ধর্ম ও জীবন

টেন্ড নয়, নারীর সম্মান

ডা. রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ প্রকাশিত হয়েছে: ২১-০৬-২০১৯ ইং ০২:০৯:৫৮ | সংবাদটি ১৮১ বার পঠিত

ইসলাম আগমণের পূর্বে পৃথিবীতে নারী সমাজের উপর যে অমানবিক অবিচার চলেছিল ঐতিহাসিকগণ সেই সংবাদ অবশ্যই রাখেন। আরবের পৌত্তলিকগণ নারীকে পশু শ্রেণির পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। ব্যাভিচার এতো চরমে উঠেছিল যে, তা ভাষায় বর্ণনা করার মতো নয়। ইসলাম এসব অত্যাচার ও অবিচার প্রতিরোধ করে পৃথিবীকে শান্ত ও স্নিগ্ধ করে তুলেছিল। বর্তমান বিংশ শতাব্দির সভ্যতার ছদ্দনামে আরবের সেই বর্বর যুগের উলঙ্গ ব্যাভিচার বেহায়াপনা আবারও পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের দেশের ‘স্বাধীন নারীরা’ আজ কী করেন? দেখা যায় তারা নানা প্রকার মন মাতানো পোশাকে, সাজসজ্জা করে অপরূপ অঙ্গভঙ্গি সহকারে চলাফেরা করে। নয়ন ও মন তৃপ্ত করে। যেহেতু তারা ‘স্বাধীন’। তারা আজ উলঙ্গ সভ্যতার উদ্যোম নেশায় পৃথিবী মাতিয়ে তুলেছে। এই দৃশ্য নিরতিশয় মর্মান্তিক এবং ইহার পরিণাম নিশ্চিতরূপে ভয়াবহ। নারীকে স্বাধীনতা ও সমান অধিকার দেয়ার কথা যারা শুধু মুখেই উচ্চারণ করে থাকেন তারা ইহা কাজে পরিণত করে দেখাতে পারেন নাই। যে সকল সংযমচারী লোকেরা নারী নির্বিশেষে সবাইকে মায়ের মতো দেখে থাকেন তারাই আবার সুযোগ পেলে মাতৃত্বের উপর পশুত্বের ক্ষুধা মেঠাতে এতোটুকু দ্বিধাবোধ করে না। আজ মুসলমানদেরকে এসব ধোঁকাবাজ হতে আত্মরক্ষা করে মা-ভগ্নির ইজ্জত রক্ষার জন্য অগ্রসর হতে হবে।
কোরআন হাদিসে নারীর ইজ্জত, হোরমত ও পর্দা রক্ষার জন্য যে মহান বিধি নিষেধ নিয়ন্ত্রিত আছে মুসলমানদের তা মানতে হবে। অন্যথায় মুসলমান সমাজকে কঠিন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হতে হবে। চক্ষু মানুষের একটি প্রধান ইন্দ্রিয়। চক্ষু প্রথম দর্শন করে। কারণ- চক্ষু দ্বারা প্রথম জিনিস সম্বন্ধে জ্ঞান হয়, পরে বাসনার উৎপত্তি হয়, বাসনা হতে কামনা ও ভোগের উৎপত্তি হয়। মানুষের হৃদয়ে যত বাসনার সম্ভার হয়, তার অধিকাংশের জন্য দায়ী চক্ষু বাসনার গুপ্তচর।
পর্দা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে যে সকল আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে তা পালন করা প্রত্যেক মুসলমানদের জন্য ফরজ। ইহাতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। নামাজ-রোজা যেমন ফরজ, পর্দা করাও তেমন ফরজ। তিরমিযি শরীফের এক হাদিসে রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, ‘নারী গোপনীয় বস্তু, যখন সে খোলামেলা অবস্থায় গৃহ হতে বাহির হয়, তখন শয়তান তার প্রতি উঁকি মেরে তাকায়।’ ইসলামে যুবতী মেয়েদেরকে পরপুরুষের দৃষ্টি থেকে হাত-পা ঢেখে রাখতে উৎসাহিত করা হয়েছে। পর্দা ইসলামের ফরজ বিধান। হাত, পা, মুখ ঢেকে রাখা পর্দার অন্তর্ভুক্ত। প্রকাশ্যে চলাফেরার ক্ষেত্রে নারীদের শরীর আবৃত রাখা মুসলিম নারীদের অপরিহার্য। পবিত্র কোরআনের আয়াতের আলোকেই মুসলিম নারীগণ বোরকা, হিজাব, হা-পা মোজা পরে শরীর মুখমন্ডল এমনভাবে ঢাকবে যাতে বাহিরে থেকে কোন আব দেখা না যায়। এভাবে তার প্রয়োজনীয় কাজ সারবে।
কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয়Ñ যে প্রধানমন্ত্রী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন এবং সর্ব অবস্থায় শরীর আবৃত রেখে চলাফেরা করেন। সেই প্রধানমন্ত্রী এক প্রেস কনফারেন্সে এক সাংবাদিকের আপত্তিকর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হাত মোজা, পা মোজা পরে নাক মুখ ঢেকে একেবারে জীবন্ত টেন্ড (তাবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানোর মানে হয় না।’
৯২ ভাগ মুসলমানদের দেশে প্রধানমন্ত্রীর মুখে ফরজ বিধান নিয়ে এই বক্তব্য খুবই দুঃখজনক। এ ধরণের বক্তব্য ইসলাম বিদ্বেষীরা উৎসাহ পাবে। দেশের বিশিষ্ট উলামায়ে কেরাম ও ইসলামী চিন্তাবিদগণ এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়ে নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী ইসলামের বিষয়ে অভিজ্ঞ নন, তাই ইসলামের বিধি নিষেধ নিয়ে আলোচনা না করে আলেমদের উপর ছেড়ে দিলে তিনি হতে পারেন সর্বজন শ্রদ্ধেয়।
এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম পীর সাহেব চরমোনাই এক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শরীয়াতের অন্যতম ফরজ বিধান পর্দা। হাত, পা, মুখ ঢেকে রাখা খাছ পর্দানশীল নারীদের পোশাক। প্রধানমন্ত্রীর মতো একজন জাতীয় অভিভাবক হিসেবে এ ধরণের বক্তব্যে জাতি আশাহত। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জাতি আরও দায়িত্বশীল বক্তব্য কামনা করে।
পাশাপাশি পর্দার ব্যাপারে দেশের বিখ্যাত আলেম ওলামাদের সাথে আলোচনা করে কোরআন ও হাদীসের আলোকে নারীদের চলাফেরার নির্দেশ দিবেন। তবেই দেশে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, ইভটিজিং বন্ধ হয়ে যাবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT