সম্পাদকীয় বৈষয়িক প্রাচুর্য ঐশ্বর্য নয়, বরং প্রকৃত ঐশ্বর্য হলো অন্তরের ঐশ্বর্য। -আল হাদিস

বায়ু দূষণে মৃত্যু বাড়ছে

প্রকাশিত হয়েছে: ২১-০৬-২০১৯ ইং ০২:০৭:০০ | সংবাদটি ১৬১ বার পঠিত

বায়ু দূষণের মাত্রা বেড়ে চলেছে। বায়ু দূষণের শিকার হয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। শহর গ্রাম সর্বত্রই বায়ু দূষণের শিকার হচ্ছে মানুষ। গবেষণার তথ্য হচ্ছে, ২০১৫ সালে বিভিন্ন প্রকার দূষণের শিকার হয়ে সারা বিশ্বে ৯০ লাখ মানুষ প্রাণ হরিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে বাংলাদেশে। আর এই দূষণজনিত মৃত্যুর দুই-তৃতীয়াংশের প্রধান কারণ হচ্ছে বায়ু দূষণ। বিশ্বের যে পাঁচটি দেশের শতভাগ মানুষ দূষিত বায়ুর মধ্যে বসবাস করে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। আর বায়ু দূষণজনিত মৃত্যুর দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে পঞ্চম। বায়ু দূষণের কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর মারা যাচ্ছে এক লাখ ২৩ হাজার মানুষ। সড়ক দুর্ঘটনা বা ধূমপানের কারণে মৃত্যুর হারের তুলনায় ২০১৭ সালে বায়ু দূষণের ফলে বেশি মানুষ মারা গেছে। এছাড়া, বায়ু দূষণের শিকার হয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে প্রতিটি শিশুর ৩০ মাস করে আয়ু কমে যাচ্ছে।
বেঁচে থাকার জন্য আমরা বাতাসে নিঃশ্বাস নিচ্ছি। কিন্তু সেই বাতাস কি সত্যি আমাদের বেঁচে থাকার রসদ যোগাচ্ছে? আমাদের নিঃশ্বাসের সঙ্গে দূষিত বাতাস প্রবেশ করছে দেহে। যা জন্ম দিচ্ছে নানান অসুখ-বিসুখের। বায়ু দূষিত হচ্ছে বিভিন্ন কারণে। সাধারণত ক্ষতিকারক পদার্থ বাতাসে মেশার ফলে বায়ু দূষিত হয়। বায়ু দূষণের প্রধান দু’টি উপাদান হলো শিল্পকারখানার বর্জ্য ও যানবাহনের ধোঁয়া। রাস্তাঘাট ও নির্মাণাধীন বিভিন্ন স্থাপনার ধুলিকণা, সালফার ডাই অক্সাইড, ক্লোরোফ্লুরোকার্বন, কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাইঅক্সাইড, ওজোন, সমপেনডেড পার্টিকুলার ম্যাটার বায়ু দূষণের জন্য বহুলাংশে দায়ি। ইটভাটার ধোঁয়া বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ। বায়ু দূষণের কারণে মানুষের অকাল মৃত্যু হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশগত অনেক ক্ষতিও হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের মতে বাংলাদেশে বায়ু, পানি ও পরিবেশ দূষণে বছরে ক্ষতি ৪২ হাজার কোটি টাকা। শুধু বায়ু দূষণে ক্ষতি হয় ২০ হাজার কোটি টাকা। দূষণের সবচেয়ে বেশি শিকার হয় শিশুরা। আর বিশ্বের দূষিত বায়ুর দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ওপরে।
বায়ু দূষণ একটি নীরব ঘাতক। খালি চোখে তা দেখা যায় না। অথচ মানুষের অজান্তেই এই দূষিত বায়ু মানুষের সর্বনাশ করে চলেছে। বায়ু দূষণের কারণে হাঁপানি ও ফুসফুসের ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ অকালে মারা যাচ্ছে। সারা বিশ্বে ফুসফুসে ক্যান্সার রোগীর ৩৬ শতাংশই হচ্ছে বায়ু দূষণের কারণে। তাছাড়া ৩৪ শতাংশ স্ট্রোক ও ২৭ শতাংশ হৃদরোগ হচ্ছে বায়ু দূষণের কারণে। এই বায়ু দূষণ রোধে সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। বাড়ি, কারখানা, গাড়ি থেকে ধোঁয়া নিঃসরণ কমাতে হবে। আবর্জনা পোড়ানো যাবে না। সর্বোপরি বায়ু দূষণ রোধে যথাযথ আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের উদ্যোগ নিতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT