শিশু মেলা

 কঙ্কাল

আরবী রহমান কুসুম প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৬-২০১৯ ইং ০১:৩০:০০ | সংবাদটি ১৪০ বার পঠিত

আজ বুধবার। মানিক মিয়া অবসরে গেলেন। বিদায় দেওয়ার অনুষ্ঠানে তাকে একটি ফুলের মালা দেওয়া হলো। সে ফুলের মালা গলায় পরে বাড়ি ফিরে এলো। সে আজ খুব হাসি খুশি। মানিক মিয়ার বউ ফুলবিবি বললো, তুমি আজও সেই পাগল রয়ে গেলে। তুমি ফুলের মালা গলায় পরে বাড়ি ফিরে এলে। বুড়ো হয়েছো বলে তোমার আর কোনো জ্ঞান বুদ্ধি নেই, না কী? মানিক মিয়া বললো, আরে না ফুলের মালা পরে আসছি তোমায় দেখানোর জন্য। ফুলবিবি বললো, এত ভালোবাসা তোমার। মানিক মিয়া বললো, ভালোবাসা না থাকলে কী আমি এত দূর এই ফুলের মালা গলায় পরে নিয়ে আসি?
ফুলবিবি বললো, এই যে তুমি বাড়ি বানিয়েছো বাড়িটা পশ্চিম দিকে সদর আর পূর্বদিকে অন্দর মহলের সদর। আমাদের বাড়িটা সুন্দর। কিন্তু আমাদের বাড়ির পিছনে পরপর তিনটি তালগাছ। গাছের পাশে ঘন বাঁশ ঝাড়। সন্ধ্যা নামলে আমার খুব ভয় লাগে তুমি যখন থাকো না। মনে হয় তালগাছে হাজারটা শয়তান আছে আর বাঁশ ঝাড়ে হাজারটা ভূত আছে। তাদের দুই ছেলে এক মেয়ে। মেয়ে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে। সে তার শ্বশুর বাড়ি থাকে। দুই ছেলের এক ছেলে বিদেশে থাকে আর আরেক ছেলে ঘরজামাই থাকে। অবসর জীবন তাদের ভালোই কাটছিলো। হঠাৎ একদিন মানিক মিয়ার বউ ফুলবিবি মারা গেলেন। তারপর ছেলে ও মেয়ে তাদের পরিবার নিয়ে এলো আর তাদের মাকে কবর দিয়ে আসলো।
ছোট ছেলে বিদেশ থেকে বাড়িতে আসতে পারেনি। তিনদিন পর মসজিদে মিলাদ দেয়া হলো। গ্রামের সবাইকে জিলাপি খাওয়ানো হলো। বিষয়টি এমন যেন অনেক জিলাপি খাওয়ালে ফুলবিবি খুব ভালো থাকবে। কিছুদিন পর সবাই যার যার বাড়িতে চলে গেলো। মানিক মিয়া একলা হয়ে পড়েন। তার একলা জীবন আর ভালো লাগে না। সে তার ছেলের বাড়ি কিছু দিন, আর কিছু দিন মেয়ের বাড়িতে থাকতো। এভাবে এক বছর চলে গেল। মানিক মিয়া একদিন তার মেয়েকে বলেই বসলো তোরা আমার একটা বিয়ের ব্যবস্থা কর না। মেয়ে এই কথা সবাইকে জানালো। কেউ তার এই কথায় মত দিলো না। সবাই আপত্তি করলো। মানিক মিয়া এবার সবার মত শুনে বাড়িতে চলে গেলেন। এক সপ্তাহের মধ্যে এক ঘটককে দিয়ে মেয়ে দেখে বিয়ে করে নিয়ে এলে এলাকার সবাই সেই বউ দেখার জন্য এলো। এভাবে এক দুই দিন যেতে না যেতে তার ছেলে-মেয়েরা সব জানতে পারে। তাকে ফোন করে অনেক গালি দেয় এবং তার সাথে সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়। যাক এভাবে এক সপ্তাহ হলো নতুন বউয়ের সাথে। হঠাৎ একদিন রাতে মানিক মিয়া স্বপ্নে দেখে তার আগের বউ তাকে ডাকছে। তার ঘুম ভেঙে গেলো। সে উঠে বসলো। সত্যিই তার আগের বউয়ের গলার সুরে তাকে ডাকছে। রোকেয়ার আব্বা তুমি আমাকে ভুলে গেলে। তুমি আরেকটা বিয়ে করে নিলে। সে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে দেখলো সাদা শাড়ি পরে কে যেনো দাঁড়িয়ে আছে। শাড়ি পরা মহিলাটি ধীরে ধীরে সিঁড়িতে উঠে দাঁড়ালো। সে তাই দেখে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল। সকালে তার নতুন বউ উঠে দেখে সে মেঝেতে শুয়ে আছে। নতুন বউ আর কাজের মহিলা মিলে তার জ্ঞান ফেরায়। জ্ঞান ফেরার পর তাকে হুজুরের কাছে নিয়ে গেল। হুজুরের নাম মোজার মাওলানা খুব ভালো কাজ হয় তার তাবিজে। তাদেরকে একটা তাবিজ দিলো। তারা তাবিজটা ঘরের ভেতরে এককোণে রাখলো। এভাবে একমাস চলে গেছে আগের বউয়ের কোন দেখা নাই। হঠাৎ শুক্রবারে অমাবস্যা রাতে তার আগের বউ ফুলবিবি ডেকে উঠলো। কই তুমি ও রোকেয়ার বাবা! রোকেয়ার বাবা তুমি আমাকে ভুলে গেলে। সে উঠে লাইট মেরে দেখলো সেই আগের সাদা শাড়ির মহিলাটা। সে তার নতুন বউকে ডেকে বললো দেখো গো আমার আগের বউ আবার ফিরে এসেছে। নতুন বউ ঘুম থেকে উঠেই একটা লাঠি হাতে নিয়ে এলো আর মানিক মিয়ার হাতে লাইট। তারা মহিলার মুখ দেখবে বলে লাঠি দিয়ে কাপড় সরানোর চেষ্টা করলো। তখন তার আগের বউয়ের কন্ঠে বলে তোমরা আমার মুখের ঘোমটা তুলে দিলে তোমরা সবাই অজ্ঞান হয়ে যাবে। তারা তার কথা মানলো না। তারা ঘোমটা ফেলে দিলো এবং টর্চলাইট মেরে দেখলো কোন মানুষ নাই। একটা কঙ্কাল। তা দেখে দুইজনই সাথে সাথে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলো। সকালে কাজের বোয়া এসে পানি দিয়ে জ্ঞান ফেরালো। তাদের জ্ঞান আসার সাথে সাথে তারা সব গোজগাজ করে এই বাড়ি ছেড়ে চলে গেলো। মানিক মিয়ার নতুন শ্বশুরবাড়ি। এখানে তারা থাকতে শুরু করলো। আর তারা নতুন বউয়ের দেখা কোনদিন পায়নি। তারা কোনদিন এই বাড়িতে ফিরেও যায়নি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT