরা আসো আমি তোমাদের সাথে সময় কাটাতে চাই, তোমাদের গান শুনতে চাই। তাওসীফ এবার নিজে গাছে উঠে কলস বাঁধতে চেষ্টা করে। সে চেষ্টা করেও মগ ডালে কলস বাঁধতে পারে না। একটু নিচু ডালে কলস বেঁধেছে কিন্তু পাখি এতো নিচুতে বাসা বাঁধতে চায় না। ঝড় বৃষ্টিতে গাছের ডালের ক্ষতি করায় পাখির বসবাসের স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হলো। পাখিরা আর ফিরে না আসায় তাওসীফ কান্না করছে। সে কিন্তু পাখির সাথে সময় কাটাতে চায়। তাওসীফ তার বাবাকে বলল বাবা খাঁচার ভিতর পাখি এনে দাও আমি পাখির সাথে খেলা করব। বাবা তার এমন শখ দেখে একটি টিয়া পাখি খাঁচা সহ এনে দিলেন। রোজ সকালে তাওসীফ টিয়া পাখিকে একটি কলা খাবায় আর অনেক কথা বলে। সে বলে ও টিয়া আমাদের গাছগুলিতে কত বুলবুলি কত টুনটুনি লিল তারা চলে গেছে। তুমি যেও না তোমাকে আমি রোজ কলা খাওয়াব, গোসল করাব কত যতœ করব তুমি যেও না কিন্তু। তাওসীফের সাথে টিয়া পাখি কথা বলার চেষ্টা করে পাখি মাথা নাড়ে এতে তাওসীফ আনন্দ পায়। একদিন তাওসীফ তাদের হাওয়াপাড়া মসজিদ পুকুরে টিয়ে নিয়ে গোসল করায়। তখন সে দেখতে পায় পাড়ার কিছু বাচ্চাকে সোয়েব ভাই সাঁতার শিখাচ্ছেন। তাওসীফের অন্য শখ জেগে উঠে, সে সাঁতার শিখতে চায়। বাসায় গিয়ে পাখিকে খাঁচায় রেখে দুইটি পানির খালি বোতল একটি দন্ডে বেঁধে পুকুরে সাঁতার প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। আহ। কি মজা তাওসীফ সাঁতার কাটছে। খালি বোতল সত্ত্বেও দুই পাশে বেঁধে মাঝখানে ভর দিয়ে দেদারছে তাওসীফ সাঁতার কাটছে। এভাবে সাঁতার দিনে কয়েকবার সে দিতে চায় কিন্তু সোয়েব ভাই দিনে একবার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। বোতল ও দন্ডের সাহায্য ছাড়াই একদিন সে সাঁতার শিখে ফেলে। এখন সে নদীতে সাঁতার দিতে চায়। পুকুরের পাড় ঘেঁষে কিছু ছোট মাছ ভাসতে দেখে তাওসীফ মাছ বোতলে পুড়ে মাছের নড়াচড়া দেখতে খুব ভালোবাসে। তাদের ঘরে মাছ এলে দু’একটা তাজা মাছ তাওসীফ খোঁজে খোঁজে বের করে। সে বোতলে মাছগুলি রেখে তাদের সাথে খেলা করে দুই দিন পর পর বোতলের পানি পরিবর্তন করে দেয়। মাঝে মধ্যে মাছকে খাবারও খেতে দেয়। তাওসীফের এমন শখ দেখে তার বড় ভাই তাওহীদ একটি মাচের এ্যাকুরিয়াম এনে দিলেন। তাওসীফের শখ ষোল আনা পূর্ণ হলো।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT