স্বাস্থ্য কুশল

নিমের ঔষধী গুণ

মুন্সি আব্দুল কাদির প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৬-২০১৯ ইং ০১:১৯:৩৩ | সংবাদটি ১৩৩ বার পঠিত

নিম আমাদের খুব পরিচিত গাছ। সব গ্রামেই নিম গাছ দেখা যায়। এমনকি শহরেও অনেক বাড়িতে নিম গাছ লাগিয়ে থাকে। কথায় বাড়ির দক্ষিন পাশে নিম গাছ লাগালে ঐ বাড়িতে কোন সংক্রামক ব্যাধি আসে না। নিম গাছের বাতাস ও ছায়া স্বাস্থের জন্য উপকারী। নিম এমন একটি ভেষজ উদ্ভিদ যার পুরো গাছটিই ভেষজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নিম পাতা, কাঠ, ছাল, ফুল, ফল, মূল সবই ভেষজ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। নিম গাছকে গুনী গাছ বলা হয়। ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে এর বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন রোগে উপকারী। নিমের মত এত উপকারী গাছ আছে বলে জানা নেই। চৈত্র- জৈষ্ঠ পর্যন্ত নিমের ছাল ও কাঠ দাহজনিত রোগের জন্য উপকারী। আষাঢ় Ñ ভাদ্র মূলের ছালের রস বেশ উপকারী। বসন্ত কালে নিমের কচি পাতা বেশ উপকারী। নিমের নির্যাস বহুমূত্র নাশী, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া নাশী। আমাদের চারপাশে অনেক নিম গাছ দেখতে পাই। ইচ্ছা করলে আমাদের বাড়ির আঙ্গিনায় নিম লাগিয়ে উপকারিতা নিতে পারি।
১। রাতকানা: রাতকানা রোগে নিমের ফুল ভেজে খেলে রাত কানা রোগ ভাল হয়ে যায়।
২। বসন্ত : বসন্ত রোগে রোগীকে নিম পাতার বিছানায় শোয়ালে জীবাণুনাশক হিসেবে ইনফেকশন হওয়া থেকে রক্ষা করে এবং নতুন করে সংক্রমন হয় না। নিমের এই জীবণূ ধ্বংসকারী গুনের জন্য ফোড়া, কাটা-পোড়ার ক্ষত, দাদ একজিমা, খশকি সহ বিভিন্ন জটিল চর্ম রোগে নিম পাতা বাটা বা ছাল বাটা প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়।
৩। চর্ম রোগ : কাঁচা হলুদ ও নিম পাতা বাটা চর্মরোগে খুব উপকার হয়। নিম পাতা, হলুদ গুঁড়া আর গন্ধক চ’র্ণ সরিষার তেলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করলে খোসপঁচড়া ভাল হয়ে যায়।
৪। ব্রণ ও ফুসকুড়ি : নিম ফলের বিচি পানি দিয়ে ব্রণ ও ফুসকুড়িতে ৪-৫ দিন দিনে দুই বেলা মাখলে ব্রণ ও ফুসকুড়ি সেরে যায়।
৫। কৃমি: যে কোন প্রকার কৃমিতে নিম পাতার বড়ি বা পাতার গুঁড়া খেলে খুবই উপকার হয়। এমনিতেই মাঝে মাঝে খেলে কৃমির আক্রমণ হয় না।
৬। একজিমা: নিম ছাল সিদ্ধ পানি দিয়ে প্রতিদিন আক্রান্ত স্থান ধৌত করতে হবে এবং আক্রান্ত স্থান পরিস্কার করে ছালের পেষ্ট লাগাতে হবে।
৭। ফোড়া: নিম পাতা বেটে ফোড়ায় প্রলেপ দিলে ফোড়া পেকে যায়।
৮। শরীর সতেজ: নিম পাতা সিদ্ধ পানিতে গোসল করলে শরীর সতেজ থাকে এবং চর্ম রোগ থেকে বাঁচা যায়।
৯। শিশুর কেশ দাদ: শিশুর মাথায় দাদ হলে নিম দানার তেল লাগালে কমে যায়।
১০। স্বপ্নদোষ: নিম ছালের রস ১-২ চা চামচ ১ গ্লাস গরম গরুর দুধে মিশিয়ে রাত্রে শয়নকালে পান করলে স্বপ্নদোষ ভাল হয়।
১১। পোকামাকড় দমনে: শুকনো নিম পাতা ধান, চাল, ডাল বা গমের পাত্রে রাখলে এসব খাদ্যশস্যে পোকার আক্রমণ হয় না।
১২। বর্ষাকালে কাপড়ে: বর্ষাকালে আলমারীতে কাপড় রাখলে এক বাজে গন্ধ হয়। তাছাড়া এসব কাপড় অনেক সময় পোকায় কেটে ফেলে। এই সমস্যা দূর করতে আলমারীর কোনে শুকনো নিম পাতা ঝুলিয়ে রাখলে এই সমস্যা হবে না।
১৩। চোখের পিচুটি: অকালে চোখে টিপচুটি পড়া, চোখে ঝাপসা দেখা, চোখ জুড়ে যাওয়া রোগে নিম পাতার রস ৫-৬ ফোঁটা দুধ ও পানির সাথে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
১৪। এলার্জি: নিম পাতা গুঁড়া এক ভাগ, কাঁচা হলুদ শুকিয়ে গুঁড়া ২ ভাগ, শুকনো আমলকি গুঁড়া তিন ভাগ সব এক সাথে মিলিয়ে প্রতিদিন সকালে ১ গ্রাম পরিমাণ খেলে এলার্জি থাকে না।
১৫। অরুচি: মুখে অরুচি হলে সুজির হালুয়ার সাথে অল্প নিম পাতা গুঁড়া মিশিয়ে খেলে অরুচি সেরে যায়।
১৬। চাপা অম্লরোগ: সকালে খালিপেটে ৪-৫ গ্রাম নিম পাতার গুঁড়া কয়েকদিন খেলে উপকার পাওয়া যায়।
১৭। ঘুষঘুষে জ¦র: ২৫০ মিঃ গ্রাম নিমপাতার গুঁড়া দেড় রতি মকরধ্বজ মধুর সঙ্গে খেলে জ¦র ভাল হয়ে যায়।
১৮। খোসপাঁচড়া ও পুরনো ক্ষত: নিম পাতার সাথে সামান্য কাঁচা হলুদ পিষে আক্রান্ত স্থানে ৭-১০ দিন প্রলেপ দিলে খোসপাঁচড়া ভাল হয়ে যায় এবং পুরনো ক্ষত ও সেরে যায়।
১৯। পিত্ত বিকারে দাঁতের মাঢ়ীতে ঘা: পিত্ত বিকারে যদি দাঁতের মাঢ়ীতে ঘা হয় তবে নিমের বিচির তেল লাগালে ঘা ভাল হয়ে যায়।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT