উপ সম্পাদকীয়

সমাপ্তিতেই শান্তি

ইনাম চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-০৬-২০১৯ ইং ০০:২৪:৫৮ | সংবাদটি ৭৮ বার পঠিত

ব্যারিস্টার রুমীন ফারহানা যেন এক আগুনের ফুলকি। তিনি মহান জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় সংরক্ষিত মহিলা আসন এর সংসদ সদস্য। তিনি বীরদর্পে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগ দিঢেছেন। হালভাঙ্গা, পালভাঙ্গা বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হিসাবে একটি মারণাস্ত্র সদৃশ উপস্থিতি জাহির করেছেন। প্রথমদিনের স্বাগত বক্তব্যেই তিনি বলে বসেছেন এই মহান জাতীয় সংসদটি অবৈধ। উনার দুই মিনিটের ভাষণের পরও তার বক্তব্য তিনি চালিয়ে যান। কথিত অবৈধ সংসদে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রেখে বৈধ-অবৈধ দুটোর ব্যবধানই যে তিনি গুলিয়ে ফেলেছেন সেদিকে নজর দেয়ার সময়-সুযোগ তার ছিলো না। অন্যদিকে বিএনপি নামক একটি রাজনৈতিক দল যে রাজনীতির মাঠে এখনও তৎপর আছে সেটি তিনি প্রতিষ্ঠিত করেছেন তার অগ্নিগর্ভ বক্তব্যের মারফত। তিনি অনেক কথা বলতে চেয়েছেন। তার কথায় প্রতিবাদ এবং দ্রোহ ফুটে উঠেছে। তিনি বিএনপি নামক দলটিকে বঞ্চনার সায়রে ফেলে রেখে ক্ষমতাসীন দলের দুধের সায়র আর মধুর সায়রে অবগাহন করার প্রবণতাকে ঠিকঠাক মতো মেনে নিতে পাছেন না। তার আত্মমর্যাদাবোধ আমাকে বিষ্মিত করেছে; তিনি উত্তেজনা প্রকাশ করেছেন কিন্তু সীমা লংঘন করেন নাই। তিনি যুক্তি প্রদর্শন করেছেন কিন্তু তাল বা খেই হারান নাই। তার মাইকটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে তারপরও ব্যারিস্টার রুমীন ফারহানা বক্তব্য চালিয়ে গেছেন, অর্থাৎ তার বলার ছিলো অনেক কিছু। ভাবভঙ্গী, বচন আর আবেগ বুঝিয়ে দিয়েছে কবি গুরুর সেই ছত্রটি ‘অনেক কথা যাও যে বলে, কোন কথা না বলে।” আবহটি যে ছিলো এমনতরো। এক কথায় ব্যারিস্টার রুমীন ফারহানা সারা জাতির দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হতে পেরেছেন তাৎক্ষণিকভাবে।
বিএনপি নামক দলটির একজন সহাসচিব আছেন। তিনি বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বৈধ বা অবৈধ যে কোনভাবেই তার সদস্যপদটি ধরে রেখেছিলেন। শুধুমাত্র দূরনিয়ন্ত্রিত রাজনীতির কারণে অর্থাৎ জনাব তারেক রহমান সাহেরেব নির্দেশনা মোতাবেক আর সংসদ সদস্যভুক্তির শপথনামা পাঠ করেন নাই এবং জাতীয় সংসদ সদস্য পদটিও ধরে রাখতে পারেন নাই। এটি ছিলো একটি বিরাট ধরনের রাজনৈতিক ভ্রান্তি বিলাস। বিদেশে নেতা বসে থাকলেন একরাশ মামলা মোকদ্দমা মাথায় নিয়ে আবার দলীয় প্রধান তদনুরুপ অবস্থায় হাসপাতাল আর কারাগার এ দিনযাপন করে পার করছেন জীবনের শেষার্ধ। এতোকিছু ঘটছে এর মধ্যে যদি বিএনপি মহাসচিব জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যেকোন ধরনের বক্তব্য প্রদান করতে পারতেন, সরকারি সাফল্য ব্যর্থতা তুলে ধরতে পারতেন কে তাকে আটকাতো। সবকিছু ফলাও করে প্রকাশ করতো সংবাদ মাধ্যমসমূহ। তিনি কিছুই করলেন না, মাঝে মাঝে সংবাদ সম্মেলনে বা অমুক তমুক নেতার মধ্যখানে বসে থেকে নীড় হারা পাখির মতো হয় মনমরা হয়ে নতুবা পুরনো সারথীদের কথা চিন্তা করে কান্নাকাটি করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছেন না এবং আগামী দিনগুলিতে মনে হয় এ জাতীয় কর্মকান্ডও আর চালাতে পারবেন না। বিএনপি মার্কা বা অন্যকোন মার্কা সরকার বিরোধী রাজনীতি পরিচালনায় মরহুম আব্দুল মান্নান ভুইয়া বা খোন্দকার দেলাওয়ার হোসেন মরহুমদের মতো আর কোন সাধারণ সম্পাদক বিএনপি কেন কোন দলই পাবে বলে মনে হয় না। ছিচ কাদুনে ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর মতো সাধারণ সম্পাদক দ্বারা এতোবড় রাজনীতির ময়দান সামাল দেয়া যে সম্ভব নয় সেটা সম্যক অনুভূত হয়েছে ইতিমধ্যে।
মরহুম মান্নান ভুইয়া বা খোন্দকার দেলাওয়ার বা এমন ধরনের আরো বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ ছিলেন মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর অনুচর অনুগামী এবং সার্বক্ষণিক সহচর। তারা উভয়েই ছিলেন শিক্ষিত মার্জিত। খোন্দকার দেলাওয়ার সাহেবতো ছিলেন সিলেট এমসি কলেজের অর্থনীতির শিক্ষক সেই ঊনিশশত পঞ্চান্ন সালে। সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে মাওলানা ভাসানীর অনুসারী হয়ে ত্যাগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। অনুরূপভাবে আব্দুল মান্নান ভূইয়া ছিলেন একজন কৃতি ছাত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রী লাভের পর মাওলানা ভাসানীর সাহচার্য গ্রহণ করে দুখী মানুষের জন্য সংগ্রাম মুখর রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। মহান মুক্তিযুদ্ধকালে মান্নান ভূইয়া তার এলাকা বেলাবো নরসিংদী এলাকায় গড়ে তুলেন এক অপ্রতিরোধ্য যোদ্ধা বাহিনী। তার যোগ্য নেতৃত্বে ওই এলাকায় হানাদার বাহিনী কখনো প্রবেশ করতে পারে নাই। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে মান্নান ভূইয়া স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে সকল আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে তার সংগ্রাম অব্যাহত রাখেন। প্রগতিশীল রাজনীতির ধারক বাহক মানাœন ভুইয়া জীবনের শেষকালে যোগ্য সম্মান বা প্রাপ্য মর্যাদাটুকু তার এককালীন রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে পাননি বলেই সকলের বিশ্বাস। বর্তমান বিএনপি নামক বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বলে দাবিদার সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে মান্নান ভুইয়া ছিলেন অন্যতম।
শুরু করেছিলাম বর্তমান সময়ের ঝড় তোলা সংসদ সদস্য বারিস্টার রুমীন ফারহানা প্রসঙ্গ দিয়ে। তিনি এককালের ত্যাগী, বরেণ্য আর প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ অলি আহাদের কন্যা। মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী যখন চূড়ান্তভাবে তার প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন অর্থাৎ সভাপতি পদটি বিসর্জন দেন, তার পদত্যাগ পত্রটি সংবাদপত্রসমূহে পৌঁছিয়ে দিয়েছিলেন উল্লেখিত অলি আহাদ। কাউকে না জানিয়ে কাউর সাথে পরামর্শ না করে একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো ক্ষমতা, সাহস আর রাজনৈতিক দৃঢ়তা ছিল একমাত্র মাওলানা ভাসানীর। তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মজলুম জননেতার কোন সিদ্ধান্ত বা গৃহিত অবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি বা সাহস কোন রাজনৈতিক কর্মী বা নেতার ছিলোনা। তারা বরং সকলেই ছিলেন মাওলানা ভাসানীর করুণাপ্রার্থী। আওয়ামীলীগ সভাপতি হিসাবে মাওলানা ভাসানীর পদত্যাগ তখন কেউ মেনে নিতে পারেন নাই আবার প্রতিবাদও করার সাহসও ছিলোনা তাই সকলের ক্ষোভ গিয়ে পড়ে অলি আহাদের উপর। তিনি কেন কোন কাকপক্ষীকে না জানিয়ে মজলুম জননেতা ভাসানী সাহেবের পদত্যাগ পত্রখানি পত্রিকা অফিসে পৌঁছিয়ে দিলেন। জনাব অলি আহাদ রইলেন অবিচল। তারপরে অনেক কিছু ঘটে যায়। তৎকালীন যুবনেতা তাজুদ্দীন আহমদ সাহেবকে সী প্লেন এ করে পাঠানো হয় যমুনা বক্ষে অবস্থানরত মাওলানা ভাসানীর সন্নিধানে, বুঝিয়ে সুঝিয়ে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসতে। যথারীতি সী প্লেন খানি যমুনা বক্ষে নেতার নৌকার পাশে অবতরণ করলো। তাজুদ্দিন সাহেব সবকিছু খোলাসা করলেন কিন্তু টলানো গেলোনা মাওলানা ভাসানীকে। তিনি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিলেন। তাজুদ্দীন আহমদ সাহেবকে মাসকালাই ডালের সাথে সাদা চালের ভাত খাইয়ে বিদায় দিলেন মাওলানা ভাসানী।
যখন সব মতপথ বিরুদ্ধ ¯্রােতে ধাবমান তখনই গঠিত হয় ন্যাপ নামক প্রধান একটি বিরোধী দল যথারীতি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে এবং উদ্যোগে। সেই প্রবল প্রতিরোধপূর্ণ অবস্থানে থেকেও যারা মাওলানার সারথী ছিলেন তাদেরই একজন অলি আহাদ। অলি আহাদ ছিলেন একজন বিত্তশালী রুচিশীল আর পরোপকারী ব্যক্তিত্ব। তার অনুকম্পা আর সহায়তা লাভকারী অনেকেই জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। প্রতিষ্ঠা লাভকারী অনেকেই আবার বৃদ্ধাঙ্গুলিও দেখিয়েছেন উপকারী ব্যক্তিত্ব অলি আহাদ এর প্রতি। যদিও তিনি এসব ব্যাপারে কোনদিনও ছিলেন না একেবারে মনোযোগী। করুণা প্রার্থীকে তার পক্ষ থেকে দেয় সাহায্যটুকু করে তিনি নিজেকে ধন্য মনে করতেন। প্রতিদান আশা করার মতো অবস্থানে ছিলেন না তিনি কখনো। সেটা আর্থিক বা সামাজিক যে কোন দৃষ্টিকোণ থেকেই। আজকের রুমীন ফারহানার কণ্ঠস্বর, বাগ্মীতা আর উচ্চকিত সাহস তার পিতার কথাই যেন মনে করিয়ে দেয়। যারা প্রগতিশীল রাজনীতির ধারক বাহক ছিলেন তারা সশ্রদ্ধ চিত্তে অলি আহাদের মতো ত্যাগীদের স্মরণ করবেন আর যারা অনুকম্পা প্রার্থী ছিলেন তারাতো যথারীতি গায়ে জ্বালা নিয়ে পরিস্থিতি অবলোকন করবেন।
