উপ সম্পাদকীয়

শব্দদূষণ রোধে এগিয়ে আসুন

সাকির আমিন প্রকাশিত হয়েছে: ২১-০৬-২০১৯ ইং ০২:০৪:০৯ | সংবাদটি ৮৪ বার পঠিত

মানুষ তাদের দৈনন্দিন কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে প্রতিনিয়িত শব্দদূষণ ঘটিয়ে চলেছে। আমাদের দেশে শব্দদূষনের অন্যতম উৎস পরিবহন। বাস, ট্রাক, কার, মোটরসাইকেলের হর্ন অনবরত শব্দদূষণ ঘটাচ্ছে। স্কুল-কলেজ, হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর স্থানও এসব যানবাহনের তীব্র শব্দের রাহুগ্রাস থেকে মুক্তি নেই। এ ছাড়া রেলষ্টেশনের ট্রেনের হুইসেলের শব্দ ৯০ ডেসিবেলের উর্ধ্বে, যা মানুষের শ্রবণক্ষমতার বাইরে। অফিস- আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেক সময় জেনারেটর ব্যবহারের ফলে শব্দদূষণের সৃষ্টি হয়। প্রচারের কাজে, সভায় বক্তৃতাকালে এবং অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে মাইক ব্যবহারেও শব্দদূষণ হয়। আতশবাজির শব্দে তীব্র শব্দদূষণ ঘটে। শব্দের উৎসের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষই শব্দদূষণ দ্বারা বেশি আক্রান্ত হয়। মানবদেহে উচ্চ তীব্রতাসম্পন্ন শব্দের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পড়ে। শব্দদূষনের প্রত্যক্ষ প্রভাবে মানুষের শ্রবণশক্তির অস্থায়ী বা স্থায়ী যে কোন ধরনের ক্ষতি হতে পারে, যা কালক্রমে শ্রবণশক্তিহীনতা থেকে বধিরত্বে রূপ নিতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, তীব্র শব্দ পরোক্ষভাবে মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যেমন- উচ্চমাত্রায় শব্দ হৃদরোগ, রক্তচাপ বৃদ্ধি ইত্যাদি রোগের কারন হতে পারে। উচ্চশব্দ মস্তিষ্কের কোষের ওপর অক্সিজেনের অভাবজনিত সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। উচ্চমাত্রায় শব্দের কারণে হঠাৎ উত্তেজিত হওয়া এবং মাথা ধরার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এমনকি উচ্চমাত্রায় শব্দ আংশিক বা পূর্ণ বধিরতারও কারণ হতে পারে। শব্দদূষণ মানবদেহের রক্তের শর্করার ওপর প্রভাব ফেলে। শব্দদূষণে রাত্রিকালীন দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায়। উচ্চমাত্রার শব্দে মানসিক অবসাদ সৃষ্টি এবং স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে পারে। শব্দদূষণ রোধে প্রয়োজন ব্যক্তিগত, প্রযুক্তিগত ও আইনগত কিছু পদক্ষেপ। বাড়িঘরে বিনোদনে ব্যবহৃত রেডিও-টেলিভিশনের শব্দ যথাসম্ভব কমিয়ে শুনতে হবে। পেশাগত কাজে শব্দ উৎপাদনকারী যন্ত্রপাতিতে শব্দ প্রতিরোধক যন্ত্র লাগিয়ে নিতে হবে। আচার অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত লাউড স্পিকারের শব্দ সীমিত থাকতে হবে। যানবাহন, অটোমোবাইল, ওয়ার্কশপ, কারখানা থেকে অনাকাঙ্খিত উচ্চশব্দ উত্থিত হয়, তা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে রোধ করা সম্ভব। শিল্প কারখানার ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি উন্নত প্রযুক্তির ও মানসম্পন্ন হলে তা থেকে অপেক্ষাকৃত কম শব্দ তৈরি হবে যা শব্দদূষণ রোধে সহায়ক হবে। উচ্চমাত্রায় শব্দ উৎপাদনকারী যন্ত্রে শব্দ প্রতিরোধ আচ্চাদন ব্যবহার করা হলে তা থেকে আর শব্দদূষণ হবে না। এ ছাড়া অহেতুক হর্ন বাজানো বন্ধ করা দরকার শব্দদূষণ রোধে সমষ্টিগত উদ্যোগের বিকল্প নেই। তবে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেও শব্দদূষণ কমিয়ে আনা সম্ভব। বাড়িঘর, স্কুল-কলেজ, হাট-বাজারের মতো জায়গায় নিচুস্বরে কথা বলার অভ্যাস করা দরর্কা আধুনিক বিজ্ঞানসম্মতভাবে নগরায়ন, যানবাহন চলাচলে উচ্চমাত্রায় শব্দ নিষন্ত্রন, কলকারখানা উৎপাদনের ক্ষেত্রে কম শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্র ব্যবহার এবং সার্বিক পরিবেশসম্মত পরিকল্পনা গ্রহনের মাধ্যমে শব্দ-সঞ্চারন নিয়ন্ত্রন করে শব্দদূষণ অনেকটাই রোধ করা সম্ভব। অনেকের শব্দদূষণ রোধ করতে হলে লিফলেটিং এর মাধ্যমে প্রচার প্রচারনা চালাতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে করলেও শব্দদূষণ রোধ হবে।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • কিশোর-কিশোরীদের হালচাল
  • বলকানস : ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্র
  • সন্তানের প্রতি অভিভাবকের দায়িত্ব
  • শিক্ষার হার এবং কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ
  • শিক্ষার রাজ্যে এক বিস্ময়
  • ডেঙ্গু ও বানভাসি মানুষ
  • শিল্প-সাহিত্যে ১৫ আগস্ট
  • ইমাম-মুয়াজ্জিন সার্ভিস রোলস-এর প্রয়োজনীয়তা
  • বাঙালির মুক্তিসনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা
  • শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে পরিবেশ
  • তিনি কোন দলের নয়, সমগ্র বাঙালির
  • ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম অধ্যায়
  • বঙ্গবন্ধুর ফিরে আসা
  • শিক্ষা ও নৈতিকতা
  • কুরবানির সূচনা
  • কুরবানি ও আমাদের করণীয়
  • উন্নয়নের মানবিকতা বনাম গতানুগতিকতা
  • বিশ্বাসের উপলব্ধি
  • নিরাপত্তাহীনতায় নারী
  • স্বাগতম ঈদুল আযহা
  • Developed by: Sparkle IT