উপ সম্পাদকীয় খোলা জানালা

মাটির ক্ষয়রোধে গাছ গাছড়ার অবদান

লোকমান হেকিম প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-০৬-২০১৯ ইং ০০:২৮:৫১ | সংবাদটি ৮২ বার পঠিত

অতি সাম্প্রতিক তথ্য মতে, বিশ্বে প্রতি মিনিটে গড়ে ২১ হেক্টর বনভূমি উজাড় হচ্ছে। প্রতি বছর প্রায় ১৪.৬ মিলিয়ন হেক্টর বনাঞ্চল ধ্বংস হচ্ছে, যা আয়তনে বাংলাদেশের প্রায় সমান। এই জন্য আমাদের প্রাণের পৃথিবীকে বাঁচাতে হলে প্রত্যেকে কমপক্ষে একটি ফলন, একটি বনজ ও একটি ওষুধি গাছ লাগিয়ে দেশে ৫১ কোটি বৃক্ষরোপণ অনায়াসে সম্ভব। আমাদের দেশে জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। তাই মাটি প্রকৃতির এক অমূল্য সম্পদ । মানুষ মাটি থেকে শস্য উৎপাদন করে তা খেয়ে বেঁচে আছে। পানি, মানুষসহ জীবজন্তু, গাছপালার অবিচ্ছেদ্য অংশ। মাটির উপরের ১৫-২০ সে:মি: স্তর শস্য উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মাটির বিভিন্নভাবে অবক্ষয় হচ্ছে । মাটির ক্ষয় বলতে শস্য উৎপাদনের ক্ষমতা হ্রাস পাওয়াকে বুঝায়।
ভূমি অবক্ষয়ের প্রধান উপাদানগুলো হলো-পানি, নদীর তীর ভাঙ্গন, বায়ু, বন্যা, সেচের পানি, মৃত্তিকার লবণাক্ততা, ক্ষারতা, অম্লতা, মরুকরণ ও বৃক্ষ নিধন। মাটির ক্ষয়রোধে বৃক্ষের অবদান অতি গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে প্রয়োজনীয় বৃক্ষ আছে, সেখানে মাটি ক্ষয়রোধ করে, ভূমির উর্বরতা বাড়ায়, লবণাক্ততা, ক্ষারতা, অম্লতা কমায়। তাছাড়া বৃক্ষ প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন-বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদী ভাঙ্গন, ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং পরিবেশকে নির্মল করে মানুষ ও জীবজন্তুর বসবাসযোগ্য ও খাদ্যের যোগান দেয়। বৃক্ষ রোপণ করে দেশে বৃক্ষ সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তোলা আমাদের জাতীয় কর্তব্য। উদ্ভিদ তার বিস্তৃত মূলতন্ত্রের সাহায্যে মাটির ক্ষয়রোধ করে। মাটির ক্ষয় হলে একদিকে উর্বর ভূমি বিরান ভূমিতে পরিণত হয়, অপরদিকে ক্ষয়িত মাটি নিকটবর্তী জলাশয় ভরাট করে তার পানি ধারণ ক্ষমতা হ্রাস করে, পরিণামে ঘন ঘন বন্যার সৃষ্টি হয়।
উদ্ভিদ মাটির ক্ষয়রোধ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদ্ভিদ বিশেষ করে ঘন অরণ্য বৃষ্টির পরিমাণ বাড়িয়ে মাটির নিচে পানির স্তরকে অপেক্ষাকৃত উপরে রাখতে মূল্যবান অবদান রাখে। মৃত উদ্ভিদ এবং তাদের অংশ বিশেষ পচে গিয়ে মাটির উর্বরতা বাড়ায় ও ক্ষয়রোধ করে। উদ্ভিদ নানাভাবে মাটির গঠন ঠিক রাখে এবং এর ক্ষয়রোধ করে থাকে। বৃক্ষ রোপণ করলে বায়ু প্রবাহ ধূলিকণা একস্থান থেকে অন্যস্থানে উড়িয়ে নেয়া কমিয়ে দেয়, পানি প্রবাহ কমিয়ে ভূমি ক্ষয়রোধ করে। এছাড়া বৃষ্টি, তাপ, শৈত্য প্রবাহের কারণে মাটির যে ক্ষয় হয় তা রোধ কের। দেশের উন্নয়ন বিশেষ করে কৃষি ও বৃক্ষ সম্পদ এবং পরিবেশ রক্ষার জন্য বৃক্ষ রোপণ অপরিহার্য । তাই সকলের সমবেত প্রচেষ্টায় অধিক বৃক্ষ রোপণ ও সংরক্ষণের মাধ্যমে দেশের সার্বিক প্রাকৃতিক পরিবেশ সুস্থ ও নির্মল রাখতে সাহায্য করবে।
দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ ভূমিতে বন ও গাছপালা থাকা একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের এ জনবহুল দেশে বনভূমির পরিমাণ মোট আয়তনের শতকরা প্রায় ১৭ ভাগ যা প্রয়োজনের চেয়ে অনেক কম। বৃক্ষ রোপণের স্থান সঠিক হওয়া প্রয়োজন। যেখানে যে ধরনের গাছ সুষ্ঠুভাবে জন্মানোর উপযোগী, সেখানে সেই ধরনের গাছ লাগানো উচিত। উপকূলীয় অঞ্চলে খেঁজুর, তাল, নারিকেল, সুপারি, কুল, সফেদা, শিরিষ, নিম, মান্দার, বাবলা, শিশু, ঝাউ গাছ লাগানো উত্তম। নদীনালার পাশে শিশু, কড়ই, বাবলা, খেঁজুর, তাল, ঝাউ, বাঁশ, বেত, রেইন্ট্রি ও শিমুল গাছ রোপণ করা ভাল। উঁচু অনাবাদী, পতিত জায়গায় তাল, খেঁজুর, আম, কাঁঠাল ও শাল গাছ লাগানো ভালো। গ্রামাঞ্চলে রাস্তাঘাট ও হাটবাজারে বট, রেইন্ট্রি, মেহগনি, শিরিষ, নিম, বাবলা, ইপিল-ইপিল, খেঁজুর, তেঁতুল ও তাল গাছ লাগানো উচিত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কনকচুঁড়া, কৃষ্ণচুঁড়া, ঝাউ, সেগুন, নারিকেল, পেঁয়ারা, নিম, মেহগনি এবং বাড়ির আশেপাশে আম, জাম, কাঁঠাল, নারিকেল, সুপারী, খেঁজুর, লিচু, কুল, বেলসহ বিভিন্ন ফলের গাছ ও কৃষ্ণচুঁড়াসহ ফুলের গাছ রোপণ করা উত্তম । বাড়ির উত্তর পশ্চিম কোনে বাঁশঝাড়, পশ্চিম- উত্তরে বড় গাছ ও পূর্ব-দক্ষিণে ছোট জাতীয় বৃক্ষ রোপণ করে আমাদের অতীব গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ মাটির ক্ষয়রোধ করে উর্বরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
লেখক : কলামিস্ট।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • কিশোর-কিশোরীদের হালচাল
  • বলকানস : ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্র
  • সন্তানের প্রতি অভিভাবকের দায়িত্ব
  • শিক্ষার হার এবং কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ
  • শিক্ষার রাজ্যে এক বিস্ময়
  • ডেঙ্গু ও বানভাসি মানুষ
  • শিল্প-সাহিত্যে ১৫ আগস্ট
  • ইমাম-মুয়াজ্জিন সার্ভিস রোলস-এর প্রয়োজনীয়তা
  • বাঙালির মুক্তিসনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা
  • শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে পরিবেশ
  • তিনি কোন দলের নয়, সমগ্র বাঙালির
  • ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম অধ্যায়
  • বঙ্গবন্ধুর ফিরে আসা
  • শিক্ষা ও নৈতিকতা
  • কুরবানির সূচনা
  • কুরবানি ও আমাদের করণীয়
  • উন্নয়নের মানবিকতা বনাম গতানুগতিকতা
  • বিশ্বাসের উপলব্ধি
  • নিরাপত্তাহীনতায় নারী
  • স্বাগতম ঈদুল আযহা
  • Developed by: Sparkle IT