ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ২১-০৬-২০১৯ ইং ০২:০৮:১৩ | সংবাদটি ৭৫ বার পঠিত

সূরা : বাক্বারাহ
[পূর্ব প্রকাশের পর]
(৮৯) যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব এসে পৌঁছাল, যা সে বিষয়ের সত্যায়ন করে, যা তাদের কাছে রয়েছে এবং তারা পূর্বে করত। অবশেষে যখন তাদের কাছে পৌঁছাল যাকে তারা চিনে রেখেছিলো, তখন তারা তা অস্বীকার করে বসল। অতএব, অস্বীকারকারীদের উপর আল্লাহর অভিষম্পাত। (৯০) যার বিনিময়ে তারা নিজেদের বিক্রি করেছে, তা খুবই মন্দ; যেহেতু তারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তা অস্বীকার করেছেÑএই হঠকারিতার দরুন যে, আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা অনুগ্রহ নাযিল করেন। অতএব, তারা ক্রোধের উপর ক্রোধ অর্জন করেছে। আর কাফেরদের জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি। (৯১) যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ যা পাঠিয়েছেন তা মেনে নাও, তখন তারা বলে, আমরা মানি যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। সেটি ছাড়া সবগুলোকে তারা অস্বীকার করে। অথচ এ গ্রন্থটি সত্য এবং সত্যায়ন করে ঐ গ্রন্থের যা তাদের কাছে রয়েছে। বলে দিন, তবে তোমরা ইতোপূর্বে পয়গম্বরদের হত্যা করতে কেন যদি তোমরা বিশ্বাসী ছিলে? (৯২) সুস্পষ্ট মু’জেযাসহ মূসা তোমাদের কাছে এসেছেন। এরপর তার অনুপস্থিতিতে তোমরা গোবৎস বানিয়েছ। বাস্তবিকই তোমরা অত্যাচারী। (৯৩) আর যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিলাম এবং তুর পর্বতকে তোমাদের উপর তুলে ধরলাম যে, শক্ত করে ধর, আমি যা তোমাদের দিয়েছি আর শোন। তারা বলল, আমরা শুনেছি আর অমান্য করেছি। কুফরের কারণে তাদের অন্তরে গোবৎসপ্রীতি পান করানো হয়েছিলো। বলে দিন, তোমরা বিশ্বাসী হলে, তোমাদের সে বিশ্বাস মন্দ বিষয়াদি শিক্ষা দেয়।
আনুষাঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয় :
জ্ঞাতব্য : কুরআনকে তওরাতের ‘মুসাদ্দিক’ (সত্যায়নকারী) বলা হয়েছে। এর কারণ এই যে, তাওরাতে মুহাম্মদ (সা.) এর আবির্ভাব ও কুরআন অবতরণের যেসব ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, কুরআনের মাধ্যমেও সেগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং যারা তাওরাতকে স্বীকার করে, তারা কিছুতেই কুরআন ও মুহাম্মদ (সা.) কে অস্বীকার করতে পারে না। তা করতে গেলে প্রকারান্তরে তাওরাতকেই অস্বীকার করা হয়।
একটি প্রশ্ন ও তার উত্তর : এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে যে, তারা যখন সত্যকে সত্য বলেই জানত, তখন তাদেরকে ঈমানদার বলাই উচিত, কাফের বলা হলো কেন?
এই উত্তর এই যে, শুধু জানাকেই ঈমান বলা যায় না। শয়তানের সত্যজ্ঞান সবার চাইতে বেশি। তাই বলে সে ঈমানদার হয়ে যাবে কি? জানাসত্বে অস্বীকার করার কারণে কুফরের তীব্রতাই বৃদ্ধি পেয়েছে। পরবর্তী আয়াতে তাদের শত্রুতাকে কুফরের কারণে বলে অভিহিত করা হয়েছে।
এখানে এক ক্রোধ কুফরের কারণে এবং অপর ক্রোধ হিংসার কারণে। এ জন্যেই ক্রোধের উপর ক্রোধ বলা হয়েছে। শাস্তির সাথে অপমানজনক শব্দ যোগ করে বলা হয়েছে যে, এ শাস্তি কাফেরদের জন্যেই নির্দিষ্ট। কেননা, পাপী ঈমানদারকে যে শাস্তি দেয়া হবে, তা হবে, তাকে পাপমুক্ত করার উদ্দেশে, অপমান করার উদ্দেশে নয়। পরবর্তী আয়াতে তাদের যে উক্তি উদ্ধৃত হয়েছে তা থেকে কুফর প্রমাণিত হয় এবং হিংসাও বুঝা যায়।
‘আমরা শুধু তওরাতের প্রতিই ঈমান আনব, অন্যান্য গ্রন্থের প্রতি ঈমান আনব না’ ইহুদীদের এ উক্তি সুস্পষ্ট কুফর। সেই সাথে তাদের উক্তি ‘যা (তওরাত) আমাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে’Ñ এ থেকে প্রতিহিংসা বোঝা যায়। এর পরিষ্কার অর্থ হচ্ছে এই যে, অন্যান্য গ্রন্থ যেহেতু আমাদের প্রতি নাযিল করা হয়নি, কাজেই আমরা সেগুলোর প্রতি ঈমান আনব না। আল্লাহ তা’আলা তিন পন্থায় তাদের এ উক্তি খ-ন করেছেন।
প্রথমত : অন্যান্য গ্রন্থের সত্যতা ও বাস্তবতা যখন অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত, তখন সেগুলো অস্বীকার করার কোনো কারণ থাকতে পারে না। অবশ্য দলীলের মধ্যে কোনো আপত্তি থাকলে তারা তা উপস্থিত করে দূর করে নিতে পারতো। অহেতুক অস্বীকারের কোনো অর্থ হয় না।
দ্বিতীয়ত : অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে একটি হচ্ছে কুরআন মজীদ, যা তওরাতেরও সত্যায়ন কর। সুতরাং কুরআন মজীদকে অস্বীকার করলে তওরাতের অস্বীকৃতিও অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
তৃতীয়ত : সকল খোদায়ী গ্রন্থের মতেই পয়গম্বরদের হত্যা করা কুফর। তোমাদের সম্প্রদায়ের লোকেরা কয়েকজন পয়গম্বরকে হত্যা করেছে। অথচ তারা বিশেষভাবে তওরাতের শিক্ষাই প্রচার করতেন। তোমরা সেসব হত্যাকারীকেই নেতা ও পুরোহিত মনে করেছ। এভাবে কি তোমরা তওরাতের সাথেই কুফরি করনি? সুতরাং তওরাতের প্রতি তোমাদের ঈমান আনার দাবী আসার প্রমাণিত হয়ে যায়। মোটকথা, কোনো দিক দিয়েই তোমাদের কথা ও কাজ শুদ্ধ ও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
[চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT