উপ সম্পাদকীয় দৃষ্টিপাত

বাজেটের ভালোমন্দ

ডা. রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ প্রকাশিত হয়েছে: ২৩-০৬-২০১৯ ইং ০১:০৪:০৭ | সংবাদটি ২৮০ বার পঠিত
Image

জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেছেন, এটা জনকল্যাণমুখী বাজেট হবে। কিন্তু আমরা মনে করি জনকল্যাণমূলক প্রজেক্টই কম এই বাজেটে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ কম। ২০১৯-২০২০ সালে প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাখাতে ১১ দশমিক ৮ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত ৭-৮ বছর ধরে আমরা ১১ থেকে সাড়ে ১১ শতাংশের মধ্যেই রয়েছি। কিন্তু প্রতি বছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা বহুগুণে বেড়ে চলছে। এগুলো অবশ্যই বিবেচনায় রাখা উচিত। কারণ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে রয়েছে। তাই শিক্ষাখাতে বাজেট বৃদ্ধি না হলে আমরা কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রায় পৌছাতে সক্ষম হবো না।
দেশে আয় উপার্জনহীন নিম্নবিত্ত মানুষ এতিম, বিধবা, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা বয়স্ক ও দুস্থ নারীদের জন্য নামমূল্যে হলেও রেশন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা একান্ত প্রয়োজন ছিল। অথচ এই বাজেটে তা রাখা হয়নি। মনে হয়-এ বাজেট গেল বছরের বাজেটেরই পুণরাবৃত্তি হয়েছে।
এবারের বাজেটে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা কিভাবে অর্জন করা হবে সে-ব্যাপারে কোন দিকনির্দেশনা দেয়া হয়নি। রাজস্ব থেকে যে পরিমাণ কর আদায় করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে, অর্থনীতিবিদরা বলছেন, তা মোটেও সম্ভব নয়। একটা মধ্যবিত্ত দেশের পক্ষে এতো টাকা রাজস্ব আদায় করা হলে দেশ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাবে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের যে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে প্রস্তাবিত বাজেটে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। গরীব মানুষের জীবনযাপনের উন্নয়ন কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কোন প্রতিফলন এ বাজেটে দেখা যাচ্ছে না। এ বাজেটে ব্যয় পরিমাণ রাখা হয়েছে কম, বরং তা ঋণ নির্ভয়, অধিক হারে ঋণের কারণে তা জাতির উপর বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। এ বাজেট দেশের অর্থনীতির উপরে একটা হুমকি ও ব্যাংকিং খাতের অবস্থা খুবই খারাপ করে তুলবে।
সবচেয়ে বড় কথা রাজস্ব আয় নিয়ে বড় ধরনের হুমকি রয়েছে, লক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে এক কোটি মানুষকে করের আওতায় আনবে। এটা এত সোজা কথা নয়। এক বছরের পর রাজস্ব আদায় হবে। এই এক বছর কিভাবে চলবে? ব্যাংক থেকে নিয়ে চলতে হবে, তাও ব্যাংকে লিকুইড মানি (তরল মুদ্রা) নেই। ব্যাংকের রিফর্মের ওপরেও মন্ত্রী কোন কথা বলেনি। পুঁজিবাজার নিয়ে অনেক কথা বললেন কিন্তু পুজিবাজার যে মৃত্যুমুখে তা নিয়েও মন্ত্রী কিছু বললেন না। কালো টাকা সাদা করাকে টিআইবি অসাংবিধানিক, বৈষম্যমূলক ও দুর্নীতিবান্ধব বলে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি সংবিধানের ২০ (২) অনুচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট লঙ্ঘন। এর কারণ হল সামগ্রিকভাবে এ বাজেটে সম্পদ ও আয় বৈষম্য নিরসনে কোন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নেই। যার কারণে সম্পদ ও আয় বৈষম্য বাড়বে।
প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইল ফোনের সেবা এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য করের হার বাড়িয়ে দেওয়া কোনো যুক্তিতেই সমর্থনযোগ্য নয়। মোবাইল ফোনের ব্যবহার এখন নিম্নবিত্ত মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের জন্যও অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। কর সংগ্রহের একটা সোজা উপায় বলেই এ খাতের প্রতি কর কর্তৃপক্ষের বেশি আগ্রহ। কিন্তু কর আরোপের ক্ষেত্রে ন্যায্যতার বিবেচনাও জরুরি। এমনিতেই পরোক্ষ করের একটা বড় অংশ দৃষ্টিকটুভাবে মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলো থেকে সংগ্রহ করা হয়।
এবারের বাজেট সবার জন্য পেনশন, সরকারি কর্মচারীদের বিমা, ওয়েলথ ট্যাক্স, যানবাহনের নিবন্ধন কর বৃদ্ধি, রেমিট্যান্সে প্রণোদনা এবং উপজেলা পর্যায়ে এনবিআরের অফিস করার উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে অতীতে নেওয়া অনেক ভালো পদক্ষেপ কেন বাস্তবায়ন করা যায়নি, তার কোন মূল্যায়ন এখানে নেই। এই মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকাটা জরুরি। তা না হলে অনেক ভালো উদ্যোগই কেবল কথার মধ্যে থেকে যাবে।
এই রকম বাজেটের মাধ্যমে বাংলাদেশ বড় ধরণের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে কি না, সন্দেহ। ওই সব বড় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার জন্য যে ধরণের অসাধারণ প্রয়াস প্রয়োজন, তা বরাবরের মতোই এই বাজেটে অনুপস্থিত। তাই এ ধরণের বাজেটের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নসহ অন্যান্য বড় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব নয়।
মূল কথা হলো, বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দেওয়া প্রয়োজন, যেখানে বিদ্যমান সমস্যাগুলো উল্লেখিত থাকবে এবং পাশাপাশি নতুন পরিকল্পনা প্রণয়নের সুযোগ থাকবে। বিগত বছরগুলোর মতো এবারের বাজেটেও এ ধরণের কোন রোডম্যাপ দেখা যায়নি।
লেখক : রাজনীতিক।

 

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সুশিক্ষা ও স্বপ্নযাত্রা
  • করোনায় আক্রান্ত অর্থনীতি বাঁচাতে কৃষির গুরুত্ব
  • সময়ই শ্রেষ্ঠ সম্পদ
  • যুগে যুগে মহামারী
  • চীন-ভারত সংঘাতের আশংকা কতটুকু
  • করুণাধারায় এসো
  • করোনাকালের ঈদোৎসব
  • মহাপূণ্য ও করুণার রাত শবে-কদর
  • মাহে রামাজান: যাকাত আদায়ের উত্তম সময়
  • দারিদ্র দূরীকরণে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
  • চীন-আমেরিকার শীতল যুদ্ধ
  • চাই আশার বাণী
  • কোভিড-১৯:সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি
  • ক্যাস্পিয়ান সাগরের ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব
  • নিজগৃহে আমাদের এই উদ্বাস্তু জীবন
  • বেকারত্ব ও যুবসমাজ
  • আমার হাতেই আমার সুরক্ষা
  • কুড়িগ্রামের সুলতানা সরেবোর
  • স্মার্টফোনের আনস্মার্ট ব্যবহার
  • কোয়ারেন্টাইন না বলে ঘরবন্দি, একঘরে, ছোঁয়াচে বলুন
  • Image

    Developed by:Sparkle IT