প্রথম পাতা

    নতুন প্রকল্প গ্রহণকালে জলাধার ও বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত হয়েছে: ২১-০৬-২০১৯ ইং ০৪:০৪:২১ | সংবাদটি ২৫৯ বার পঠিত
Image

ডাক ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নগরায়নের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে নতুন প্রকল্প গ্রহণকালে প্রাকৃতিক জলাধার সৃষ্টি ও তা সংরক্ষণ এবং অধিকহারে বৃক্ষরোপণের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এটাও লক্ষ্য রাখতে হবে, যে কোন প্রকল্পের সঙ্গে বৃক্ষ রোপণ করতেই হবে এবং জলাধার সৃষ্টি এবং জলাধার সংরক্ষণ করতে হবে।’
তিনি দেশের নাগরিকদের প্রত্যেককে কর্মস্থলে ও বাসস্থানে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে সন্তানদেরও এই পরিবেশবাদী কাজ শেখানোর পরামর্শ দেন।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০১৯ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
পরিবেশ, বন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের বিরোধিতা করি না, সবাইকে অনুরোধ করবো আমাদের বিভিন্ন প্র্রজেক্ট নেয়ার সময় আমি দেখেছি যেখানে জলাধার রয়েছে সেটা ভরাট করেই বিল্ডিং তুলতে হবে। এই করতে করতে ঢাকা শহরে যতগুলো খাল, পুকুর ছিল এখন আর তা নেই।
তিনি বলেন, একটি সংস্থার পরামর্শে পূর্বের সরকার তা শুরু করে দিল। আমাদের বক্স কালভার্ট করার কোন প্রয়োজন নেই। আমাদের খালগুলোকে ওভাবে রেখেই আমরা কিন্তু খালের দুই পার দিয়ে রাস্তা করতে পারি অথবা আমরা সেখানে এলিভেটেড রাস্তাও করে দিতে পারি।
শেখ হাসিনা বলেন, খাল যেখানে খালের মতই থাকবে। সেখানে নৌ চলাচলও করতে পারে তাতে আমাদের পরিবেশও রক্ষা পাবে, বায়ু দূষণ কমবে এবং সেখানকার বাতাসটাও আরামদায়ক হবে। কিন্তু যেখানে কোন গাছ থাকে না সেখানে সেই পরিবেশটা থাকে না। সেই বিষয়ে আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, সভ্যতা এবং তার ক্রমবিকাশ অবশ্যই অব্যাহত থাকবে। কিন্তু সাথে সাথেই আমাদের সর্বক্ষেত্রেই এই বিষয়টা লক্ষ্য রাখতে হবে যে, আমাদের পরিবেশটাকেও রক্ষা করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী সবাইকে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রত্যেকেই নিজের কর্মস্থল ও বাসস্থানে গাছ লাগাবেন। অন্তত, একটি করে বনজ, ফলদ এবং ভেষজ গাছ লাগাবেন। ছেলে-মেয়েদেরও বৃক্ষরোপণ শেখাতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, পরিচর্যাও করতে হবে। প্রত্যেকে নিজের এলাকায় যতো ইচ্ছে গাছ লাগাবেন। এতে কয়েকবছর পর টাকাও পাওয়া যায়, বছর বছর ফল পেলেও খুশি লাগে।
এসময় শেখ হাসিনা আজিমপুর গার্লস স্কুলে পড়ার সময় বান্ধবীদের সঙ্গে নিয়ে গাছ লাগানোর স্মৃতিচারণও করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।
পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এতে বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পরিবেশ ও বনের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু এওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন-২০১৯, বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার-২০১৮ ও সামাজিক বনায়নের লভ্যাংশের চেক এবং একইসঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখার জন্য জাতীয় পরিবেশ পদক-২০১৯ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানস্থল থেকে গাজীপুরে ‘শেখ কামাল ওয়াইল্ড লাইফ সেন্টার’ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের জন্য নতুন ভবনও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বনের পাশে এবং প্রান্তিক ভূমিতে বসবাসরত দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক বন সৃষ্টি করা হচ্ছে। যেখানে সরকারি জমিতে বৃক্ষ রোপণ ও পরিচর্যাকারী ব্যক্তি বা সংগঠনকে বনজ সম্পদ থেকে আহরিত লভ্যাংশের ৭৫ ভাগ দেয়া হয়। বাকি ২৫ ভাগ সরকারের রাজস্ব খাতে জমা হয়।
