সম্পাদকীয় নিজের বিপদের কথা শত্রুকে বলোনা, সে মুখে দুঃখ প্রকাশ করবে আর অন্তরে উল্লাস বোধ করবে। -শেখ সাদী

ই-পাসপোর্ট আসছে

প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৬-২০১৯ ইং ০০:৪৯:০৭ | সংবাদটি ২০৮ বার পঠিত

এবার আসছে ই-পাসপোর্ট। আগামী মাসের প্রথম দিন থেকেই চালু হচ্ছে ই-পাসপোর্ট। এই লক্ষে চলতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ হবে। সরকার বলছে, এই ই-পাসপোর্ট চালু হলে বিদেশযাত্রীদের ইমিগ্রেশন সময় ও ভোগান্তি কমবে। এতে ডিজিটাল দেশ গড়ার পথে আরেকধাপ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয় ২০১৭ সালে। ব্যয় ধরা হয় চার হাজার পাঁচশ ৫৯ কোটি টাকা। এ ব্যাপারে তখন একটি জার্মান প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আর এই প্রতিষ্ঠানেরই সহায়তায় চালু হচ্ছে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম। আগামী মাসের পয়লা তারিখ থেকে ই-পাসপোর্টের আবেদন নেয়া হবে। ই-পাসপোর্টে ৩৮ ধরনের নিরাপত্তা ফিচার থাকবে। বর্তমানে এমআরপি ডেটা বেইসে যেসব তথ্য রয়েছে, তা-ই ই-পাসপোর্টে স্থানান্তর করা হবে। পাসপোর্টের মেয়াদ হবে বয়স ভেদে পাঁচ ও দশ বছর। ই-পাসপোর্ট চালু হলেও এমআরপি পাসপোর্ট চালু থাকবে। তবে নতুন করে কাউকে এমআরপি পাসপোর্ট দেয়া হবে না।
মূলত পাসপোর্ট সংক্রান্ত ভোগান্তি ও জালিয়াতি বন্ধে নেয়া হচ্ছে ই-পাসপোর্ট কর্মসূচি। বর্তমানে এমআরপি পাসপোর্টের মতোই ই-পাসপোর্টেও একই ধরনের বই থাকবে। সেখানে থাকবে পলিমারের তৈরী একটি কার্ড। এই কার্ডে সংরক্ষিত চিপে পাসপোর্ট বাহকের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। আর ই-পাসপোর্টের সব তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত থাকবে আন্তর্জাতিক তথ্য ভান্ডার পাবলিক কি ডাইরেক্টরি (পিকেডি)-তে। এই তথ্য ভান্ডার পরিচালনা করে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন, ইন্টারপোলসহ বিশ্বের সব বিমান ও স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ এই তথ্য ভান্ডারে ঢুকে তথ্য যাচাই করতে পারবে। কিন্তু নিরাপত্তা ও জালিয়াতি সংক্রান্ত ভোগান্তি থেকে ই-পাসপোর্ট সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিলেও পাসপোর্ট তৈরি সংক্রান্ত ভোগান্তি থেকে মানুষ মুক্তি পাবে কীভাবে? পাসপোর্ট অফিসে মানুষের ভোগান্তি আর হয়রানীর শেষ নেই। পাসপোর্টের জন্য আবেদন দাখিল থেকে শুরু করে ডেলিভারি নেয়া পর্যন্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় পাসপোর্ট গ্রহিতাদের নানাভাবে হয়রানী করা হয়। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী আর দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ট সাধারণ মানুষ। এদের কারণে সরকার নির্ধারিত টাকার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করেও যথাসময়ে পাসপোর্ট পাচ্ছে না অনেকে।
পাসপোর্ট নাগরিকের অধিকার। সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত এই অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের দেশের অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। পাসপোর্ট অফিসগুলোর সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতির কারণে পাসপোর্ট তৈরিতে আগ্রহী অনেকেই পাসপোর্ট অফিসে যেতে চান না। একদিকে সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিরসনে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, আর অপরদিকে ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ সরকারি চাকরীজীবীদের কারণে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে সেই সেবা গ্রহণ করতে পারছেনা। ই-পাসপোর্ট চালুর সঙ্গে সঙ্গে পাসপোর্ট অফিসগুলোকে দুর্র্নীতিবাজদের খপ্পর থেকে মুক্ত করা জরুরি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT