সম্পাদকীয়

ভূমি অফিসের দুর্নীতি

প্রকাশিত হয়েছে: ২৫-০৬-২০১৯ ইং ০১:১৫:১৬ | সংবাদটি ১৭৩ বার পঠিত


দুর্নীতির সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে সরকারি অফিসগুলো। এমন কথা শোনা যায় প্রায়ই। দুর্নীতিবাজ সরকারি অফিসগুলোর অন্যতম হচ্ছে ভূমি অফিস। ভূমি অফিসগুলোতে দুর্নীতি ও হয়রানীর কোন সীমা পরিসীমা নেই। ঘুষ ছাড়া এই অফিসে কোন সেবা পাওয়া মুশকিল। দুর্নীতিবাজ ঘুষখোর কর্মকর্তা কর্মচারী ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে সেবা প্রার্থীরা রীতিমতো অসহায়। ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে শুরু করে উপজেলা ও জেলা ভূমি অফিসগুলোতে দুর্নীতি চলছে প্রকাশ্যে। দুর্নীতি দমন কমিশনে ভূমি অফিসের দুর্নীতি নিয়ে জমেছে অভিযোগের পাহাড়। সম্প্রতি দুদকের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। তারা দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে ভূমি অফিসে আট খাতে দুর্নীতি হচ্ছে বলে তথ্য পেয়েছে। এই আট খাতের দুর্নীতি ঠেকাতে তারা একটি সুপারিশমালা তৈরি করেছে।
ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া কোন কাজ সম্পাদন করেছে কেউ, এমন খবর শোনা যায় খুব কমই। যার প্রতিফলন পাওয়া গেছে দুদকের অনুসন্ধানে। তারা বলেছে ভূমি রেজিস্টেশন, নামজারি, ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি কর, ভূমি রেকর্ড, খাস জমি, পরিত্যক্ত ও অর্পিত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ টাকা ছাড়া সেবা পায় না। তারা এই সব অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে সত্যতাও পেয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে ঘুষ ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হলেও কারো বিরুদ্ধে স্থায়ী কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অভিযুক্তদের মধ্যে কাউকে অন্যত্র শাস্তিমূলক বদলী করা হলেও নতুন কর্মস্থলে গিয়েও সে দুর্নতির সা¤্রাজ্য গড়ে তুলে। আবার অনেকে বছরের পর বছর একই অফিসে চাকরি করে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ছে। জানা গেছে ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া কোন নামজারি হয় না। বিশেষ করে অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও দালাল চক্র মিলে মিশে বিছিয়ে রেখেছে দুর্নীতির জাল। ঘুষের বিনিময়ে খাস জমি, পরিত্যক্ত জমি বা অর্পিত সম্পত্তি কারও নামে বন্দোবস্ত দিচ্ছে দুর্নীতিবাজ চক্র। এদের সহায়তায় সরকারি ভূমি বছরের পর বছর অবৈধভাবে দখলে রেখেছে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ভূমি অফিসসহ প্রায় সব সরকারি দপ্তরে ঘুষ-দুর্নীতি একটা সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এখন দরকার এর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালাল চক্রের মূলোৎপাটন করতে সরকারকে কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে সাধারণ সেবা গ্রহীতাদেরও। তাদেরকে এটা উপলব্ধি করতে হবে যে সরকারি অফিসগুলো জনগণকে সেবা দিতে বাধ্য; সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা দেয়া হয় এই সেবা দেয়ার জন্যই।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT