ইতিহাস ও ঐতিহ্য

পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন

আতিকুর রহমান প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-০৬-২০১৯ ইং ০০:২৬:১৪ | সংবাদটি ১৬৬ বার পঠিত

পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
[পূর্ব প্রকাশের পর]
(তাং-শুক্রবার, ২৯ বৈশাখ ১৪০৭ বাংলা, ১২ মে ২০০০ খ্রি./ দৈনিক গিরিদর্পণ, রাঙ্গামাটি)।
‘দফা নং-ঘ/১৬। জনসংহতি সমিতির সকল সদস্য স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তনের পর তাহাদের এবং জনসংহতি সমিতির কার্যকলাপের সাথে জড়িত স্থানীয় বাসিন্দাদেরকেও সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শন করা হইবে।
ক) জনসংহতি সমিতির প্রত্যাবর্তনকারী সকল সদস্যকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে পরিবার প্রতি এককালীন ৫০,০০০/০০ টাকা প্রদান করা হইবে।
খ) জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সদস্যসহ অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে যাহাদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতারী পরোয়ানা হুলিয়া জারি অথবা অনুপস্থিতিকালীন সময়ে বিচারে শাস্তি প্রদান করা হইয়াছে। আত্মসর্পন ও স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তনের পর যথাশীঘ্র সম্ভব তাহাদের বিরুদ্ধে সকল মামলা, গ্রেফতারী পরোয়ানা প্রত্যাহার করা হইবে এবং অনুপস্থিতকালীন সময়ে প্রদত্ত সাজা মওকুফ করা হইবে। জনসংহতি সমিতির কোন সদস্য জেলে আটক থাকিলে তাহাকেও মুক্তি দেওয়া হইবে।
গ) অনুরূপভাবে অস্ত্র সমর্পন ও স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তনের পর কেবলমাত্র জনসংহতি সমিতির সদস্য ছিলেন কারণে কাহারো বিরুদ্ধে মামলা দায়ের বা শাস্তি প্রদান বা গ্রেফতার করা যাইবে না।
ঘ) জনসংহতি সমিতির যে সকল সদস্য সরকারের বিভিন্ন ব্যাংক ও সংস্থা হইতে ঋণ গ্রহণ করিয়াছেন কিন্তু বিবাদমান পরিস্থিতির জন্য গৃহীত ঋণ সঠিকভাবে ব্যবহার করিতে পারেন নাই, তাহাদের উক্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হইবে।
ঙ) প্রত্যাগত জনসংহতি সমিতির সদস্যদের মধ্যে যাহারা পূর্বে সরকার বা সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত ছিলেন তাহাদেরকে স্ব স্ব পদে পূনর্বহাল করা হইবে এবং জনসংহতি সমিতির সদস্য ও তাহাদের পরিবারের সদস্যদের যোগ্যতা অনুসারে চাকুরীতে নিয়োগ করা হইবে। এই ক্ষেত্রে তাহাদের বয়স শিথিল সংক্রান্ত সরকারী নীতিমালা অনুসরণ করা হইবে।
চ) জনসংহতি সমিতির সদস্যদের কুটির শিল্প ও ফলের বাগান প্রভৃতি আত্মকর্মসংস্থানমূলক কাজের সহায়তার জন্য সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ গ্রহণের অগ্রাধিকার প্রদান করা হইবে।
ছ) জনসংহতি সমিতির সদস্যগণের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হইবে এবং তাহাদের বৈদেশিক বোর্ড ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হইতে প্রাপ্ত সার্টিফিকেট বৈধ বলিয়া গণ্য করা হইবে।
বর্ণিত সুবিধাজনক দফাগুলোকে বলা যায় বিদ্রোহের পুরস্কার। প্রতিজন বিদ্রোহীর অস্ত্র জমাদান মূল্য ৫০ হাজার হিসাবে প্রায় নয় কোটি টাকা, শরণার্থী প্রত্যাবর্তনমূলক অনুদান প্রায় আঠারো কোটি টাকা। পুনর্বাসন রেশন দান প্রায় বিশ কোটি টাকা, ব্যাংক ঋণ মওকুফ প্রায় শত কোটি টাকা, চাকুরী ফেরৎ বাবদ বকেয়া পাওনা প্রায় দশ কোটি টাকা। অস্ত্র জমাদান ও প্রত্যাবাসনে নেতাদের রাজি করানোর ভেট প্রায় দশ কোটি টাকা, পরিষদীয় পদ ও সুবিধা দান বাবদ এ যাবৎ প্রদত্ত প্রায় দশ কোটি টাকা ইত্যাদি মিলে এই বিদ্রোহ পুরস্কারের পরিমাণ হয় প্রায় দু’শতাধিক কোটি টাকা। বিদ্রোহের এই দায় ও মূল্যমান অত্যন্ত বিরাট।
তবু বিদ্রোহ দমিত হলে, সান্ত¡না পাওয়া যেতো। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে : নেতারা দাবী দাওয়া আর অভিযোগের বহর বাড়িয়ে চলেছেন। বলছেন : সরকার প্রতারণা করছে। শান্তি চুক্তি একটি কাগুজে চুক্তি, তা যথাযথ বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তদুপরি সরকার পক্ষ চুক্তি বিরোধী উপজাতীয়দের সংগঠিত করছেন ও মদদ দিচ্ছেন। বিপরীতে আমাদের কাছে খবর হলো : একদল লড়াকু শান্তিবাহিনী, সশস্ত্রভাবে আত্মগোপন করে আছে। তারাই এখন বিরোধী নির্মূলে সক্রিয়। তারা চাঁদাবাজি, রাহাজানি, সন্ত্রাস, মুক্তিপণ আদায়, জিম্মিকরণ, গুম, খুন, বাজারহাট বাড়ি-ঘর লুটও পোড়ানো ইত্যাদি দুষ্কর্মে লিপ্ত। তাদের প্রতিরোধে নিয়োজিত আছে নিগৃহীত উপজাতীয়রা। আমাদের এ কথারই প্রতিধ্বনি করেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র সচিব। তিনি সম্প্রতি দিল্লীতে দু’দেশের স্বরাষ্ট্র সংক্রান্ত বৈঠকে অভিযোগ করেছেন ঃ ত্রিপুরা ও জিরোরামে এখনো একদল শান্তিবাহিনী আত্মগোপন করে আছে। সম্প্রতি তিনি বিবিসিতে এই অভিযোগটির পুনরোল্লেখ করেছেন এবং তা বাংলাদেশের জাতীয় পত্রিকায় গত ৬ মে ২০০০ তারিখে প্রচারিত হয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশ অতি উচ্চ মূল্যে বৈরী পোষণ করছে, যারা দমেনি বরং ছোবল দিতে উদ্যত। শান্তি স্থাপনের ইচ্ছা তাদের থাকলে, বৈরী আচরণ ও দুষ্কর্মের সাথে গোপনেও সংশ্রব রাখতো না, এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রচনায় সরকারকে মদদ যোগাতো। এখন আরামে খায় দায় পায় ও নিরাপদ আশ্রয়ে থাকে, তবে বৈরীতা ঠিকই চালিয়ে যায়।
সম্প্রতি জাতীয় পত্রিকায় প্রচারিত খবর হলো : মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে পার্বত্য নেতৃমহলের বৈঠক হবে। আমাদের অনুরোধ : সরকার তাদের প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা ও তার বিপরীতে পরিচালিত বৈরীতার ফিরিস্তি দিয়ে দৃঢ়তার সাথে বলুন : এ সব দুষ্কর্ম ও বিরোধিতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এ সবের সাথে প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধার কোন সঙ্গতি নেই। জনসংহতি সমিতি খোদ শান্তি চুক্তি ভঙ্গ করছে। এটি এক তরফা সরকারের পক্ষে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়, উপরন্তু এটি আগাগোড়া সংবিধান ও জাতীয় স্বার্থ বিরোধী।
এই পরিপ্রেক্ষিতে পরামর্শ হলো ঃ জেলা পরিষদের নির্বাচন দিন। জনপ্রতিনিধিত্বমূলক নেতৃত্বকে ক্ষমতাসীন করুন এবং নির্বাচনকে করুন বিশুদ্ধ গণতান্ত্রিক। কোন পদ ও আসন কারো জন্য সংরক্ষিত আর কোটা পদ্ধতি বহাল রাখা, আসলে বৈষম্যমূলক আর অগণতান্ত্রিক। জনগণের ইচ্ছাই হওয়া চাই পদ ও আসন লাভের চাবিকাঠি। এই সাথে আঞ্চলিক পরিষদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভাবা দরকার।
সংরক্ষণ বাদ ও অগ্রাধিকার ব্যবস্থা বঞ্চিতদের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টির কারণ এবং এটা সাম্প্রদায়িতার জন্মসুত্র ও বটে। বিপরীতে অবাধ গণতান্ত্রিক নির্বাচন ও প্রতিনিধিত্ব এবং সম অধিকার দান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অবলম্বন, আর সাম্প্রদায়িক পরিবেশ উন্নয়নের সহায়ক। অবাধ গণতান্ত্রিক নির্বাচনে প্রার্থীরা আপন পর সকলের মন জয়ে চেষ্টিত হবেন। তাতে ধর্ম জাত পাত সমাজ সম্প্রদায় গত ভেদাভেদ এবং অসাম্প্রদায়ীকতার চর্চা জোরদার হয়। ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক পরিবেশ রচনার এই ক্ষমতা চর্চা হবে শান্তির সহায়ক। পার্বত্য অঞ্চলে এই গণতান্ত্রিক ধারা প্রবর্তন জরুরী।

(তাং-শুক্রবার, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪০৭ বাংলা, ১৯ মে ২০০০ খ্রি./ দৈনিক গিরিদর্পণ, রাঙ্গামাটি)।
‘দফা নং-ঘ/১৭। (ক) সরকার পক্ষ ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে চুক্তি সই ও সম্পাদনের পর এবং জনসংহতি সমিতির সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরত আসার সাথে সাথে, সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিডিআর) ও স্থায়ী সেনানিবাস (তিন জেলা সদরে তিনটি এবং আলীকদম, রুমা ও দীঘিনালা) ব্যতীত সামরিক বাহিনী আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সকল অস্থায়ী ক্যাম্প পার্বত্য চট্টগ্রাম হইতে পর্যায়ক্রমে স্থায়ী নিবাসে ফেরত নেওয়া হইবে এবং এই লক্ষ্যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হইবে। আইন-শৃঙ্খলা অবনতির ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এবং এই জাতীয় অন্যান্য কাজে দেশে সকল এলাকার ন্যায় প্রয়োজনীয় যথাযথ আইন ও বিধি অনুসরণে বেসামরিক প্রশাসনের কর্তৃত্বাধীন সেনা বাহিনীকে নিয়োগ করা যাইবে। এই ক্ষেত্রে প্রয়োজন বা সময় অনুযায়ী সহায়তা লাভের উদ্দেশ্যে আঞ্চলিক পরিষদ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করিতে পারিবেন।
বলা যায়, বিদ্রোহী অস্ত্রবাজ শান্তিবাহিনী সদস্যরা এখনো পরিপূর্ণভাবে প্রত্যাবর্তিত ও বিলুপ্ত হয়নি এবং তাদের একাংশ সশস্ত্রভাবে আত্মগোপন করে আছে। ইউপিডিএফ হলো তাদেরই দলছুট লোক। সুতরাং জনসংহতি সমিতি ও তার অস্ত্রবাজদের পুরিপূর্ণভাবে স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তন এখনো অসম্পূর্ণ আছে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র সচিবের সম্প্রতি উত্থাপিত অভিযোগই তার প্রমাণ। আমাদের সন্দেহ জনসংহতি সমিতির প্রধান জ্যোতিরিন্দ্র বোধি প্রিয় লারমার কিছু নেতৃস্থানীয় শিষ্য গোপন সন্ত্রাসী আস্তানা থেকে, ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকা বিদ্রোহী শান্তিবাহিনী সদস্যদের পরিচালনা করছেন। যাদের মূল কলকাঠি সন্তু বাবুর হাতে। তদুপরি এখানকার দৈনন্দিন খবর হলো : চুক্তি পক্ষের ও বিপক্ষের দুই উপজাতীয় বাহিনী, সশস্ত্রভাবে পরস্পরের বিরুদ্ধে হানাহানিতে লিপ্ত। এছাড়া চাঁদাবাজি মুক্তিপণ আদায়, জিম্মিকরণ, বাজারহাট বাড়িঘর পোড়ান রাহাজানি ও লুটপাট তো লেগেই আছে। সীমান্তে ও ভিতরে বিদেশী বিদ্রোহীদের আনাগোনা ও বিদ্যমান। এমতাবস্থায় সেনাবাহিনী, আনছার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রত্যাহার বা স্থায়ী নিবাসে তুলে আনার বর্ণিত পরিবেশই নেই। স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের থাকা চুক্তির দ্বারা সমর্থিত । বরং আগে জনসংহতি সমিতিকে আন্তরিকতা ও সততার পরিচয় দিয়ে চুক্তি মত, নিজ সশস্ত্র সদস্যদের পরিপূর্ণভাবে সমর্পিত করতে হবে এবং তারাই এটা নিশ্চিত করবেন যে, আর কোন শান্তিবাহিনী সদস্য কোথাও লোকায়িত নেই এবং যারা অস্ত্রবাজিতে লিপ্ত তারা সংগঠন বহির্ভুত ভিন্ন লোক। এই ঘোষণার পর চুক্তি অনুযায়ী সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে জনসংহতি সমিতি নিজে সহযোগী হয়ে, সরকার ও বাহিনীগুলোকে সদদ দিয়ে যাবে। এই নির্মূল অভিযান সমাপ্ত হওয়ার পরই, সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে । ঐ সময় সীমা এখনো উপস্থিত হয়নি। সুতরাং সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের সময়সীমা নির্ধারণ এখনো সুদূর পরাহত। চুক্তিটাই তাদের থাকার পক্ষে যুক্তি। এতদসত্ত্বেও কিছু ক্যাম্প প্রত্যাহার, সরকারের অতি উৎসাহী সদিচ্ছামূলক কাজ। চুক্তি অনুযায়ী যার কোন বাধ্যবাধকতা নেই।
চুক্তি অনুযায়ী সন্তু বাবুরা এ কথা প্রমাণে বাধ্য যে, শান্তিবাহিনীর সব সদস্য আত্মসমর্পণ করেছে, আর কেউ অবশিষ্ট নেই, এবং বর্তমানে চলমান সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও অন্যান্য দুষ্কর্ম অন্যদের সৃষ্টি। তারপরও সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা ও শান্তি পুনঃস্থাপন না হওয়া পর্যন্ত সেনাসহ সরকারী বাহিনীগুলো প্রত্যাহারে খোদ এই চুক্তিটাই বাধা। সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা ও শান্তি পুনঃস্থাপনের পরই সেনাসহ সরকারী বাহিনীগুলো প্রত্যাহারের সময়কাল উপস্থিত হবে, এ কথাই উপরোক্ত দফার বক্তব্য। সুতরাং এই অভিযোগ নিরর্থক যে, সরকার চুক্তি অনুযায়ী স্বীয় বাহিনী প্রত্যাহার করছে না। বরং পাল্টা অভিযোগ করা যায় যে, জনসংহতি সমিতি স্বীয় লুকিয়ে থাকা শান্তিবাহিনীর মাধ্যমে দখল প্রতিষ্ঠা ও কর্তৃত্ব কায়েমের কুমতলবেই সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের দাবীতে সোচ্চার।
দফা নং ঘ-১৭ (খ) সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীর ক্যাম্প ও সেনা নিবাস কর্তৃক পরিত্যক্ত জায়গা জমি, প্রকৃত মালিকের নিকট অথবা পার্বত্য জেলা পরিষদের নিকট হস্তান্তর করা হইবে।
এটাও স্ববিরোধী বক্তব্য। পার্বত্য অঞ্চলের জায়গা জমিতে সরকার ও জেলা পরিষদের কার কতটুকু এখতিয়ার এবং নিজ নিজ সীমানাভুক্ত অঞ্চলের পরিমাণ কার কতো তা নির্ধারণ ছাড়াই অবাধ কর্তৃত্বের বাগাড়ম্বর করা অনুচিত। জনসংহতি সমিতি স্বীয় ৫ দফা দাবী নামার ২/৫-ক ও ২/৫-খতে ব্যাখ্যা সুত্রে বর্ণনা করেছে? আসলে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মিলিত এখতিয়ারে গোটা পার্বত্য চট্টগ্রাম নয়, কেবল ৪৪৬ বর্গমাইল জায়গাই অন্তর্ভুক্ত আছে। বাকি সবই সরকারী ভূমি। আমার হিসাবে, জেলা পরিষদাধীন অঞ্চল ৪৪০.০৪ বর্গমাইল মাত্র, এবং অবশিষ্ট ৪৬৫২.৯৬ বর্গমাইল এলাকা হলো সরকারী। জনসংহতি সমিতি বর্ণিত দাবীনামায় ঐ জায়গা জমি ভাগের ও সীমানা নির্ধারণেরও দাবী করেছে। চুক্তিতেও তা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাহলে সীমানা ও এলাকা নির্ধারণ ছাড়া কী করে সিদ্ধান্ত হয় যে ক্যাম্পভুক্ত জায়গা জমি কোন ব্যক্তি মালিকের অথবা জেলা পরিষদের প্রাপ্য? যদি জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণযোগ্য অঞ্চল পরিমাণে ৪৪৬ অথবা ৪৪০,০৪ বর্গমাইলই হবে, তাহলে এই সীমালঙ্গন করে গোটা পাবর্ত্য চট্টগ্রামে কি করে তা বিস্তৃত হয়? এই বিভ্রান্তির সুরাহা আগে হওয়া দরকার, এবং তার একমাত্র উপায় হলো : জনসংহতি সমিতির দাবী ও চুক্তি অনুযায়ী জরিপের মাধ্যমে ৪৪৬ বা ৪৪০.০৪ বর্গমাইলের পরিষদীয় অঞ্চল চিহ্নিত করে, তিন পার্বত্য জেলার প্রাপ্য অংশ মত ভাগ করে দেয়া। যখন পরিষদই স্থাপিত এবং আইন বিধি বিধান ও নীতি প্রবর্তিত হয়েছে, তখন প্রাপ্য এলাকা নিয়ন্ত্রণের সাধটিও মিটিয়ে দেয়া উচিত। পরিষ্কার হওয়া ভাল, গোটা পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিষদীয় এলাকা নয়। উপরোক্ত (ক) দফায় এটাও পরিষ্কার যে, সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনী নিয়োগে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সে ক্ষমতা অবাধ। এখানে জনসংহতি সমিতিকে উমেদারের মর্যাদায় নামিয়ে আনা হয়েছে। সরকারী বাহিনী নিয়োগ বা প্রত্যাহারে পার্বত্য জেলা পরিষদ আঞ্চলিক পরিষদ ও জনসংহতি সমিতির কোন কর্তৃত্ব থাকা স্বীকার্য্য নয়।
[চলবে]

 

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • ঐতিহ্যবাহী গ্রাম আজিজপুর
  • সিলেটের গণভোটের অগ্রনায়ক মৌলানা ছহুল উসমানী
  • বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আরেক অধ্যায়
  • কোচিংনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার প্রভাব
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • ঐতিহাসিক নানকার আন্দোলন
  • গৌড়-বঙ্গে মুসলিম বিজয়
  • শত বছরের ঐতিহ্যের ধারক দাউদিয়া মাদরাসা
  • পৃথিবীর প্রাচীন লাইব্রেরিগুলো
  • আল হামরা : ইতিহাসের অনন্য কীর্তি
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • বাঙালির ইতিহাসে দুঃখের দিন
  • ঐতিহ্যবাহী নকশিকাঁথা
  • সাংবাদিকদের কল্যাণে সিলেট প্রেসক্লাব
  • প্রাকৃতিক মমিতে নির্মমতার ইতিহাস
  • গৌড়-বঙ্গে মুসলিম বিজয় ও সুফি-সাধকদের কথা
  • ঐতিহ্যের তাঁত শিল্প
  • সিলেট প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে ভাবনা
  • খাপড়া ওয়ার্ড ট্রাজেডি
  • জাদুঘরে হরফের ফোয়ারা
  • Developed by: Sparkle IT