সম্পাদকীয়

ট্রেন দুর্ঘটনা

প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০৬-২০১৯ ইং ০০:৪৮:৫২ | সংবাদটি ১০৯ বার পঠিত


ট্রেন দুর্ঘটনা হচ্ছে চলতি সপ্তাহে সবচেয়ে বড় ঘটনা সিলেট তথা সারা দেশে। গত রোববার মধ্যরাতে মৌলভী বাজারের বরমচালে ঘটে এই দুর্ঘটনা। ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন উপবন এক্সপ্রেস একটি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজ ভেঙে গেলে দুর্ঘটনাকবলিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন চারজন যাত্রী। আহত হয়েছেন দু’শর বেশি যাত্রী। অনেকেই আছেন চিকিৎসাধীন। ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি ছেড়ে যায় সিলেট রেল স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে। বরমচাল স্টেশনের কাছে নন্দনগর ইসলামাবাদ নামক স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু অতিক্রমকালে ট্রেনটি দুর্ঘটনায় পড়ে। এসময় ট্রেনের পেছনের পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে খালে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার খবরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। ঘটনা স্থলে হতাহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন স্থানীয় এলাকাবাসী। ঘটনার পর সিলেটের সাথে সারা দেশের সরাসরি রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে অবশ্য যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হয়েছে। ঘটনার কারণ উদঘাটনে গঠন করা হয়েছে দুটি তদন্ত কমিটি।
প্রতিদিন সড়কপথে দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে। এটা একটা ‘নির্মম নিয়মে’ পরিণত হয়েছে। তবে রেলপথে দুর্ঘটনার হার কম। মানুষ এখনও ট্রেনকে মোটামুটি ‘নিরাপদ’ পরিবহন হিসেবে মনে করে। তাই এই দুর্ঘটনা নিয়ে এতো আলোচনা। ঘটনার ব্যাপারে গঠিত হয়েছে তদন্ত কমিটি। এটি একটি অতি স্বাভাবিক বিষয়। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সরকার এক বা একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করবে এবং এই কমিটি তদন্তের রিপোর্টও দেবে। এই পর্যন্তই। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট বা তাদের কোনো পরামর্শই কাজে আসেনা। মানে এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্টদের কোন মাথাব্যথা থাকেনা। এই দুর্ঘটনার ক্ষেতেও যে তেমনটি ঘটবে না সেই নিশ্চয়তা নেই। এছাড়া তদন্ত কমিটি ছাড়াও খালি চোখেই ধরা পড়বে দুর্ঘটনার কারণগুলো। আর সেটা এক কথায়ই বলা যায় ঝুঁকিপূর্ণ সেতু, ঝুঁকিপূর্ণ রেল লাইন আর অতিরিক্ত যাত্রীর জন্যই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে রেল সেতুগুলো। শতবর্ষ আগে নির্মিত রেল লাইন ও সেতুগুলোর মেয়াদ অতিক্রম করেছে অনেক আগে। এই সব ব্যাপারে লেখালেখি হয় পত্রপত্রিকায়। জানা গেছে, বরমচালে দুর্ঘটনাকবলিত সেতুটির ব্যাপারে ইতোপূর্বে কর্তৃপক্ষের কাছে যাত্রীরা অবগত করেছেন, কিন্তু তারপরেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
আসল কথা হলো, যাত্রীদের জীবন নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের কোন দায় দায়িত্ব নেই। সরকারি সম্পদ এই রেলওয়ে নিয়েও তাদের কোনো গরজ নেই। বিভিন্ন স্থানে রেলের জমি, কিংবা পরিত্যক্ত মূল্যবান স্লিপারসহ যন্ত্রাংশ চুরি হচ্ছে, বেদখল হচ্ছে। এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট রেল কর্মকর্তা কর্মচারী উদাসীন। বরং [দুর্নীতিবাজ রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী এই লুটপাটে জড়িত। অপরদিকে বছরের পর বছর বাংলাদেশ রেলওয়ে লোকসান দিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, রেলওয়ের উন্নয়নে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণের খবর শোনা যাচ্ছে দীর্ঘ দিন ধরে। কিন্তু তার কোনো বাস্তব রূপ নেই। আমরা চাই বরমচালে ট্রেন দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদ্ঘাটিত হোক এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হোক। নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবহন হিসেবে রেলের সুনাম ফিরে আসুক।]

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT