উপ সম্পাদকীয়

ভেজালের ছড়াছড়ি

আসিফ আহমেদ প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৬-২০১৯ ইং ০০:৪২:২৪ | সংবাদটি ৮১ বার পঠিত

মানুষের মৌল-মানবিক চাহিদাগুলোর মধ্যে প্রথম এবং প্রধান হলো খাদ্য। প্রাণের ধারা বজায় রাখতে খাদ্য গ্রহণ অপরিহার্য। মানবদেহে শক্তি সঞ্চার করা, ক্ষয় পূরণ ও রোগ প্রতিরোধে খাদ্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের দেশে বর্তমানে একটি বড় সমস্যা হলো খাদ্যে ভেজাল। আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব খাদ্যেই ভেজাল মেশানো হয়। বাদ যাচ্ছে না শাকসবজি, মাছ-মাংসও। যার ফলে ভেজাল খাদ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষাক্ত খাবার গ্রহণের ফলে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন জটিল ও মরণব্যাধি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
খাদ্যে ভেজাল মেশানোর পেছনে রয়েছে নানা কারণ। যার মধ্যে অন্যতম হলো, অধিক মুনাফা লাভের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের ফায়দা লোটা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো বিষাক্ত কেমিক্যালের মাধ্যমে বেশিক্ষণ সংরক্ষণ করে তারা অধিক লাভবান হচ্ছে। তাছাড়া শুধু রমজান মাসেই আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের ঝটিকা অভিযান দেখলেও বছরের অন্যান্য সময়ে খুবই কম দেখি।
যার ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা আইনের পরোয়া না করে অবাধে মেতে উঠছে খাদ্যে ভেজালের মতো মরণ খেলায়। খাদ্যে ভেজালের আরেকটি অন্যতম কারণ হলো ভোক্তাদের অসচেতনতা। তারা কোনো রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এবং খাদ্যে ভেজালের ভয়াবহতা সম্পর্কে না জেনেই খাদ্য ক্রয় করে থাকে।
আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর মধ্যে শাকসবজি, মাছ-মাংসও ভেজাল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। ইউরিয়া, ফরমালিনসহ বিভিন্ন বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে মাছকেও বিষে পরিণত করা হচ্ছে! প্রশাসনের নজর এড়াতে ব্যবসায়ীরা বরফে ফরমালিন মিশিয়ে মাছের গায়ে ফরমালিন প্রয়োগ করে থাকে! এসব শাকসবজি ও মাছ-মাংস খেয়ে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভুগছে সাধারণ মানুষ। মসলায় মেশানো হচ্ছে কাপড়ের বিষাক্ত রঙ, ইট ও কাঠের গুঁড়া। বার্নিশ কালার, চক পাউডার, ফিটকিরি, চিনি, ময়দা ও রঙ দিয়ে তৈরি হচ্ছে আখের গুড়! পচা ডিম ও বাসি পাম অয়েল দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন বেকারির কেক ও বিস্কুট। বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নকল ট্যাং। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হোটেলে খাওয়ানো হচ্ছে মৃত মুরগি ও কুকুরের মাংস! মেয়াদোত্তীর্ণ গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে বিষাক্ত কেমিক্যাল রঙ ও তাজা রক্ত মিশিয়ে! ফলে ভোক্তারা প্রতারণার পাশাপাশি নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এসব ক্ষতিকর খাদ্যদ্রব্য কিডনি ও লিভারের ক্ষতি করে। বর্তমান বাজারে আম ছাড়াই উৎপাদিত হচ্ছে আমের জুস! কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কোনো রকম অনুমোদন ছাড়াই পণ্যসামগ্রী উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। তাছাড়া বর্তমানে ফলের বাজারগুলো আর ফলের বাজার নেই, বিষের বাজারে পরিণত হয়েছে দিন দিন! আম, আপেল, আঙুর, কলা ও মালটাসহ এমন কোনো ফল নেই, যেটাতে বিষাক্ত কেমিক্যাল মেশানো হচ্ছে না। সাধারণ ফলমূলের চেয়ে কেমিক্যালযুক্ত ফলের রঙ হয় উজ্জ্বল। যার ফলে বেশি দামেও এসব ভেজাল পণ্য ক্রয় করে ঠকছে সাধারণ ক্রেতারা। ফল পাকাতে, দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ ও ফলের রঙ উজ্জ্বল করতে ব্যবহূত হচ্ছে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও ইথাইলিন। ফলে ভোক্তারা ক্যান্সার, অ্যালার্জি, অ্যাজমা, চর্মরোগ, উচ্চ রক্তচাপসহ কিডনি, লিভার ও হূৎপি-ের বিভিন্ন জটিল ও মরণব্যাধি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
খাদ্যে ভেজাল রোধে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের ঘন ঘন ঝটিকা অভিযান খাদ্যে ভেজাল অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারে। অসাধু ব্যবসায়ী ও অপরাধে সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সাধারণ মানুষকে ক্ষতি করে ব্যবসায়ীদের অধিক মুনাফা লাভের হীন মনমানসিকতা ত্যাগ করতে হবে। মিডিয়ার মাধ্যমে ভেজাল মিশ্রিত পণ্যের তালিকা দেশের মানুষের কাছে প্রকাশ করে তাদের সচেতন করতে হবে। সর্বোপরি, প্রশাসনের সুনজর এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতার মাধ্যমে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ করা সম্ভব।
লেখক : শিক্ষার্থী।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • কিশোর-কিশোরীদের হালচাল
  • বলকানস : ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্র
  • সন্তানের প্রতি অভিভাবকের দায়িত্ব
  • শিক্ষার হার এবং কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ
  • শিক্ষার রাজ্যে এক বিস্ময়
  • ডেঙ্গু ও বানভাসি মানুষ
  • শিল্প-সাহিত্যে ১৫ আগস্ট
  • ইমাম-মুয়াজ্জিন সার্ভিস রোলস-এর প্রয়োজনীয়তা
  • বাঙালির মুক্তিসনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা
  • শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে পরিবেশ
  • তিনি কোন দলের নয়, সমগ্র বাঙালির
  • ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম অধ্যায়
  • বঙ্গবন্ধুর ফিরে আসা
  • শিক্ষা ও নৈতিকতা
  • কুরবানির সূচনা
  • কুরবানি ও আমাদের করণীয়
  • উন্নয়নের মানবিকতা বনাম গতানুগতিকতা
  • বিশ্বাসের উপলব্ধি
  • নিরাপত্তাহীনতায় নারী
  • স্বাগতম ঈদুল আযহা
  • Developed by: Sparkle IT