শেষাংশে এসে আমাদের নাগরিক জীবনের জ্বালা ধরানো কিছু সমস্যার কথা লিখতে বাধ্য হচ্ছি। গত আঠারো জুন। মঙ্গলবার সকাল দশটার সময় এই লেখাটি লিখেছি বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় প্রচন্ড গরমে সেদ্ধ হতে হতে। প্রায় চব্বিশ ঘন্টা আগে বিদ্যুৎ গিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ এর কোন কর্তৃপক্ষই সাড়া দিচ্ছে না। টেলিফোন ধরছেন তো নাই কোন সময় আবার ঠাস করে লাইন কেটে দিচ্ছেন। সম্মানিত বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সম্মান প্রদর্শন করছেন এইভাবে আমাদের সিলেট মহানগরীর বিদ্যুৎ বিভাগ। গতকাল আমি নিজে গিয়েছি আমাদের লামাবাজার এলাকার জন্য নির্দিষ্ট বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনে। সকল বিদ্যুৎকর্মীদের সেখানে খোশগল্পে মত্ত দেখলাম। অনেক গ্রাহককেই সেখানে জড়ো দেখলাম বিদ্যুৎ কর্মীদের মনোযোগ আকর্ষণ প্রচেষ্ঠায়। আমার ঔৎসুক্য দেখে দয়া পরবশ হয়ে সিলেট মির্জাজাঙ্গাল বিদ্যুৎ উপ-কেন্দ্রের একজন কর্মী স্থানীয় ব্যক্তি বললেন তার ছিড়ে গেছে বাসায় যান সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কথামতো বাসায় এসে আঠারো ঘন্টা অপেক্ষার পরও বিদ্যুৎ আসে নাই। জানিনা জাকান্দানী আর কতোটুকু বাকি আছে আমি বা আমার মহল্লাবাসীদের জন্য। উল্লেখিত বিদ্যুৎকর্মীদের বেপরোয়া ভাব, তস্করবৃত্তি আর দায়িত্ব পালনে অনীহা সবকিছু সীমা লংঘন করেছে। আমি অভিযোগ আকারে বিষয়টি উপস্থাপন করলাম আমার লেখনীতে। একটি প্রস্তাবও দিতে চাচ্ছি কায়মনো বাক্যে। সিলেট মহানগরীর বিদ্যুৎ বিপণন ব্যবস্থাপনা বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে দোষ কোথায়। নিদেনপক্ষে জবাবদিহিতা আর সহযোগিতাপূর্ণ আচরণতো আশা করা যাবে। জালালাবাদ গ্যাস এর ক্ষেত্রে একই পরামর্শ আমিসহ ভুক্তভোগীদের। ওহি হোতা হ্যায় যো মঞ্জুরে খোদা হোতা হ্যায়।
লেখক : কলামিস্ট।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • কিশোর-কিশোরীদের হালচাল
  • বলকানস : ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্র
  • সন্তানের প্রতি অভিভাবকের দায়িত্ব
  • শিক্ষার হার এবং কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ
  • শিক্ষার রাজ্যে এক বিস্ময়
  • ডেঙ্গু ও বানভাসি মানুষ
  • শিল্প-সাহিত্যে ১৫ আগস্ট
  • ইমাম-মুয়াজ্জিন সার্ভিস রোলস-এর প্রয়োজনীয়তা
  • বাঙালির মুক্তিসনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা
  • শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে পরিবেশ
  • তিনি কোন দলের নয়, সমগ্র বাঙালির
  • ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম অধ্যায়
  • বঙ্গবন্ধুর ফিরে আসা
  • শিক্ষা ও নৈতিকতা
  • কুরবানির সূচনা
  • কুরবানি ও আমাদের করণীয়
  • উন্নয়নের মানবিকতা বনাম গতানুগতিকতা
  • বিশ্বাসের উপলব্ধি
  • নিরাপত্তাহীনতায় নারী
  • স্বাগতম ঈদুল আযহা
  • Developed by: Sparkle IT