তিনি বলেন, সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে সৃজিত বাগানে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬০১ জন উপকারভোগী সম্পৃক্ত রয়েছেন। যাদের মধ্যে মহিলা উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজার ৪৬৭ জন। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৬৮ হাজার ৫৬৪ জন উপকারভোগীর মধ্যে ৩৫৬ কোটি ৮২ লাখ ৩৪ হাজার ৫২২ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার উপকারভোগীদের মাধ্যমে পুনঃবনায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ তহবিল গঠন করেছে। ফলে অবক্ষয়িত বনভূমি সংরক্ষণ ও জবরদখলকৃত বনভূমি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপর্যয় মোকাবেলায় বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্রাটেজি এন্ড অ্যাকশন প্ল্যান (বিসিসিএসএপি) প্রণয়ন করেছে এবং নিজস্ব উদ্যোগে ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাষ্ট ফান্ড গড়ে তুলেছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘ইতোমধ্যে ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডে ৩ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ইনটেনডেড ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কনট্রিবিউশন (আইএনডিসি) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যোগাযোগ, বিদ্যুৎ এবং শিল্প খাতে কৌশলপত্রসহ ন্যাশনালিটি ডিটারমাইন্ড কনট্রিবিউশন ইমপ্লিমেন্টেশন রোডম্যাপ (এনডিসি) প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় পরিবেশ সংরক্ষণ ও ওজন স্তর সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সার্টিফিকেট অব এপ্রিসিয়েশন অর্জন এবং বাংলাদেশ সাউথ এশিয়া কো-অপারেটিভ এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম (সাসেপ)-এর নির্বাহী বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক অভিঘাত মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের গৃহীত উদ্যোগের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে জাতিসংঘ তাঁকে লিডারশীপ ক্যাটাগরিতে ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দি আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত করার কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • গোলাপগঞ্জে আরও ৭ জন করোনা আক্রান্ত
  • কুলাউড়ায় আরো ৭ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত
  • ২৪ ঘণ্টায় ২৬৯৫ জন আক্রান্ত, ৩৭ জনের মৃত্যু
  • জকিগঞ্জে ছেলের হাতে বৃদ্ধা মা খুন ॥ ঘাতক আটক
  • সিলেটে পুলিশ সুপারের অফিসসহ ১১ থানায় জীবাণুনাশক টানেল স্থাপন
  • ‘ভয়ঙ্কর’ মানবপাচারকারী বিশ্বনাথের রফিক দীর্ঘদিন পর বন্দি র‌্যাবের জালে ॥ রয়েছে ৫ মামলা
  • করোনায় প্রখ্যাত ইউরোলজিস্ট ডা. মঞ্জুর রশীদ চৌধুরী’র ইন্তেকাল
  • শামসুদ্দিন হাসপাতালে করোনায় কানাইঘাটের বৃদ্ধের মৃত্যু
  • সারাদেশে সোয়া ছয় কোটি মানুষ ত্রাণ সহায়তা পেয়েছে
  • ৭ দিনের জন্য দিল্লি লকডাউন
  • দোয়ারাবাজারে মাদ্রাসা ভবনে মাদ্রাসা বালু সরবরাহ নিয়ে সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু ॥ আহত ১০
  • সিলেটে উর্ধ্বমুখী করোনার থাবা
  • করোনা মোকাবিলায় গুরুত্ব দিয়ে একনেকে ১০ প্রকল্প অনুমোদন
  • কদমতলী বাস টার্মিনাল রণক্ষেত্র আহত অর্ধশতাধিক ॥ গাড়ি ভাঙচুর
  • ছাতকের জাউয়া এলাকায় নতুন ১২ জনের করোনা শনাক্ত
  • দেশে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ২৯১১, মৃত্যু ৩৭
  • ভ্যাকসিন সামিটে যোগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
  • মৃত্যু ৩ লাখ ৭৫ হাজার, আক্রান্ত সাড়ে ৬২ লাখেরও বেশি
  • করোনায় সিলেট জেলায় এপর্যন্ত ১৩জনের প্রাণহানি
  • লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যার ঘটনায় ঢাকায় একজন গ্রেফতার
  • Image

    Developed by:Sparkle IT