সম্পাদকীয়

কমছে বনভূমি

প্রকাশিত হয়েছে: ২২-০৬-২০১৯ ইং ০০:১৫:৩৭ | সংবাদটি ২১৪ বার পঠিত


আমাদের বনভূমি কমছে। এতে প্রাকৃতিক পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। গত পাঁচ দশকে দেশের বন ও বনভূমি কমে গেছে দুই-তৃতীয়াংশ। অথচ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় যেকোন দেশের মোট আয়তনের এক-তৃতীয়াশ বনভূমি থাকা অপরিহার্য। কিন্তু বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ মাত্র আট থেকে নয় শতাংশ। বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে প্রাপ্ত তথ্য হচ্ছে-বাংলাদেশে ১৯৬০-এর দশকে বনভূমির পরিমাণ ছিলো ২৪ শতাংশ। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে তা কমে দাঁড়ায় ১৯ শতাংশ। ৮০ ও ৯০ দশকে তা আরও কমে যায়। তখন দেশে বনভূমির পরিমাণ দাঁড়ায় মাত্র ১৬ শতাংশ। তবে বন অধিদপ্তরের মতে, বাংলাে শে বর্তমানে বনভূমির পরিমাণ মোট ভূমির ১৮ শতাংশ। এই সংস্থাটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দেশের এক দশমিক ৫২ মিলিয়ন হেক্টর বনভূমি। এর মধ্যে রয়েছে পাহাড়ি বন, সমতল বন, সুন্দরবন, উপকূলে তৈরী করা বন এবং চা ও রাবার বাগানে সৃষ্ট বন। সরকারের পরিকল্পনা হচ্ছে-আগামী বছরের (২০২০) মধ্যেই দেশের বনভূমিকে ২০ শতাংশে উন্নীত করা।
বনভূমির পরিসংখ্যানে অনেক গড়মিল থাকতে পারে। তবে এটা ঠিক যে, আমাদের বনভূমি দ্রুত কমছে। সরকার যতো ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করুক না কেন, বনভূমির পরিমাণ বাড়ানো যাচ্ছে না। কাগজে কলমে দেশে মোট বনভূমির পরিমাণ ২৫ লাখ হেক্টর হলেও বাস্তবে এর পরিমাণ আরও কম। নানাভাবে আমাদের বনভূমি কমছে প্রতিনিয়ত। মূলত আবাসন তৈরি, রাস্তাঘাটসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ ও বনভূমি উজাড় করে কৃষি জমি তৈরি করার প্রবণতার জন্যই বনভূমি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। তাছাড়া আসবাবপত্র তৈরি, শিল্প কারখানার বিকাশ, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ইটভাটাসহ গৃহস্থালীর কাজে জ্বালানী হিসেবে কাঠ ব্যবহারের কারণে উজাড় হচ্ছে বনভূমি। সেই সঙ্গে রয়েছে দুর্বৃত্তদের কাঠ পাচার। অভিযোগ রয়েছে-সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বন রক্ষায় নিয়োজিত বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই বন ধ্বংসকারী চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ায় দেশের বনভূমির ধ্বংস ত্বরান্বিত হচ্ছে। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে ইটভাটায় জ্বালানী হিসেবে কাঠের ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও দেশের প্রায় আট হাজার ইটভাটায় জ্বালানী হিসেবে প্রায় ৩৩ শতাংশই কাঠ ব্যবহৃত হচ্ছে। এরা সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে সনাতন পদ্ধতিতে ইট তৈরি করছে। সব মিলিয়ে দেশের বনভূমি উজাড় হচ্ছে নানা উপায়ে এবং ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য।
একদিকে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে পড়েছে, তার ওপর দেশের বনভূমি উজাড় করা হচ্ছে। যার ফলে নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ইতোমধ্যেই বেড়ে গেছে। পরিবর্তিত জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় যেখানে উচিত ছিলো বৃক্ষ সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি করা, সেখানে তা হ্রাস পাচ্ছে। তারপরেও সরকার বনায়নের পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। আর তা সফল করতে দরকার নানামুখী পরিকল্পনা। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপকভাবে বৃক্ষের চারা রোপণ ও পরিচর্যা, পরিবেশ বিধ্বংশী বিদেশি জাতের বৃক্ষ পরিহার করা, ইটভাটায় জ্বালানী হিসেবে কাঠের ব্যবহার বন্ধ করা, গৃহস্থালীর কাজে জ্বালানী হিসেবে কাঠের বিকল্পের দিকে মনোনিবেশ করা এবং সর্বোপরি, কাঠ পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT